শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৩

হৃদয়ের শান্তি

কাজী আজিজুল হাকিম নাহিন

অনলাইন ডেস্ক
হৃদয়ের শান্তি

গ্রামের এক বৃদ্ধ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পায়ের সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। হাঁটতেও কষ্ট হয়। তবুও তার মনে একটাই জেদ সে শুক্রবার জুমার নামাজ মসজিদে গিয়ে পড়তেই হবে। তার ছেলে নেই। কিন্তু তার ভাইয়ের ছেলে আর দুই ছোট নাতি আছে। তার দুই নাতির নাম রাফিউ এবং নাফিউ। তারা ক্লাস সেভেন এ পড়াশুনা করে।

তারা দাদুর ইচ্ছা দেখে নাতিরাই দায়িত্ব নেয় তাঁকে মসজিদে পৌঁছে দেয়ার। তাদের নিজস্ব একটি ছোট ভ্যানে তুলে নেয় তাকে। ধীরে ধীরে গ্রামের রাস্তার পথ ধরে ভ্যান চলতে থাকে। তারা ভ্যান চালাতে না পারলেও তারা তিনজন মিলে কষ্ট করে ভ্যান চালিয়ে এগুচ্ছিলো উঁচু-নিচু রাস্তা দিয়ে।

হঠাৎ মাঝপথে আকাশ কালো হয়ে আসে। আর চিন্তা করতে থাকে আমরা কি পারবো মসজিদে দাদুকে নিতে বৃষ্টি পড়ার আগে। কিন্তু মসজিদের কাছাকাছি যাওয়ার আগেই ঝুম বৃষ্টি নামল। ঠিক সেই মুহুর্তে রাস্তার পাশে একজন বাড়ির লোক ছাতা নিয়ে দৌড়ে এগিয়ে আসলো। তার নাতিরা বললো আমরা ভিজি সমস্যা নেই। দাদু যেনো বৃষ্টিতে না ভিজে। তারা বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে ভ্যান ঠেলে মসজিদে পৌঁছাল।

হালকা ভেজা কাপড় নিয়ে দাদু শান্ত মনে জুমার নামাজ আদায় করলেন।

নামাজ শেষে তার চোখে ছিল এক ধরনের তৃপ্তি, যেন দীর্ঘ পথ পেরিয়ে হৃদয়ের শান্তি পাওয়া গেছে। সেদিন গ্রামের মানুষ এই ঘটনাটি দেখে বুঝলো শরীর দুর্বল হতে পারে, কিন্তু ঈমান শক্ত হলে কোনো বাধাই বড় নয়।

এছাড়া ছোট দুটি শিশুর আগ্রহ, জেদ, কষ্ট দাদুকে মসজিদে নিয়ে যাবেই সেটি গ্রামের মানুষের চোখে অন্যরকম ভালোবাসার জায়গা করে নেয় এবং দাদুও তার নাতি এবং ভাইয়ের ছেলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। নাতি দুটি হৃদয়ে শান্তি পায়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়