শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:২৪

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান তৎপরতা বাদ দিয়ে কেবল সচেতনতা?

অনলাইন ডেস্ক
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান তৎপরতা বাদ দিয়ে কেবল সচেতনতা?

বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। দেশে অবৈধ মাদকের প্রবাহ রোধ, ঔষধ ও অন্যান্য শিল্পে ব্যবহার্য বৈধ মাদকের শুল্ক আদায় সাপেক্ষে আমদানি, পরিবহন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, মাদকদ্রব্যের সঠিক পরীক্ষণ, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিতকরণ, মাদকদ্রব্যের কুফল সম্পর্কে ব্যাপক গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে নিরোধ কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন, জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে নিবিড় কর্ম-সম্পর্ক তৈরির মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান দায়িত্ব।--উইকিপিডিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সম্পর্কে এমন বিবরণই তুলে ধরা হয়েছে।

ইংরেজিতে ডিপার্টমেন্ট অব নারকোটিক্স কন্ট্রোল বাংলাদেশ, সংক্ষেপে ডিএনসি হচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংক্ষিপ্ত নাম। চাঁদপুরে এই ডিএনসি বিশেষ করে সহকারী পরিচালক পদে মিজানুর রহমানের যোগদানের পর থেকে প্রধান দায়িত্বের বিরাট অংশ বাদ দিয়ে অনেকটা গণসচেতনতামূলক কাজই করে চলছে। খেলাধুলা সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, সভা-অনুষ্ঠান করেই কাটছে তাদের দিনকাল। তারা আসন্ন গণভোট উপলক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষেও করছে সভা। চাঁদপুর কণ্ঠে প্রকাশিত একটি সংবাদের বিবরণীতে লেখা হয় যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকল্পে গণভোটের বিষয়াবলি সম্পর্কে চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মিলনায়তনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ সভার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও সভায় কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও কুফল সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম আব্দুল মাননান। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁসক-এর উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান মিয়া, ইসলামিক শিক্ষার বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সস্পাদক মো. খালেদ ইকবাল, ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মোহাম্মদ আলী আজগর ফকির, পদার্থবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. আলমগীর বাহার প্রমুখ। কলেজের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সভায় গণভোট সম্পর্কে সরকারের বার্তা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জানান এবং তার বিষয়াবলি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান। পরে মাদকের কুফল সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সভাপতির বক্তব্যে ডিএনসি চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক বলেন, একটা পরিবারে সম্পদ ও সম্মান যতোই থাকুক যদি সেই পরিবারের একজন মাদকাসক্ত থাকে তাহলে সেই পরিবার ধ্বংসের জন্যে আর কিছুর প্রয়োজন নেই। ওই পরিবারের আর কোনো দাম থাকে না। তিনি আরো বলেন, ধর্মীয় দৃষ্টিতেও মাদক হারাম। মাদকের বিষয়ে কোনো সময়ই ছাড় দিবেন না। সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে মাদক থেকে বিরত থাকতে হবে। আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্যে বলেন, যে পরিবারের একজন মাদকাসক্ত থাকে, সে পরিবার যে কতোটুকু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তা বুঝতে হলে সেই পরিবারকে দেখলেই বুঝতে পারবেন। একটা জাতিকে ধ্বংস করতে যুব সমাজকে মাদকাসক্ত করলেই যথেষ্ট। মাদক নিয়ন্ত্রণে পরিবার বা অভিভাবক বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা আরো বলেন, যারা মাদক বিক্রি করে দেখবেন তাদের সন্তানকে কিন্তু মাদক থেকে দূরে রাখে। তারাও জানে এ মাদকের কুফলটা কী এবং মাদকাসক্ত হলে তার সন্তান কেমন হবে। তাই অভিভাবকরা নিজের সন্তানের দিকে নজর দেবেন। আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কী করছে খবর নিবেন। সন্তানকে মাদক থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের খুব বেশি সচেতন থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকল্পে গণভোটের বিষয়াবলি ও মাদকের কুফল ডকুমেন্টারির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। এছাড়া নাটিকা ও প্রতিবেদনও প্রদর্শন করা হয়।

নিঃসন্দেহে গণভোট ও মাদক নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)-এর উদ্যোগে চাঁদপুর সরকারি কলেজে অনুষ্ঠিত সভাটি ছিলো সময়োপযোগী কাজ। এটিকে গণমাধ্যমে প্রকাশের জন্যে ডিএনসির তৎপরতাও ছিলো লক্ষণীয়। কিন্তু মাসের পর মাস ধরে তারা মাঠ পর্যায়ে মাদকের বিরুদ্ধে কী কী অভিযান চালালো, সেটি তুলে ধরতে তাদের কোনো খবর দেখা যাচ্ছে না গণমাধ্যমে। চাঁদপুরে গণমাধ্যমকর্মীদের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের নূতন নেতৃত্বকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর খবরও এসেছে গণমাধ্যমে। কিন্তু খবর আসছে না তাদের মাদকবিরোধী কার্যক্রমের। বিষয়টি কম-বেশি কৌতূহল উদ্দীপক। গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক ও নিবিড় যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও ডিএনসি তাদের মাদকবিরোধী দৃশ্যমান কার্যক্রম গণমাধ্যমে তুলে ধরছে না কেন? এর রহস্য কী, কারণ কী? ডিএনসি কি জনবল সঙ্কট না মনোবল সঙ্কটে, না ওপেন সিক্রেট অন্য কারণে মাদক প্রতিরোধের কঠোর কার্যক্রমে বিরত থেকে গণসচেতনতা সৃষ্টির সহজ কাজটিই কেবল করছে? আসন্ন নির্বাচনের কারণে সেনাবাহিনী ও পুলিশের মাদকবিরোধী তৎপরতা যখন প্রায় বন্ধ, তখন ডিএনসির সক্রিয়তা ছিলো প্রত্যাশিত। তারা এ তৎপরতায় কাগুজে সক্রিয়তা হয়তো দেখাতে পারবে, তবে বাস্তবে নয়। কারণ, গণমাধ্যমে ডিএনসি চাঁদপুরের এ সংক্রান্ত খবর নেই বললেই চলে। কেন নেই, সেটার জবাব দেবে কে? বলা দরকার, সংশ্লিষ্ট সকলের নীরবতায় চাঁদপুর জেলার মাদক পরিস্থিতি ভয়াবহ, যেটি অবশ্যই উদ্বেগজনক।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়