শনিবার, ০৪ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. সলিম উল্লা সেলিম!

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০০:১৭

ধারাবাহিক উপন্যাস-৩৭

নিকুঞ্জ নিকেতন

রাজীব কুমার দাস
নিকুঞ্জ নিকেতন

(পূর্ব প্রকাশের পর)

‘দাদা বিষয়টা স্পষ্ট না। আরেকটু বুঝিয়ে বলুন?’

‘আশরাফ তুমি কোন বিষয়টা বুঝতে চাও সেটা বল তাহলে বুঝাতে সহজ হবে।’

‘আমি বলতে চাইছি এদেশে সতের কোটিরও অধিক জনসংখ্যা তাহলে সরকার কীভাবে এত মানুষের পেনশন দিবে। বাংলাদেশে কী এত লিকুইড মানি আছে যে সরকার জনগণকে দিতে পারে?।’

‘বুঝতে পেরেছি তোমার প্রশ্ন, শোন তাহলেÑআমরা প্রতিমাসে ব্যাংকে ডিপোজিট করি না আর ডিপোজিটের মেয়াদ শেষে লাভসহ একসাথে টাকা বুঝে নেই ব্যাংক থেকে। আমরা যখন বহু সংখ্যক মানুষ ডিপোজিট করি তখন ব্যাংক স্কিম হতে আমাদের জমাকৃত অর্থ একসাথে অন্যত্র ইনভেস্ট করে এবং উপার্জন করে। আমাদের আসল টাকা ইনভেস্ট করার ফলে যে অর্থ ব্যাংক পায় তা দিয়েই আমাদের সুদ সহকারে আসল টাকা পরিশোধ করে। সার্বজনীন পেনশনের ক্ষেত্রে তোমাকে নির্দিষ্ট একটা বয়স পর্যন্ত টাকা কিস্তি আকারে জমা করতে হবে। এখানে দেখছি সর্বনিম্ন ১,০০০/Ñটাকা থেকে শুরু করে সবোর্চ্চ ৫,০০০/Ñটাকা পর্যন্ত ধার্য করা আছে। স্কিমের টাকা সরকারি হিসাবে জমা হবে এবং সরকার এই অর্থ কাজে লাগিয়ে তোমাকে তোমার শেষ বয়সে কিস্তি আকারে ফেরত দিবে।’

‘তাহলে এটা ব্যাংকের ডিপোজিটের মতোই।’

‘বিষয়টা কাছাকাছি হলেও সেরকম না কারণ সরকারি চাকুরেদের মতো এরাও পেনশন পাবে তবে এরা এদের পেনশনের টাকা নিজে সঞ্চয় করবে।’

‘দাদা আমরা নিজেরাও তো আমাদের ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে পারি বা করি।’

‘দাদা আমি বুঝিয়ে বলি আশরাফকে। তুমি যখন সঞ্চয় কর তখন টাকা পাও একসাথে প্রতি মাসে কিস্তি আকারে পাও না। আচ্ছা একটা কথা বল তো আমাদের দেশে শতকরা কত জন লোক শেষ বয়সের জন্য সঞ্চয় করে! এই স্কিমে প্রবাসী, বেসরকারি চাকুরে, শ্রমজীবি মানুষ, দরিদ্র শ্রেণির মানুষ সকলের জন্য সুবিধা আছে। তুমি বল তো প্রবাসী বা বেসরকারি চাকুরে বাদে অন্য দুই ক্যাটাগরিতে আসা মানুষগুলোর শতকরা কতজন সঞ্চয় করে বা করতে পারে। আমার বোধ হয় বিশ শতাংশও না। কারণ জীবনের টানে জীবিকা সবসময়ই সীমিত আকারে। পরিবারের পুরো দিনের ভরনপোষণের পর সঞ্চয়ের অর্থ থাকে না তাই তারা দরিদ্র শ্রেণি থেকে এগিয়ে একধাপ আসতে পারে না। বর্তমানে এদেশের সরকার এই বিষয়টা খুব ভালোভাবেই ভেবেছেন তাই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। আচ্ছা তুমিও তো বেসরকারি চাকুরে ছিলে এবং চাকরি জীবনে তুমিও সঞ্চয় করেছ। পরিবারকে গুছিয়ে সন্তানদের গড়ে তুলতে সেই সঞ্চয়কে কাজে লাগিয়েছ আর এখন অসহায়ত্ব নিয়ে জীবন পার করছ। এই স্কিমটা এমনি মানুষগুলোর জন্য সহায়ক হবে।’

‘তুমি ঠিকই বলেছ অনিমেষ আমি সর্বস্য হারিয়ে এখন অসহায়ত্বে জীবন যাপন করছি। তার উপর রোগ ব্যধি, মনে না থাকা, ওষুধ সবকিছু মিলিয়েই অসহায়ত্ব। তোমাদের সহযোগীতা না পেলে বোধ হয় এমনভাবে অনেকটা সুস্থ্য হয়ে উঠতে পারতাম না। দেখেছ পিটার জীবনে পেনশনের সুযোগটা তো আসল কিন্তু আমার বয়সে বোধ হয় আমি এই সুযোগ নিতে পারব না।’

‘ওভাবে ভাববে না, সবকিছুই বিধাতার মর্জি। তুমি পারছ না তো কী হয়েছে তোমার পরবতর্ীতে যারা আছে তারা ঠিকই এর সুফল নিতে পারবে। যেকোনো কিছু যখন শুরু হয় তখন চলমান প্রজন্মটা তার সুফল ভোগ করতে পারে না এটাই স্বাভাবিক।’

‘আশরাফ তুমি যদি আরও বিষদভাবে জানতে চাও তাহলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েব সাইটে প্রকাশিত গ্যাজেটটা রয়েছে সেখানে বিস্তারিত জানতে পারবে। গ্যাজেটে সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দেওয়া থাকে তুমি সহজেই বিষদ জানতে পারবে।’

‘পিটার তোমার অবসরে যাওয়ার পনেরো বছর কবে নাগাদ পূর্ণ হবে?’

