প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০০:১৩
ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়
সৃষ্টির শুরু
প্রসঙ্গ : নূরে মোহাম্মদী (দঃ) সৃষ্টি রহস্য ও প্রকৃতি

ইয়া নাবী সালামু আলাইকা, ইয়া রাসূল সালামু আলাইকা। রাহমাতুল্লিল আলামিন নবীজির শুভাগমনের মাস পবিত্র মাহে রবিউল আউয়াল আজ থেকে শুরু। রবিউল আউয়াল অর্থ হচ্ছে প্রথম বসন্ত। নবীর আগমন সৃষ্টি জগতের জন্য সত্যিই বসন্ত। এই মাসজুড়ে ‘নূর নবী’ গ্রন্থ থেকে প্রতিদিন চঁাদপুর কণ্ঠে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করা হবে। যেখানে নূরনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এঁর সৃষ্টি থেকে এই ধরায় শুভাগমন পর্যন্ত ধারাবাহিকতা দালিলিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। যেটির গ্রন্থাকার প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন, ঢাকা মোহাম্মদপুর কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ, বাংলা বুখারী শরীফের প্রণেতা, বিশিষ্ট গবেষক, বিসিএস কর্মকর্তা অধ্যক্ষ হাফেজ এমএ জলিল (রঃ)।
অনাদি ও অনন্ত সত্ত্বা আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যখন একা ও অপ্রকাশিত ছিলেন, তখন তঁার আত্মপ্রকাশের সাধ ও ইচ্ছা জাগরিত হলো। তখন তিনি একক সৃষ্টি হিসেবে নবী করিম [সাঃ] -এঁর নূর মোবারক পয়দা করলেন এবং নাম রাখলেন মুহাম্মদ [সাঃ] (কানজুদ্দাকায়েক -ইমাম গাযালী)। সেই নূরে মোহাম্মদী’র সৃষ্টি রহস্য ও প্রকৃতি সম্পর্কে স্বয়ং নবী করিম [সাঃ] মারফু মুত্তাসিল হাদীসের মাধ্যমে পরিষ্কার ব্যাখ্যা করে গেছেন। উক্ত হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে রাসূলে পাক [সাঃ] -এঁর একনিষ্ঠ খাদেম ও মদিনার ৬নং সাহাবী হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক। উক্ত হাদিসটি প্রথম সংকলিত হয়েছে “মোসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক” নামক হাদীস গ্রন্থে। মোহাদ্দেস আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন ইমাম বোখারী (রঃ) এঁর দাদা ওস্তাদ এবং ইমাম মালেক (রঃ)-এঁর শাগরিদ। পরবর্তীতে উক্ত গ্রন্থ হতে অনেক হাদীস বিশারদ নিজ নিজ গ্রন্থে হাদীসখানা সংকলিত করেছেন। যেমন : ইমাম কাস্তুলানী (রঃ) তঁার রচিত নবী করিম [সাঃ] -এঁর জীবনী গ্রন্থ ’মাওয়াহেবে লাদুনিয়া’য় উক্ত হাদিসখানা সংকলন করেছেন। মিশরের আল্লামা ইউসূফ নাবহানী তঁার রচিত ‘আনওয়ারে মুহাম্মদীয়া’ নামক আরবি গ্রন্থেও উক্ত হাদিসখানা উল্লেখ করেছেন। কিতাবখানা নবী করিম [সাঃ]-এঁর সৃষ্টি সম্পর্কে স্ববিখ্যাত এবং বিস্তারিত। তাই বিজ্ঞ পাঠকের সামনে উক্ত হাদীসখানা অনুবাদসহ তুলে ধরছি। এ রেওয়ায়েত ছাড়া অন্যান্য রেওয়ায়েত অসম্পূর্ণ, অস্পষ্ট ও খণ্ডিত এবং উসূলে হাদীসের মাপকাঠিতে অনির্ভরযোগ্য বা মারজুহ্।
