বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১১:০৬

চাঁদ দেখে রোজা, ঈদ, কুরবানিসহ যাবতীয় ইসলামি পর্ব পালন করাই শরীয়তের নির্দেশ

কাজী আবু জাফর মো. হেলাল উদ্দীন
চাঁদ দেখে রোজা, ঈদ, কুরবানিসহ যাবতীয় ইসলামি পর্ব পালন করাই শরীয়তের নির্দেশ

২য় হিজরীতে রোজার ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হওয়ার সময় আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআন মাজিদে বলেন,” ফামাং শাহিদা মিংকুমুশ শাহরা ফালইয়াছুমহু” অর্থাৎ যে বা যারা রমযান মাস পাবে সে যেন রোজা রাখে, (সূরা বাকারাহ-১৮৫ নং আয়াত)। নিজ দেশে চাঁদই যদি উদিত নাহয় তবে সে মাস পেল কিভাবে?

এখানে বিবেচ্য বিষয় হলো ‘মাং শাহিদা’ শব্দটি। মান শব্দটি আরবি ভাষার রীতি অনুযায়ী আংশিক বা কতেক লোককে বোঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়, সমগ্র বিশ্ববাসীকে নয়। পবিত্র কুরআন মাজিদের এই নির্দেশেই বোঝা যায় সমগ্র বিশ্ববাসী একসাথে চাঁদ দেখবে না। তাই সমগ্র বিশ্ববাসী এক সাথে রোজাও রাখবে না। ইহাই আল্লাহর নির্দেশ। সুতরাং সমগ্র বিশ্ববাসীর একইদিনে রোজা, ঈদ করতে বলার মানে হলো আল্লাহর বিধানের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা। যা কোনো মুমিন-মুসলমান করতে পারে না। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিস শরীফে বলেছেন, “সূ-মূ লিরু’ইয়াতিহী ওয়াফতিরু লিরু’ইয়াতিহী”। অর্থাৎ (হে মুসলমানগণ) তোমরা চাঁদ দেখে রোজা আরম্ভ কর এবং চাঁদ দেখেই রোজা ভঙ্গ কর(ঈদ পালন কর)। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন ঐশী জ্ঞানের ধারক-বাহক। সকল বিজ্ঞানীদের অতি উর্ধ্বে ছিলো নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জ্ঞান। আল্লাহ পাক কর্তৃক দেয়া অসীম জ্ঞানের দ্বারা নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বুঝতে পেরেছিলেন যে, সারাবিশ্বে চাঁদ একসাথে দেখা যাবে না। তাই তিনি নির্দেশ দিয়েছেন তোমরা যখনই যেখানে চাঁদ দেখবে তখনই সেখানে রোজা রাখবে। অধিকন্তু নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মদিনা রাষ্ট্রের সভাপতি বা প্রেসিডেন্ট ও মদিনা শরীফের সর্বোচ্চ বিচারালয়ের প্রধান ফায়সালা দাতা বা বিচারক। চাঁদের বিষয়ে ফায়সালা দিতে গিয়ে তিনি সর্বোচ্চ বিচারক হিসেবে ইসলামী কায়দায় স্বচক্ষে দেখার সাক্ষ্য গ্রহণ করেছিলেন, শোনার স্বাক্ষ নয়। যা অনেক বিশুদ্ধ হাদিস শরীফ দ্বারা প্রমাণিত। এতে প্রমাণিত হয় যে, উক্ত চাঁদ দেখার বিষয়টি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রের ওপর বর্তায়, কোনো বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা, বা সংগঠনের ওপর বর্তায় না। যেমনিভাবে হানাফী মাযহাবের প্রায় নয়শত বৎসর পূর্বের বিখ্যাত ফিকহের কিতাব ‘বাদায়ে উস সানায়ে ফি তারতীবিস শারায়ে’ নামক কিতাবের (২য় খন্ডে) লিখা আছে যে, “(মুসলিম) রাষ্ট্র প্রধান যখন রোজা রাখবে বা রাখার হুকুম দেবেন তখন সকলে রোজা রাখবে। আবার রাষ্ট্র প্রধান যখন রোজা ভঙ্গ করবে বা ভঙ্গ করার হুকুম দেবেন তখনই সকলে রোজা ভঙ্গ করবে। যদিওবা কোনো ব্যক্তির রোজা ত্রিশের অধিক হয়”। অনুরূপভাবে হাদীস শরীফে নবিজী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো ইরশাদ করেন যে, যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে শাবান মাসকে ৩০ দিন পূর্ণ কর। অত্র হাদিসের ইশারতুন নস (ইঙ্গিত) দ্বারাও বোঝা যায় যে, এই হাদীসে স্থানীয় ভাবে চাঁদ দেখে রোজা রাখার কথা বলা হয়েছে। কারণ সমগ্র বিশ্বে একই সময়ে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে না।

