শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১০:৩০

তিনি অনেক ক্ষমতাধর (!) বটে-

অনলাইন ডেস্ক
তিনি অনেক ক্ষমতাধর (!) বটে-

ফরিদগঞ্জের গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত কলেজে এইচএসসি ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও এ সংক্রান্ত সংবাদের তথ্য সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনার তদন্তে গিয়ে অপদস্থ হয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) কলেজ মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনায় অভিযুক্ত কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করার এখতিয়ার নেই বলে তদন্তে অংশ নেননি।ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের তথ্য পেয়ে গত ৩ মার্চ ২০২৬ (মঙ্গলবার) গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত কলেজে সংবাদ সংগ্রহে যান দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার ফরিদগঞ্জ উপজেলা সংবাদদাতা শাকিল হাসান এবং মোহনা টেলিভিশনের চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি মো. ফাহাদ। সংবাদ সংগ্রহকালে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া সাংবাদিকদের সাথে অশালীন আচরণ করেন এবং সাকিল হাসানকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ বিষয়ে কলেজের সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়াকে লিখিতভাবে অবহিত করলে তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামালকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন। তদন্ত কর্মকর্তা গত ৯ মার্চ তদন্তের দিন ধার্য করেন এবং তদন্তের জন্যে কলেজে উপস্থিত হন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তার পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে তিনি তদন্তে অনুপস্থিত থাকেন। ১২ মার্চ ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) পুনরায় তদন্তের তারিখ ধার্য করা হয়। নির্ধারিত সময়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং অভিযোগকারী তদন্তস্থলে উপস্থিত হন। তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে গেলে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া তদন্ত কর্মকর্তার তদন্তের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এক প্রকার অপদস্থ করেন। মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডিসি পদমর্যাদার অধিকারী। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হলে সমমর্যাদার অধিকারী হতে হবে।” এ সময় তিনি তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিলে মানহানি মামলার হুমকি দেন। তদন্তে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে লিখিত বক্তব্য জানতে চাইলে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া কলেজ প্যাডে লিখিত বক্তব্য দিয়ে তদন্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেননি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজ সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া বলেন, “আমি বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে অবহিত হয়েছি। শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বিষয়টি তদন্ত করতে পারেন। যেহেতু মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া তদন্তে অসহযোগিতা করেছেন, আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থাগ্রহণের জন্যে বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকতাদের কাছে প্রতিবেদন প্রেরণ করবো।” গতকাল চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত উপরোল্লিখিত সংবাদটি পড়ে গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়াকে বাংলাদেশের পদমর্যাদা ক্রম (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) সম্পর্কে সম্যক অবহিত একজন ক্ষমতাধর (!) ব্যক্তি বলেই মনে হলো। তিনি কি এ তথ্য নিশ্চিত করতে পারবেন যে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ কি একই মর্যাদার? তিনি কে কতো টাকা বেতন পান সেটা দিয়েই কি সব বিবেচনা করেন? তাহলে অনেক সরকারি-বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় যারা চুক্তিভিত্তিক কয়েক লক্ষ টাকা বেতন পান, তাদেরকে দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, এমপি, সচিবের চেয়েও বেশি মর্যাদাবান ও ক্ষমতাধর ভাববেন? তিনি নিজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদকে জেলা প্রশাসক তথা ডিসি পদমর্যাদার দাবি করলেন কি শুধু বেতন বিবেচনায়? কাজের পরিধি ও ক্ষমতার আওতা বিবেচনায় জেলা প্রশাসক পদটি যে কতোটুকু উঁচুতে সেটা এ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও পাঠকদের জ্ঞাতার্থে নিচে উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছি--জেলা প্রশাসক বাংলাদেশের জেলার প্রধান প্রশাসনিক ও ভূমি রাজস্ব কর্মকর্তা। তিনি একাধারে জেলা প্রশাসক, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা কালেক্টর ও ডেপুটি কমিশনার। তিনি জেলাতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি। তিনি সরাসরি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগকারী ক্ষমতাপ্রাপ্ত জেলার একমাত্র কর্মকর্তা। তাঁর সরকারি বাড়ি, একাধিক গাড়ি, নিরাপত্তাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যতোটুকু আছে, সেটা জেলার অন্য কোনো সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা/ব্যক্তির নেই। এমন একজন ক্ষমতাধর ও মর্যাদাবান সরকারি কর্মকর্তা (ডিসি)-এর সাথে যদি মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া একটি বেসরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হয়েই পদমর্যাদায় সমতুল্য ভেবে অলৌকিক ক্ষমতাবলে আস্ফালন করেন, তাহলে তাকে কী ভাবা যেতে পারে এবং একের পর এক তার অসংলগ্ন কথাবার্তায় গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজের ভাবমূর্তি কোন্ পর্যায়ে চলে যেতে পারে সেটা নিয়ে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের খুবই দ্রুত ভাবা প্রয়োজন ও জরুরি বলে আমরা মনে করছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়