প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১০:২০
বিবেকের সামনে রমজান

এন জে রাবেয়া বিবেকের সামনে রমজান
নীরব রজনীর কপালে উঠিল রমজানের চাঁদ
করুণার শীতল দীপ যেন জ্বলে গগনে।
ঘরে ঘরে ইফতারের আলো,
খেজুরের মধুর গন্ধে ভরিল সন্ধ্যাতরু;
তবু হে হৃদয়, বলো নির্ভয়ে
এই আলো কি সকল গৃহে সমভাবে জ্বলে?আমি বসি ভরা থালার পাশে,
প্রাচুর্যের নীরব আরামে আচ্ছন্ন প্রাণ;
কিন্তু দূর অন্ধকার কুটিরে,
ক্ষীণ কণ্ঠে কি কাঁদে না কোনো ক্ষুধার্ত শিশু?
আমি কি শুনি তার আর্তনাদ,
নাকি ভোজের শব্দে ঢেকে যায় সে ধ্বনি?হে বিবেক! কঠোর বিচারক তুমিÑ
যখন তুলিতে যাই প্রথম লোকমা মুখে,
কেন কাঁপে মোর হাত?
এই অন্নের প্রতিটি দানায় কি লুকায় না
কারো অপূর্ণ ইফতারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা?
মোর থালার অতিরিক্ত অংশ
কারো আঁধার গৃহে জ্বালাতে পারিত না কি আলো?বল তবে, হে হৃদয়
আমি কি বুঝিলাম রমজানের প্রকৃত অর্থ?
নাকি কেবল গুনি ক্ষুধার ক্ষণ,
সূর্যাস্তের প্রতীক্ষা, আহারের আনন্দ?
যদি প্রতিবেশীর গৃহে জাগে ক্ষুধা,
তবে কি পূর্ণ হয় মোর প্রার্থনা।তখন স্মরণে আসে করুণার সেই বাণীÑ
বলিয়াছিলেন প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.) :
“সে মুমিন নহে
যে নিজে পেট ভরে আহার করে,
আর তার প্রতিবেশী থাকে ক্ষুধার্ত।”
হায়! সে বাণীর সম্মুখে দাঁড়াইবার শক্তি
আছে কি মোর অন্তরে?যদি মোর আলোয় ভরা টেবিলের পাশে
অন্য কোনো গৃহ ডুবে থাকে তমসায়,
তবে কি পূর্ণ মোর ইফতার?
যদি কারো থালায় থাকে শুধু পানি আর অল্প ভাত,
তবে কি মোর প্রাচুর্য
নীরবে আমাকে ক্ষমা করিবে?হে বিবেক
আজ বলো নির্ভীক কণ্ঠে
আমি কি সত্যই রোজা রাখি,
নাকি কেবল ক্ষুধার সময় গুনি?
মোর হাত কি উঠিবে না আজ
এক মুঠো অন্ন হয়ে,
এক বিন্দু মমতা হয়ে
মানুষের পাশে দাঁড়াইতে?দেখো
গগনে এখনো জ্বলিছে রমজানের শান্ত চাঁদ;
কিন্তু মোর অন্তরে ওঠে প্রশ্নের ঢেউ।
আমি কি কেবল নিজের তরে বাঁচি,
নাকি মানবতার তরে?যদি মোর পাশের গৃহে
এক ক্ষুধার্ত প্রাণ জাগিয়া থাকে রজনী ভর
তবে বলো, হে বিবেক,
মোর ভরা থালা কি সত্যিই
আমাকে ক্ষমা করিবে?








