প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৪২
অঙ্গীকারের পাদদেশে দুরন্ত শৈশব: এক পশলা জল আর এক বুক উচ্ছ্বাস

চাঁদপুর | ১ এপ্রিল, ২০২৬
|আরো খবর
ভিডিও ক্যাপশন: শৈশবের নেই কোনো মানা: মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ‘অঙ্গীকার’ এর বুক চিরে নীল জলে কিশোরদের দুঃসাহসিক ঝাঁপ। (চিত্রগ্রহণ: আব্দুল্লাহ আল মামুন)
ইটের পর ইট, আর যান্ত্রিক নগরায়নের এই ধূসর সময়ে ‘শৈশব’ শব্দটি যখন চার দেয়ালের স্ক্রিনে বন্দী, তখন চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র ‘অঙ্গীকার’ পাদদেশে দেখা গেল এক ভিন্নধর্মী প্রাণের স্পন্দন। তপ্ত দুপুরের রোদেলা আলোয় ভাস্কর্যের ধবধবে সাদা ক্যানভাসকে পেছনে ফেলে, একদল কিশোর মেতে উঠেছে জল-কেলি আর দুঃসাহসিক ডাইভের নেশায়।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ভাস্বর ভাস্কর্যটির সুউচ্চ বেদি থেকে একে একে কিশোররা যখন নিচে অঙ্গীকার পুকুরের শান্ত জলে ঝাঁপিয়ে পড়ছে, তখন মনে হচ্ছে যেন নাগরিক জীবনের সব জড়তা ভেঙে তারা ফিরে গেছে আদিম কোনো অরণ্যচারী উল্লাসে। তাদের এই 'দুরন্ত শৈশব' দেখে মুহূর্তের জন্য থমকে দাঁড়াতে বাধ্য হচ্ছেন পথচারীরা।
উচ্ছ্বসিত দর্শক ও আগামীর চোখ:
ভিডিওটিতে দেখা যায়, স্কুল ড্রেস পরা একদল শিক্ষার্থী রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে অবাক বিস্ময়ে দেখছে বড় ভাইদের এই জল-ক্রীড়া। তাদের চোখে-মুখে যেমন ছিল রোমাঞ্চ, তেমনি ছিল এক চিলতে ঈর্ষা—ইশ! যদি তারাও পারতো এমন বাঁধনহারা হতে। এক কিশোরের ডাইভ দেওয়ার পর যখন জলরাশি চারদিকে ছিটকে পড়ছিল, তখন ছোট ছোট শিশুদের হাততালি আর চিৎকার পুরো এলাকাকে যেন এক উৎসবের নগরীতে পরিণত করেছে।
ঝুঁকি নাকি প্রাণচাঞ্চল্য?
যদিও উঁচু স্থান থেকে এই ঝাঁপ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ, তবুও কিশোরদের চোখে ভয়ের ছিটেফোঁটা নেই। তাদের কাছে এটি কেবল সাঁতার কাটা নয়, বরং নিজেদের সাহসিকতা প্রমাণের এক অনন্য মাধ্যম। নাগরিক যান্ত্রিকতায় যেখানে খেলার মাঠ সংকুচিত, সেখানে এই পুকুর আর ভাস্কর্যের বেদিই যেন তাদের মুক্ত আকাশ।
আব্দুল্লাহ আল মামুনের ক্যামেরায় ধরা পড়া এই দৃশ্যটি কেবল একটি ভিডিও নয়; এটি বর্তমান সময়ের এক শক্তিশালী দলিলে পরিণত হয়েছে। যেখানে যান্ত্রিকতা আর প্রযুক্তির ভিড়েও আমাদের কিশোররা খুঁজে নিচ্ছে আদি ও অকৃত্রিম আনন্দ। অঙ্গীকারের সেই দৃঢ় মুষ্টিবদ্ধ হাত যেন এই কিশোরদেরই মনে করিয়ে দিচ্ছে—বাঁধন ছিঁড়ো, জয় করো জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত।
ভিডিও সৌজন্যে: আব্দুল্লাহ আল মামুন
সম্পাদনা ও পরিকল্পনা: মো. জাকির হোসেন
ডিসিকে /এমজেডএইচ