হাদীসখানা নিম্নরূপঃ
অর্থ : ইমাম আব্দুর রাজ্জাক (ইমাম বোখারীর দাদা ওস্তাদ) মোয়াম্মার হতে, তিনি ইবনে মুনকাদার হতে, তিনি হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রঃ) হতে বর্ণনা করেছেন :-
“হযরত জাবের (রাঃ) বলেন-আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহ’র রাসূল [সাঃ]! আপনার উপর আমার পিতা-মাতা উৎসর্গীত হোক, আল্লাহ তা’আলা সর্বপ্রথম কোন বস্তু সৃষ্টি করেছেন? তদুত্তরে নবী করিম [সাঃ] বললেন- ”হে জাবের, আল্লাহ তা’আলা সর্বপ্রথম সমস্ত বস্তুর পূর্বে তঁার ’নিজ নূর হতে’ তোমার নবীর নূর পয়দা করেছেন। তারপর আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছানুযায়ী ঐ নূর (লা-মকানে) পরিভ্রমণ করতে থাকে। কেননা ঐ সময় না ছিল লাওহে-মাহফুয, না ছিল কলম, না ছিল বেহেস্ত, না ছিল দোযখ, না ছিল ফেরেশতা, না ছিল আকাশ, না ছিল পৃথিবী, না ছিল সূর্য, না ছিল চন্দ্র, না ছিল জ্বীনজাতি, না ছিল মানবজাতি। অতঃপর যখন আল্লাহ তা’আলা অন্যান্য বস্তু সৃষ্টি করার মনস্থ করলেন, তখন আমার ঐ নূরকে চারভাগে বিভক্ত করে প্রথমভাগ দিয়ে কলম, দ্বিতীয়ভাগ দিয়ে লাওহে-মাহফুয এবং তৃতীয়ভাগ দিয়ে আরশ সৃষ্টি করলেন। অবশিষ্ট এক ভাগকে আবার চার ভাগে বিভক্ত করে প্রথমভাগ দিয়ে আরশ বহনকারী ফেরেশতা, দ্বিতীয় অংশ দিয়ে কুরসি এবং তৃতীয় অংশ দিয়ে অন্যান্য ফেরেশতা সৃষ্টি করলেন। দ্বিতীয় চার ভাগের এক ভাগকে আবার চার ভাগে বিভক্ত করে প্রথমভাগ দিয়ে আকাশ, দ্বিতীয়ভাগ দিয়ে জমিন (পৃথিবী) এবং তৃতীয়ভাগ দিয়ে বেহেস্ত ও দোযখ সৃষ্টি করলেন। তৃতীয়বার অবশিষ্ট একভাগকে পুনরায় চার ভাগে বিভক্ত করে প্রথমভাগ দিয়ে মু’মিনদের নয়নের নূর - (অন্তর্দৃষ্টি), দ্বিতীয়ভাগ দিয়ে মু’মিনদের কলবের নূর - তথা আল্লাহর মা’রেফাত এবং তৃতীয়ভাগ দিয়ে মু’মিনদের মহব্বতের নূর-তথা তাওহীদী কলেমা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ সৃষ্টি করেছেন।” (২৫৬ ভাগের এক ভাগ থেকে অন্যান্য সৃষ্টিজগত পয়দা করলেন)। - মাওয়াহেবে লাদুনিয়া ও মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক - (আল জুয্উল মাফকুদ অংশ, হাদিস নং ১৮, বৈরুত থেকে প্রকাশি ২০০১)।
ব্যাখ্যা-উক্ত হাদীসে বর্ণিত ‘মিন্নূরিহী’ বা তঁার ‘নিজ নূর’ হতে শব্দটির ব্যাখ্যায় মোল্লা আলী ক্বারী (রঃ) মিশকাত শরীফে লিখেছেন- ”আয়-মিন লামআতে নূরিহী’ -অর্থাৎ- আল্লাহ তা’আলা আপন জাতি নূরের জ্যোতি দিয়ে নবীজীর নূর পয়দা করেছেন।
মুজাদ্দেদ আলফেসানী (রঃ) মাকতুবাত শরীফের ৩য় খন্ডে ১০০ নম্বর মাকতুবে বলেছেন, ”আল্লাহ তা’আলা তঁাকে স্বীয় খাস নূর দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।” (চলবে)







