রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৬, ১৯:০৮

ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের স্কলারশিপ গেট টুগেদার : ১৬ বছরের সফল যাত্রায় শিক্ষার মাধ্যমে জাতি গঠনের দৃষ্টান্ত

তরুণদেরকে গ্রোথ মাইন্ডসেট ও কর্মমুখী শিক্ষা অর্জন করে জাতি গঠনে এগিয়ে যেতে হবে

-----------------------ড. মো. সবুর খান

আব্দুল্লাহ আল মামুন
তরুণদেরকে গ্রোথ মাইন্ডসেট ও কর্মমুখী শিক্ষা অর্জন করে জাতি গঠনে এগিয়ে যেতে হবে

রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন তাদের স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীঅ্যালামনাইদের নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য স্কলারশিপ গেট টুগেদাররিইউনিয়ন প্রোগ্রাম আয়োজন করেছে। চাঁদপুর শহরের বাবুরহাটস্থ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে আয়োজিত এ প্রোগ্রামে গত ১৬ বছরের সাফল্য, অভিজ্ঞতাভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। সকাল ৯টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কোরআন তেলাওয়াত, বক্তৃতা, শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা, অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য, পুরস্কার বিতরণ এবং উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। তিনি তাঁর বক্তৃতায় তরুণ সমাজকে তাদের গ্রোথ মাইন্ডসেট নিয়ে এগিয়ে গিয়ে কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করতে আহ্বান জানান। তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচির উল্লেখ করে ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের যাকাতভিত্তিক কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এ বিষয়ে গৃহীত কর্মসূচির প্রশংসা করেন।

২০১০ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের এই যাকাতভিত্তিক কর্মসূচিতে যারা সুবিধাভোগী ও আরো কিভাবে এই মহতী কার্যক্রম বিস্তৃত করা যায় সে বিষয়ে তার দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে শুরু করতে হবে, কাজ করতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে

তিনি বলেন, এই ফাউন্ডেশন থেকে স্কলারশিপপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষার্থী এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতে কাজ করছে। তিনি সেক্ষেত্রে বিচার বিভাগ, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, সরকারি ব্যাংক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানস্বাস্থ্যসেবা খাত উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড়ো ব্যর্থতা হচ্ছে জীবনের টার্গেট নির্ধারণ না করা। তাই আমাদেরকে টার্গেট নির্ধারণ করে এবং সেই অনুযায়ী অক্লান্ত পরিশ্রম করে এগিয়ে যেতে হবে। নিজের ভাগ্য নিজেকে নির্ধারণ করতে হবে। যাতে করে একটি স্বনির্ভর, দক্ষউন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়।

এ সময় তিনি বিভিন্ন শিক্ষার্থীর বিভিন্ন প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেন এবং অনুষ্ঠানে একটি চমৎকার পরিবেশ তৈরি হয়। তিনি বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতার পূর্বে স্লাইড উপস্থাপনার মাধ্যমে ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের স্কলারশিপের ১৬ বছরের সাফল্য তুলে ধরা হয়।

২০১০ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশনের যাকাতভিত্তিক স্কলারশিপ কর্মসূচি ইতোমধ্যে :

* ১৬ টি ব্যাচে ২৭৯ জন শিক্ষার্থীকে সহায়তা প্রদান করেছে;

* বর্তমানে ৯০ জন শিক্ষার্থী স্কলারশিপ পাচ্ছে;

* ১৮৯ জন সফলভাবে প্রোগ্রাম সম্পন্ন করে অ্যালামনাই হয়েছে;

* তাছাড়া খুব শীঘ্রই প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ১৭ তম ব্যাচ শুরু হতে যাচ্ছে।

অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান :

এই কর্মসূচির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলো এর বাস্তব ফলাফল :

* ১০২ জন শিক্ষার্থী বর্তমানে কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখছে;

* ২৪ জন সরকারি চাকরিতে;

* ৪০ জন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত;

* ৬ জন উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে;

* ৮জন বিদেশে কাজ বা উচ্চ শিক্ষায় নিয়োজিত।

এটি প্রমাণ করে যে, এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র সহায়তা নয় বরং একটি মানবসম্পদ উন্নয়ন মডেল

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা :

এই প্রকল্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে ৭ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন কঠোর নীতিমালামনিটরিংয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করে যে, প্রতিটি অনুদান যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে এবং এর ফলাফল দৃশ্যমান

শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন :

শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র একাডেমিক শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের জন্য পরিচালিত হচ্ছে :

* লিডারশিপ প্রশিক্ষণ,

* উদ্যোক্তা উন্নয়ন

* সফট স্কিল ও কর্মদক্ষতা উন্নয়ন।

ফলে তারা হয়ে উঠেছে দক্ষ, আত্মনির্ভরশীলনেতৃত্বগুণ সম্পন্ন নাগরিক

ডিজিটাল ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা :

এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন সিস্টেমে পরিচালিত হচ্ছে। যেমন :

* অনলাইন আবেদন, পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার,

* স্বয়ংক্রিয় যোগাযোগ ও ডাটা ব্যবস্থাপনা,

* অ্যালামনাই ও শিক্ষকদের মাধ্যমে যাচাইকরণ।

এর ফলে স্বচ্ছতা, গতিজাতীয় পর্যায়ে বিস্তার নিশ্চিত হয়েছে।

ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন আগামী দিনে এই উদ্যোগকে হাজারো শিক্ষার্থীর মাঝে বিস্তৃত করতে চায়, যাতে একটি স্বনির্ভর, দক্ষউন্নত বাংলাদেশ গড়ে ওঠে।

অংশগ্রহণমূলক এ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, সুধী সমাজপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়