‘আরও বেশ কয়েকটা বছর বাকি আছে। আমি তো সেই অপেক্ষায়ই দিন গুনছি কখন অবসরের পনেরো বছর পূর্তি হবে আর আমার সারেন্ডার করা পেনশন পুনরুদ্ধার করতে পারব।’

‘এটা আবার কী? পেনশন পুনরুদ্ধার মানে কী?

‘আশরাফ আমরা যখন অবসরে যাই সে সময় একটা প্রথা চালু ছিল যে তোমার প্রাপ্য পেনশন যদি তুমি সারেন্ডার কর অর্থাৎ সরকারের কাছে বিক্রি করা যাকে বলে তাহলে সরকার তোমার পেনশনের সমুদয় টাকা শতভাগ বুঝিয়ে দিবে। একত্রে অনেকগুলো টাকা হাতে পাওয়ার জন্য আমরা অনেকেই এই প্রক্রিয়ায় পেনশন বিক্রি করি এবং এককালীন সমুদয় অর্থ বুঝে নেই। ২০১৫ সালের পে-স্কেল যখন ঘোষণা করা হয় তখন বর্তমান সরকার এই প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেন এবং পেনশন সারেন্ডার বা বিক্রির যে প্রথা তা পুরোপুরি স্থগিত হয়। পরবতর্ীতে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে যারা ২০১৫ এর আগে পেনশন বিক্রি করেছেন তারা তাদের অবসরে যাওয়ার পনেরো বছর পূর্তি সাপেক্ষে পেনশন পুনরুদ্ধার করতে পারবেন অর্থাৎ একজন সাধারণ পেনশন গ্রহীতার মতোই পেনশন গ্রহণ করতে পারবেন।’

‘আমাদের মতো শেষ বয়েসি লোকগুলোর জন্য বর্তমান সরকারের এই দুই সিদ্ধান্ত আশীর্বাদ সরূপ।’

‘সিদ্ধান্ত দুটো কোনটা?’

‘প্রথম সিদ্ধান্ত পেনশন পুনরুদ্ধারের আর দ্বিতীয়টা সার্বজনীন পেনশন প্রথা।’

‘সত্যি দাদা বর্তমান সরকারের এই সিদ্ধান্তগুলো আম জনতার জন্য সুফল বয়ে আনবে।’

২১.

ইদানীং পিটারের বাইরে বিচরণ বেশ লক্ষ্য করছি সকলে। কোথায় যায়, কী করে কিছুই বলছে না। কেমন একটা অস্থিরতা তার মধ্যে। পরিবার থেকে রেরিয়ে এসেছে আজ বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল অথচ একটি বারের জন্য তার সন্তানেরা এসে খেঁাজ নেয়নি। একদিন তার নাতি ও নাতনি বাসায় না বলে দাদার সাথে দেখা করতে চলে আসে। পিটার তাতে অনেকটা আবেগী হয়ে উঠেছিল। বেশকিছু সময় কাটায় ওরা একসাথে তারপর একদিন জানতে পারে স্কুল ফঁাকি দিয়ে প্রায়ই দাদার সাথে দেখা করতে আসায় তাদের মা বেশ বকাঝকা দেয় আর সবসময় চোখে চোখে রাখে। পিটার তারপর থেকেই অস্থিরতায় কাটায়। অনিমেষ জানায় পিটারকে কিছু লোকের সাথে একটা রেস্টুরেন্টে যেতে দেখে কয়েকদিন আগে। তার কাছে জানতে চাইলে বিষয়টা সে এড়িয়ে যায়। তারপর যেটা ঘটেছিল সেটা অবাক করার মতো একটি ঘটনা। বরাবরের মতো আমরা সকলে বসে বিকেলে চায়ের আড্ডায় মশগুল হঠাৎ দেখি পিটারের ছেলে ও ছেলের বউ এসে উপস্থিত। সারোয়ার বেশ বিরক্তির সাথে তাকাচ্ছে। নরেন্দ্র দা প্রথমে পরিচয় জানতে চাইলে তারা পিটারের দিকে তাকিয়ে থেকে পরিচয় দেয়।

‘আমার বাবা নাম পিটার গমস’

‘ও আচ্ছা তুমি পিটারের ছেলে! বেশ, তা হঠাৎ কী মনে করে?’

‘আংকেল আমরা বাবার সাথে কিছু কথা বলতে চাই।’

‘অবশ্যি বলবে তবে তোমার বাবা যদি বলতে না চায় তাহলে জোর করবে না। ঠিক আছে তোমরা কথা বল আমি মনমোহনকে বলছি চা দিতে।’

[পরের পর্ব আগামী সংখ্যায় ছাপা হবে]

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়