হযরত কুরাইব রাদীয়াল্লাহু আনহু এর বর্ণিত হাদিসের প্রেক্ষিতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদীয়াল্লাহু আনহু সিরিয়া বাসী এবং হযরত আমীরে মুয়াবিয়া রাদীয়াল্লাহু এর চাঁদ দেখার বর্ণনা মদিনা শরীফের জন্য গ্রহণ করেননি এবং তিনি বলেন যে, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাঁদ দেখেই রোজা রাখতে বলেছেন। তাই তিনি মদিনা শরীফের উদিত হওয়ার চাদরে তারিখের ওপর আমল করেছেন এবং বলেছেন নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে এইভাবে আমল করতে নির্দেশ দিয়েছেন (মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ শরীফ)। উল্লেখ্য যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদীয়াল্লাহু আনহু ছিলেন পবিত্র কুরআন মাজিদের শ্রেষ্ঠ মুফাসসির এবং ফকীহ সাহাবী। তাই উনার বক্তব্য সকল মুজতাহিদগণের বক্তব্যের ওপর প্রাধান্য পাবে। উপরোল্লিখিত ৪জন সিহা সিত্তার ইমাম এই বিষয়ের শিরোনাম তাদের নিজ নিজ কিতাবে এই ভাবে লিখেছেন যে, “প্রত্যেকে নিজ দেশের আকাশে নতুন চাঁদ দেখে রোজা রাখবে ও ঈদ পালন করবে,অন্যভাবে নয়”।

ইমাম মুসলিম রাহেমাহুল্লাহ এভাবে শিরোনাম লিখেন যে,” প্রত্যেক শহরের জন্য তাদের পৃথক চন্দ্র দর্শন প্রযোজ্য হবে।নিশচয়ই যদি কোন একটি শহরে চন্দ্র দর্শন সাব্যস্ত হয় তা ঐ শহরের দূরবর্তী শহরের ক্ষেত্রে চন্দ্র দর্শন প্রমাণিত হবেনা।” মুসলিম শরীফ ১ম খন্ড, ৩৪৮ পৃষ্ঠা।

ইসলামী বিধান মোতাবেক যখন রাষ্ট্র সমূহের সরকার, সীমান্ত চৌকি, বিচার ব্যবস্থা ও সেনাবাহিনী পৃথক হয় তখন রাষ্ট্র পৃথক বলে গণ্য হয়। সেক্ষেত্রে এক দেশের হুকুম অন্য দেশে প্রযোজ্য হয় না। যেমন ইসলামের ফরায়েজ আইন বিধানে বলা আছে নিজ দেশ ত্যাগ করলে সন্তান পিতার মিরাসের (ওয়ারিশ সত্ত্ব) অধিকারী হয় না। তাই এক দেশের চাঁদ দেখার বিধান ও অন্য দেশের নাগরিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

