প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৪২
বাবুরহাট বাজারে চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় ছয়দিনেও কোনো সুরাহা হয়নি

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল ২০২৬) দিবাগত রাতে অর্থাৎ শুক্রবারে চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট মাছ বাজার সংলগ্ন মেসার্স সিটি ট্রেডার্সে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়। চোরেরা প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এরই প্রেক্ষিতে গত ৪ এপ্রিল ২০২৬ চাঁদপুর সদর থানায় মামলা করেন সিটি ট্রেডার্সের মালিক আলহাজ্ব মমিনুল ইসলাম মমিন। মামলা নং ৩৩, ০৪/০৪/২৬, পেনাল কোড ১৮৬০, চাঁদপুর সদর থানা। এই মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা চাঁদপুর সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর মো. কামাল উদ্দিন। এই চুরির ঘটনা পাঁচ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও পুলিশ কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। পুলিশের ভাষ্যমতে, তাদের অভিযান চলছে এবং তারা দ্রুততম সময়ে আসামি ধরে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান করবে বলে জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বাবুরহাট বাজার কমিটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি মো. মাসুদ পালোয়ানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আজ (বুধবার) এই চুরির ঘটনার বিষয়ে সদর থানার ওসি ফয়েজ আহমেদের সাথে দুপুরে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন সন্দেহভাজন দুজনকে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং পুলিশ দ্রুততম সময়ে এ ঘটনার রহস্য উদঘাটন করবে। এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা (সাব ইন্সপেক্টর) মো. কামাল উদ্দিন মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে জানান, এই ঘটনার তদন্তে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছি এবং আমাদের অভিযান চলমান আছে। দ্রুততম সময়ে এর একটি সমাধান আমরা করবো।
এদিকে সিটি ট্রেডার্সের মালিক আলহাজ্ব মমিনুল ইসলাম মমিন অসুস্থতাজনিত কারণে বর্তমানে ঢাকা বারডেম হাসপাতালে অবস্থান করছেন এবং তার ডায়ালাইসিস চলছে। তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, এ ঘটনার পর আমি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছি এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত আছি। এমনিতেই আমি অসুস্থ, তার ওপরে এরকম চুরি হওয়াতে আমার মানসিক অবস্থা বর্তমানে চরম খারাপ। তিনি জানান, বর্তমানে তিনি ডায়ালাইসিস করতে ঢাকা অবস্থান করছেন এবং অতি দ্রুত চাঁদপুরে আসবেন। ৬ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পুলিশ এই ঘটনার কূলকিনারা করতে না পারাতে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এলাকার কিছু চিহ্নিত মাদকাসক্ত চোর রয়েছে, যাদেরকে এলাকার প্রায় সকলেই চিনে। এদের ব্যাপারে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে এই ঘটনার একটি সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাবুরহাট বাজারের প্রায় তিন হাজার ব্যবসায়ীর মধ্যে এমন চুরির ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ ও
নিরাপত্তাহীনতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বাজারের নাইট গার্ডের দায়িত্ব পালন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। সচেতন মহল আশা করেন, অতি দ্রুত পুলিশ এই চুরির ঘটনার রহস্য উন্মোচন করবে।








