শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্লা সেলিম!

প্রকাশ : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫২

ওযুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে গেলেই তো হয়

অনলাইন ডেস্ক
ওযুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বারে গেলেই তো হয়

চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক বলেছেন, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এখন থেকে কোনো ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি প্রবেশ করতে পারবে না। হাসপাতালের চিকিৎসকদের সাথে ওনাদের কোনো কাজ নেই। রোগীদের ওষুধ লিখে দিতে পড়াশোনা করেই চিকিৎসক হয়েছেন। আর চিকিৎসকদের কাছে অনুরোধ করে তিনি বলেন, আপনারা সঠিক সময়ে হাসপাতালে আসবেন। দায়িত্ব পালনের সময়ে বাইরের কোনো চিকিৎসা কেন্দ্রের রোগী দেখবেন না। বুধবার (১ এপ্রিল ২০২৬) বেলা ১১টায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল মিলনায়তনে সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফারকৃত রোগীদের প্যাথলজি পরীক্ষায় প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিশেষ ছাড় সংক্রান্ত অবহিতকরণ ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের সামনে কোনো দালাল কিংবা ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের দেখতে চাই না। গণমাধ্যমে যারা কাজ করেন তাদের প্রতি অনুরোধ : দালালদের দেখলে ছবি তুলে পুলিশের কাছে দেবেন। পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। আমাকেও জানাতে পারেন। সংসদ সদস্য আরো বলেন, চাঁদপুর শহরে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ লোকের বসবাস। যে কারণে হাসপাতালে যে পরিমাণ চিকিৎসক ও জনবল রয়েছে, তাতে সেবা দিতে গিয়ে অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। এরপরও আপনারা আন্তরিক হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন, সে জন্যে আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক চাঁদপুরের সিভিল সার্জনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে সাধারণ রোগীদের জন্যে ৩০ ভাগ ছাড়ে পরীক্ষা করার সুযোগ খুবই ভালো উদ্যোগ। এই ধারাবাহিকতা চালু রাখতে হবে। তাহলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। মতবিনিময় সভায় যোগদানের আগে তিনি হাসপাতালে আসা রোগীদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহাবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডা. নূর আলম দীন। উল্লেখ্য, এ ৩০ ভাগ ছাড়ের কাজটি এমপি মহোদয়ের অনুরোধ বা অভিপ্রায়ে সিভিল সার্জন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের সাথে বসে সমঝোতার ভিত্তিতে করে দিয়েছেন। চাঁদপুর সদর আসনের এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে মনোযোগী, তৎপর ও সর্বোচ্চ আন্তরিক বলে মনে হচ্ছে। এ হাসপাতালে আউটডোর সার্ভিস প্রদানে সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত চিকিৎসকদের নিজ নিজ চেম্বারে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও অধিকাংশজনই যথাসময়ে আসেন না এবং যান না। রেল জংশনে দেরিতে আসা ট্রেন যেমন আগে চলে যায়, তেমনি এ হাসপাতালে দেরিতে এসে আগে চলে যান অনেক চিকিৎসকই। এরা সংগঠনের জোরে বলীয়ান থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দেশনা মানতে চান না। নিজেদেরকে অনেক ক্ষমতাধর মনে করেন। এরা দালালের মাধ্যমে আসা বাইরের রোগী হাসপাতালে বসে ফি নিয়ে দেখেন এবং ব্যবস্থাপত্র লেখেন। এটা নিঃসন্দেহে গর্হিত কাজ। অথচ বাইরে আউটডোরের টিকেট কাটা রোগীরা অপেক্ষার যন্ত্রণায় ভোগেন। এর মধ্যে উপর্যুপরি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা যদি হাসপাতালের চিকিৎসকদের চেম্বারে ঢুকে কোম্পানির প্রোডাক্ট নিয়ে কথা বলেন ও উপহার বিনিময়ে সময় নষ্ট করেন, তাহলে অপেক্ষমান রোগীরা বিরক্ত হন ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অথচ ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে সাক্ষাৎকারের কাজটি হাসপাতালের প্রতিজন সরকারি চিকিৎসক তাদের প্রাইভেট চেম্বারে সারতে পারেন। কিন্তু সেটা তারা করেন না। তাদের কেউ কেউ হাসপাতালের চেম্বারে দালাল ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বেশি সময় দিয়ে বাকি স্বল্প সময়ে আউটডোরের রোগীদের অবহেলা ও উপেক্ষার চোখে দেখেন। এমনকি তাড়াহুড়ো করে ভুল চিকিৎসা দেন। এমনভাবে ব্যবস্থাপত্র লেখেন যে তার পাঠোদ্ধার করা সাধারণ চোখে সম্ভব হয় না। চাঁদপুর সদরের এমপি মহোদয় উপরোল্লিখিত হাসপাতালের রোগীদের এ কষ্ট সংবেদনশীলতার সাথে হৃদয়ঙ্গম করেছেন বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে। সেজন্যে তিনি অকপটে ‘হাসপাতালে চিকিৎসকদের সাথে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কোনো কাজ নেই’ কথাটি বলতে পেরেছেন। তাঁর এ কথাটা বাস্তবতায় পর্যবসিত হোক সেটা ভুক্তভোগী ও সচেতন ব্যক্তিমাত্রই প্রত্যাশা করেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়