প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৮
নিভাদি

ফেসবুক একটি বিশাল ক্যানভাস। যার যা খুশি লিখে যেতে পারেন। বিষয়টা অনেক খোলামেলা। ভালো-খারাপ দুটো দিকই আছে। মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের ভালো, খারাপ লাগাগুলোও তেমন।
তবে কিছু মানুষ শুধু একজন, দুজন নন, অনেক মানুষের জন্য নক্ষত্রের মতো হয়ে ওঠেন। এটা তাঁরা সচেতনভাবে করেন বা কোনো প্রাপ্তির জন্য করেন না। করেন তাঁরা তাঁদের শৈশব, কৈশোরে এমন মানুষের সাহচর্যে দিনযাপন করেছেন এবং তাঁদের চারপাশের পরিবেশ এমন ছিল, যার জন্য পৃথিবীর সবকিছুতেই তাঁরা ভালো কিছু আস্বাদন করেন। তাঁদের মনে হিংসা আসে কি না, আমি জানি না।
তবে সবাই তো ছাপার অক্ষরে প্রশংসিত হতে পারেন না, হবেনও না। তবে যাঁরা তাঁদের সংস্পর্শে আসি, তাঁদের কোথাও থেকে যান তাঁরা। লিখেই নয়তো কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ হলাম। তৃপ্তি সাহা আমার চেনা সেই আলোকময় উষ্ণতা।
‘নিভাদি’ আমি তাঁকে এই নামে ডাকি। যদিও তিনি আমাকে এখনো পর্যন্ত ম্যাডাম ডাকেন। শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়েছি প্রায় বছরখানেক পেরিয়ে গেল। তাঁর পারিবারিক পরিচিতি আমি দেব না। পরিবার অবশ্যই একটা বড় বিষয়। কিন্তু মানুষ শুধু পরিবার নয়, নিজেকে বড় করতে জানতে হয়, শিখতে হয়, চর্চা করতে হয় প্রতিনিয়ত। আপনার কাজ, আপনার আচরণ নির্ধারণ করে দেবে আসলে আপনি কী!
আমার সঙ্গে তাঁর পরিচয় তাঁর ছোট ছেলে সৌহার্দ্যকে পড়াতে গিয়ে। তারপর আমরা একসঙ্গে প্রতি রোজায় একদিন তিনি আমার বাসার সবার জন্য এবং আমার পড়ানো ১০/১২ জন বাচ্চার জন্য ইফতার তৈরি করে আনতেন। আমরা সবাই একসঙ্গে ইফতার করতাম। তাঁর হাতের মেথি দিয়ে লাউ আমি আজও বাসায় করি এবং এটা আমি তাঁকে দাঁড় করিয়ে রান্না করা শিখছি। ভালোবাসার কোনো বয়স হয় না। ভালো মানুষের কোনো উপমা লাগে না।
আমার জানামতে, চাঁদপুর কলেজে তিনি থাকাকালীন ছাত্রছাত্রীদের বই পড়ার বিষয়ে একটা আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। আর মানুষের পাশে কীভাবে নিভৃতে বটগাছ হয়ে থাকতে হবে, তা তিনি পুরোপুরি সফলভাবে আয়োজন করে সুসম্পন্ন করতে জানেন। পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ সবার পাশে আছেন। তাই পৃথিবীর গল্প এখনো আলোকময় উষ্ণতা নিয়ে কথা বলে।
প্রশংসা জীবিত মানুষের জন্য। মরে গেলে প্রশংসা, গালি কিছুতেই কিছু যাবে-আসবে না। মানুষের পাশে মানুষ হয়ে ক’জন দাঁড়াতে পারেন? ক’জন মানুষ প্রাণভরে আরেকজনের সাফল্য উদ্যাপন করতে জানেন! আমি অধম বলিয়া উত্তম কাউকে ভালোবাসা অপরাধ নয়... সুস্থ থাকুন, আনন্দে থাকুন। এমনই থাকুন।







