প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৭
সম্পূর্ণ চাঁদপুরে চিত্রায়িত আগামী ঈদের বিশেষ নাটক ‘হোসনেয়ারা’
প্রচারিত হবে একুশে টিভিতে

নদীঘেরা শহর চাঁদপুরে শুটিং হওয়া একটি টেলিভিশন নাটক আসছে ঈদে দর্শকদের সামনে। চাঁদপুরের বড় স্টেশন, মাছঘাট, নদীর পাড় ও পুরাণবাজারের বাস্তব লোকেশনে নির্মিত নাটক ‘হোসনেয়ারা’ প্রচারিত হবে আগামী ঈদুল ফিতরে একুশে টিভিতে। পুরো নাটকটি চাঁদপুরে ধারণ করায় শহরের জীবন, ভাষা ও পরিবেশ গল্পের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই মিশে গেছে।
নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন এস এম মনির। ‘নাটাই ড্রামা’ প্রযোজিত এই নাটকে অভিনয় করেছেন সাগর মির্জা, মাহদীয়া কামাল ইউশা, শরীফ চৌধুরী, দিলরুবা তুশি ও স্বাধীন। সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন সুজন মাহমুদ। নদী, ঘাট ও মাছের আড়তের ব্যস্ততা ক্যামেরায় ধরতে তিনি ব্যবহার করেছেন বাস্তব আলো ও লোকেশনের নিজস্ব আবহ।
‘হোসনেয়ারা’ মূলত চাঁদপুরের জীবনযাত্রার গল্প। মাছের আড়ত, নৌকার ঘাট, দুপুরের খাবারের বাটি হাতে এক মেয়ের দৌড়ঝাঁপ-- সবকিছুই খুব চেনা। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে হোসনেয়ারা। সে মাছের আড়তের মহাজন ও রেল কর্মকর্তাদের জন্যে খাবার পৌঁছে দেয়। মা সেফালিকে নিয়ে
পুরাণবাজার ঘাট এলাকায় তার বসবাস। সীমিত আয়ের সংসার আর প্রতিদিনের সংগ্রামের মাঝেই তার জীবন এগোয়।
এই সাধারণ জীবনের ভেতরেই আসে প্রেম, ভয় আর অনিশ্চয়তা। গোলাম রসুলের ছেলে কবিরের সঙ্গে হোসনেয়ারার সম্পর্ক গড়ে উঠে নীরবে। কিন্তু মহাজনের কুনজর, সামাজিক বাস্তবতা আর মায়ের লুকিয়ে রাখা অতীত সেই সম্পর্ককে বারবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। প্রেগনেন্সির আশঙ্কা, সত্য-মিথ্যার দোলাচল এবং নদীর পাড়ে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘটনা নাটকের গল্পকে অন্য মাত্রা দেয়।
নাট্যকার ও পরিচালক এস এম মনির জানান, নাটক লেখার সময় থেকেই তার ইচ্ছে ছিলো চাঁদপুরের প্রকৃত লোকেশনে শুটিং করার। মাছের আড়ত, নদী আর এখানকার মানুষের জীবন গল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শুটিং চলাকালে স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা ও আন্তরিকতা তাকে মুগ্ধ করেছে বলেও জানান তিনি। তার মতে, প্রতিটি চরিত্রই গল্পের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ এবং শিল্পীরা নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
ঈদের বিশেষ আয়োজন হিসেবে একুশে টিভিতে প্রচারিত হতে যাওয়া ‘হোসনেয়ারা’ চাঁদপুরের নদীঘেরা জীবনের একটি বাস্তব চিত্র। চাঁদপুরের মানুষ ও পরিবেশকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দেবে বলে মনে করছেন তিনি।