চন্দ্রের উদয়স্থলের ভিন্নতা গণ্য করার ইসলামি বিধান :- হানাফি মাযহাবের বিধান মোতাবেক চন্দ্রের একেকটি উদস্থলের দৈর্ঘ্য হলো ১ মাসের রাস্তা সমপরিমান দূরত্ব। যা আধুনিক পরিমাপে হয় প্রায় ৯৫০ কিলোমিটার। সুতরাং এই ৯৫০ কিলোমিটার এর মধ্যে যে সকল দেশে চাঁদ দেখবে তারাই শুধু রোজা রাখবে। আজ থেকে প্রায় পৌনে ১১শত বছর আগে রচিত হানাফী মাযহাবের অন্য একটি বিখ্যাত কিতাব ‘ফাতাওয়া আন নাওয়াযেল’ নামক কিতাবে ইমাম আবুল লাইস সমরকন্দি রাহেমাহুল্লাহ উক্ত কিতাবের ১৪৬পৃষ্ঠায় লিখেন যে, “এক শহরের অধিবাসীগণ চাঁদ দেখে ৩০ দিন রোজা পূর্ণ করল এবং অন্য শহরের অধিবাসীগণ চাঁদ দেখে ২৯ দিন রোজা পূর্ণ করল। সুতরাং দ্বিতীয় শহরের অধীবাসীদের ওপর একদিনের রোজা কাযা আদায় করা ওয়াজিব হবে, যদি চন্দ্রের উদয়স্থলের ভিন্নতা না থাকে। কিন্তু যদি চন্দ্রের উদয়স্থলের ভিন্নতা থাকে তবে উক্ত একদিনের রোজা কাযা আদায় করতে হবে না”।

অন্য দিকে যারা বলেন বিশ্বের যে কোথাও চাঁদ দেখে গেলে সকল পৃথিবীবাসীর ওপর রোজা রাখা ফরজ হয়ে যাবে। উক্ত বিষয়ে ইমাম সৈয়দ মোহাম্মদ আমীন ইবনে আবেদীন শামী রাহেমাহুল্লাহ তার রচিত ‘মিনহাতুল খালেক ফি শরহে কানযুদ দাকায়েক’ নামক কিতাবে এইভাবে সমাধান দিয়েছেন যে, “উক্ত বিধানটি একটি উদস্থলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। গোটা পৃথিবীর জন্য নয়”। আমাদের দেশে যে সকল ওলামায়ে কেরামগণ পৃথিবীর ১ম চন্দ্র দর্শনে সকলের ওপর রোজা ফরজ হবে মর্মে বক্তব্য প্রদান করেন তারাও কিন্তু ১ম চন্দ্র দর্শনের ভিত্তিতে রোজা না রেখে সৌদি আরবের চন্দ্র দর্শনের ওপর আমল করে স্ববিরোধী কাজ করে থাকেন। এটা তাদের দাবীর অসারতার শামীল।তাই তাদের বক্তব্য পরিত্যাজ্য।

উদাহরণস্বরূপ আমাদের দেশে বিশ্বব্যাপী একইদিনে রোজা ও ঈদ পালন করার মতের প্রবক্তাগণ ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ সনে সৌদি আরবের ৯ এপ্রিল ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে চাঁদ দেখার প্রেক্ষিতে ১০এ এপ্রিল বুধবার বাংলাদেশে তারা জন বিচ্ছিন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন করে গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী ইবাদতটাকে দেশবাসীর নিকট হাসির খোরাক বানিয়েছে । অথচ সে বছর ১ম চন্দ্র দেখা গিয়েছে নাইজেরিয়া, নাইজার ও মালিতে ৮ এপ্রিল তারিখে। আমাদের দেশে একইদিনের প্রবক্তাগণ কিন্তু উক্ত চাঁদ দেখাকে গণ্য করেনি এবং ৯ এপ্রিল তারিখে তাদের দাবী মোতাবেক ঈদও উদযাপন করেনী। তাই তাদের বক্তব্য মূল্যহীন। এমনকি মুসলিম জনসাধারনের মধ্য ফিতনা-ফাসাদ ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর নামান্তর। তাই বাংলাদেশের মুসলমানদের বলবো ধর্মীয় গোঁড়ামী নয় বরং প্রকৃত ইসলামী বিধান ও হাজার বছর যাবৎ চর্চিত মুসলিম ঐতিহ্যকে কলংকিত করবেননা।

বিশ্বময় একইদিনের রোজা ঈদের প্রবক্তাগণের খোঁড়া যুক্তি হলো মুসলিম শরীফে বর্ণিত হাদীস, নবীজি বলেছেন, আরাফাহর দিনের রোজার ব্যপারে আমি আল্লাহপাকের দরবারে প্রত্যাশা করি যে উক্ত রোজার দ্বারা আল্লাহপাক পূর্ববর্তী ও পরবর্তী দুই বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। এই হাদীসের উপর ভিত্তি করে তারা বলেন যে, এটা হুবহু সৌদি আরবের আরাফাহর দিন হতে হবে। নাহয় উক্ত সওয়াব পাওয়া যাবেনা।

এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বলতে হয়, যে মহান আল্লাহপাকের ইচ্ছায় সমগ্র বিশ্বে নতুন চাঁদ তিনদিন ধরে বিভিন্ন দেশে উদিত হয়, তিনি কি চাঁদ দেখার ভিন্নতার কারণে তিনদিন ইয়াওমে আরাফাহর সওয়াব দিতে অক্ষম? নাকি দেবেন না মর্মে কোন বর্ণনা তারা দেখাতে পারবে? নাকি তাদের ভাষ্যে আল্লাহপাক গরীব (নাউযুবিল্লাহ)? নাকি এটা শুধুই মুসলমানদের মধ্যে ফিতনা আর ফাটল তৈরী করার অপচেষ্টা মাত্র?

তাদের প্রতি আমাদের সবিনয়ে জিজ্ঞাসা, নবীজি বলেছেন “ফরজ নামাযের পর ও শেষ রাতে দোয়া কবুল হয়”। এখন বলুন এই দুটি সময় সমগ্র বিশ্বে একই টাইমে হয়ে থাকে? নাকি ভিন্ন ভিন্ন সময়ে? এখানে কি আল্লাহপাক ভিন্ন ভিন্ন সময়ে এই ফজিলতটা তাঁর বান্দাহকে দেবেন না? সুতরাং আসুন ফিতনা ফাসাদ ও উম্মতের মধ্যে বিভক্তি তৈরি না করে আমরা, শাশ্বত ইসলামী বিধানের অনুসারী হয়ে প্রকৃত ইসলামী বিধান মোতাবেক রোজা-ঈদ ও পর্ব সমূহ প্রতিপালন করে শান্তির পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করি।

অধিকন্তু সূর্য উদিত হয় পূর্ব দিক হতে, চন্দ্র উদিত হয় পশ্চিম দিক হতে। সৌর বর্ষ হয় ৩৬৫ দিনে পক্ষান্তরে চান্দ্র বর্ষ হয় ৩৫৫ দিনে। দুটোর সময়ের ব্যবধান মহাপ্রভূ কর্তৃক নির্ধারিত চিরন্তন সত্য। যার সামাঞ্জস্য বিধান করা বান্দার পক্ষ কোন দিনই সম্ভব হবে না। এই প্রক্ষিতে বলতে হয় পশ্চিম আফ্রিকার নাইজেরিয়া বা নাইজারে যখন নব চন্দ্র উদিত হবে ঠিক তখন অস্ট্রেলিয়া মহাদেশের দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত নিউজিল্যান্ডে রাত পেরিয়ে, সকাল গড়িয়ে দুপরের দিকে চলমান। এখন বলুন আফ্রিকার দেখায় নিউজিল্যান্ডে কিভাবে রোজা শুরু করতে পারবে? আমেরিকার কথা নাহয় বাদই দিলাম।

ইসলামী শরীয়তে স্বাক্ষ্যদানের সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। আর এতে বলা আছে যে, নিজে প্রত্যক্ষ দেখেই স্বাক্ষ্য দিতে হয়। শোনার দ্বারা বা কোন মিডিয়া নির্ভর স্বাক্ষ্য দেয়া ইসলাম সম্মত নয়। এক রাষ্ট্রের স্বাক্ষ্য অন্য রাষ্ট্র রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহন করলে হতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে নয়। সুতরাং আসুন আমরা মুসলিম দেশ হিসেবে শরীয়ত সম্মত রাষ্ট্রীয় ঘোষণাকে মাথাপেতে নিয়ে দেশ জাতী ও সমাজকে বিশৃংখলার হাত থেকে বাঁচিয়ে উম্মাহর শক্তি ও সংহতি বজায় রাখি। আল্লাহুম্মা আমীন!

লেখক : কাজী আবু জাফর মো. হেলাল উদ্দীন। অধ্যক্ষ, দারুল উলুম আহসানিয়া কামিল মাদরাসা। নারিন্দা, ঢাকা, ও সদস্য সচিব, বাংলাদেশ হেলাল কমিটি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়