প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১০:২১
ছদ্মবেশ

অরুন ছদ্মবেশ
মৃগনাভি মেখে কালনাগ আজ সেজেছে পরম সাধু,
বিষের থলিতে লুকিয়ে রেখেছে মিথ্যে ভক্তির মধু।
আঙুলের ফাঁকে আবর্তে ঘোরে কপট পুণ্যের চাকা,
আঁধারে তাহার আসল অবয়ব কালিমায় যায় ঢাকা।
মসজিদ-দ্বারে মস্তক নুয়ে ভব্যতা সে যে যাচে,
অথচ অন্তরে স্বার্থের এক বিষবৃক্ষ সে বাঁচে।
পরের রক্তে রাঙিয়ে নিয়েছে নিজের রাজকীয় সাজ,
পুণ্যাহে সেজেছে ধবল বক, অন্তরে লুকানো লাজ।
ধর্ম তাহার শীতল পাথর, পরশ মেলেনা তাতে,
সত্যের সূর্য ডুবিয়ে দিয়েছে মিথ্যে আঁধার রাতে।
শাস্ত্রের পাতা ওল্টায় সে কেবলই লোক-দেখানো চালে,
হৃদয় তাহার বিঁধে আছে আজ লালসার বড় জালে।
দরিদ্রের গ্রাস কেড়ে নিয়ে গড়ে প্রাসাদের ঐ ভিত্তি,
ধর্মের নামে চালায় সে এক কলুষিত সব কীর্তি।
মানুষ দেখে সে ভক্তির রসে সিক্ত করে রে তনু,
আড়ালে লুকানো লক্ষ্যভেদী ঐ হিংসার খর ধনু।
একদিন এই তাসের প্রাসাদ ধুলোয় মিশে যে যাবে,
মুখোশ খসলে নিজের ছায়া কি আয়নায় খুঁজে পাবে?
ধর্ম মানে তো আলোর তৃষ্ণা, হৃদয়ে প্রেমের টান,
পাপের পসরা সাজিয়ে কি কভু লভিবে ত্রাণ?








