বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৩০

ছোট্ট রিমার ঈদ

জাফরিন জাকারিয়া
ছোট্ট রিমার ঈদ

গ্রামের নাম ছিল সবুজপুর। ছোট্ট কিন্তু খুব সুন্দর একটা গ্রাম। চারদিকে ধানক্ষেত, নারকেল গাছ, আর মাঝখান দিয়ে একটা ছোট নদী বয়ে গেছে।

এই গ্রামেই থাকত একটা মিষ্টি মেয়ে, নাম তার রিমা। রিমা খুব হাসিখুশি, একটু দুষ্টু আর খুবই কৌতূহলী।

ঈদ আসতে আর মাত্র তিন দিন বাকি। গ্রামের সব বাড়িতেই তখন উৎসবের প্রস্তুতি চলছে। কোথাও নতুন কাপড় সেলাই হচ্ছে, কোথাও সেমাই আর পায়েস রান্নার কথা হচ্ছে।

রিমা সকাল থেকে মায়ের পেছন পেছন ঘুরছে।

সে জিজ্ঞেস করল, “মা, আমার ঈদের জামা কই?”

মা হেসে বললেন, “আছে তো! আলমারিতে রাখা। ঈদের দিন সকালে পরবে।”

কিন্তু রিমার তো ধৈর্য নেই। সে বারবার আলমারি খুলে জামাটা দেখে।

জামাটা ছিল গোলাপি রঙের, তার ওপর ছোট ছোট ফুল আঁকা। সঙ্গে সাদা একটা ওড়না।

রিমা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কল্পনা করলÑঈদের দিন সে এই জামা পরে সবার সঙ্গে ঘুরবে।

পরের দিন বিকেলে বাবা বাজার থেকে ফিরলেন। হাতে একটা ছোট ব্যাগ।

রিমা দৌড়ে গিয়ে বলল, “বাবা, কি এনেছ?”

বাবা হাসতে হাসতে ব্যাগ থেকে বের করলেন চকোলেট আর রঙিন চুড়ি।

রিমার আনন্দ যেন আর ধরে না। সে খুশিতে লাফাতে লাগল।

ঈদের আগের রাতটা রিমার কাছে সবচেয়ে লম্বা মনে হল। সে বারবার মাকে জিজ্ঞেস করে,

“মা, কাল কি ঈদ?”

মা হেসে বললেন, “হ্যাঁ, কালই ঈদ।”

সকাল হতেই রিমা ঘুম থেকে উঠে গেল। বাইরে তখন পাখিরা ডাকছে আর হালকা রোদ উঠেছে।

মা তাকে নতুন জামা পরিয়ে দিলেন। রিমা আয়নায় নিজেকে দেখে খুব খুশি।

বাবা নামাজ পড়তে মসজিদে গেলেন। রিমা তখন মায়ের সঙ্গে বাড়িতে সেমাই বানাতে সাহায্য করল।

কিছুক্ষণ পর বাবা ফিরে এলেন।

বাবা বললেন, “ঈদ মোবারক!”

রিমা আর মা একসঙ্গে বলল, “ঈদ মোবারক!”

তারপর সবাই মিলে মিষ্টি সেমাই খেল।

এরপর রিমা তার বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে খেলতে গেল। সবাই নতুন জামা পরে এসেছে।

কেউ দৌড়াচ্ছে, কেউ হাসছে, কেউ ঈদি দেখাচ্ছে।

হঠাৎ রিমা দেখল তাদের পাশের বাড়ির ছেলে সোহেল চুপচাপ বসে আছে। তার মুখটা একটু মন খারাপের মতো।

রিমা কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, “তুমি খেলছ না কেন?”

সোহেল আস্তে বলল, “আমার নতুন জামা হয়নিৃ”

রিমা একটু চুপ করে রইল। তারপর দৌড়ে বাড়িতে গেল।

কিছুক্ষণ পর সে ফিরে এল একটা ছোট ব্যাগ নিয়ে।

ব্যাগের ভেতরে ছিল তার কিছু চকোলেট আর একটা ছোট খেলনা।

সে সোহেলের হাতে দিয়ে বলল, “এই নাও। আমরা একসাথে খেলব।”

সোহেল অবাক হয়ে তাকাল। তারপর ধীরে ধীরে হাসল।

দুজন আবার খেলতে শুরু করল।

সন্ধ্যায় রিমা যখন বাড়ি ফিরল, মা জিজ্ঞেস করলেন

“আজ ঈদ কেমন কাটল?”

রিমা হাসতে হাসতে বলল, “খুব ভালো আজ আমি শিখেছি ঈদ শুধু নতুন জামা না ,ঈদ মানে সবার সঙ্গে খুশি ভাগ করে নেওয়া।”

মা মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।

আর সেই ছোট্ট গ্রামে সেদিন রাতে আকাশে চাঁদ উঠেছিল। মনে হচ্ছিল যেন চাঁদও হাসছে।

কারণ সত্যিকারের ঈদের আনন্দ তখন সবার মনেই ছিল।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়