প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৩
গ্রামীণ মানুষের কাছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক একদিন ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পাবে
----পরিচালক নুরে আলম তালুকদার

।।
|আরো খবর
বিশিষ্ট ক্ষুদ্রঋণ বিশেষজ্ঞ, একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ পলিসি মেকার, বাংলাদেশে নৈতিক শিক্ষার প্রবর্তক নুরে আলম তালুকদার গত ২৮ জুন ২০২৫ তারিখে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বোর্ড পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি ব্যাংকের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পলিসি গ্রহণ করেন। যেমন-১) ব্যাংকের ১০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণের বিপরীতে সিকিউরিটি হিসেবে কোনো কিছুই রাখা হয় নি, তাই ৭০% ঋণ খেলাপী হয়েছে এবং এ ঋণের টাকা আদায়ে ঝুঁকিতে পড়তে হয়েছে ব্যাংকটিকে; নুরে আলম তালুকদার বোর্ড মিটিংয়ে জোর দাবি জানিয়ে ৫০ হাজার টাকা এবং তদূর্ধ্ব টাকা ঋণ বিতরণ করতে হলে চেক এবং নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প রাখার বিধান করে দেন। এতে করে ব্যাংকের মূলধন নিরাপত্তার আওতায় চলে আসে। (২) ব্যাংকের মূলধন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডিপিএস চালু করেন, যার ফলে প্রতি বছর প্রায় ন্যূনতম এক হাজার কোটি টাকা মূলধন বৃদ্ধি পাবে। (৩) ব্যাংকটিতে প্রায় ৭০% ঋণ খেলাপী ছিলো। ১০০% রিকভারি টার্গেট নিয়ে কাজ করার জন্যে বোর্ডে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত দেন জনাব নুরে আলম তালুকদার। যার ফলে খেলাপি ৫০%- এর নিচে নেমে আসছে। এভাবে গত নয় মাসে ব্যাংকের উন্নয়নে অনেকগুলো কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছেন, কারণ, ক্ষুদ্রঋণে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিলো। এখানে উল্লেখ্য, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, একটি বিশেষায়িত ক্ষুদ্র ঋণের ব্যাংক। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট মূলধন প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। আগামী ২ বছরের মধ্যে এই মূলধন প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার টার্গেট নিয়ে কাজ করছেন নুরে আলম তালুকদার। যদি কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তিনি আশা করেন, আগামী দু বছরের মধ্যে ব্যাংকটির মূলধন ২০ হাজার কোটি টাকাতে উন্নীত করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ (তবে এই ক্ষেত্রে একটা দক্ষ ম্যানেজমেন্টেরও প্রয়োজন রয়েছে)। এই ব্যাংকে কোনো রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটি ছিলো না এবং অডিট কমিটি কার্যকর ছিলো না। নুরে আলম তালুকদার বোর্ড পরিচালক হিসেবে যোগদানের পর তাঁর বলিষ্ঠ উদ্যোগে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করা হয় এবং অডিট কমিটি কার্যকর করা হয়। যার ফলে ঋণ আদায়ে ব্যাংকটিতে কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা সম্ভব হয়েছে এবং খেলাপি ঋণ কমে আসছে। ব্যাংকটিতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা হস্ত মওজুদ বা আত্মসাৎ ছিলো, সেই টাকা আদায়ের পলিসি নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো টাকা আত্মসাৎ না করতে পারে সেই ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে। ব্যাংকের উন্নয়নের স্বার্থে উপরোক্ত কাজগুলো করতে গিয়ে তাঁর অনেক শত্রুও তৈরি হয়েছে এবং তাঁর জীবনেরও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তারপরেও মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তিনি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান। এই এগিয়ে যাওয়াটা সম্ভবপর হলে তিনি আস্থার সাথে বলেন, গ্রামীণ মানুষের কাছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক একদিন ব্র্যান্ড হিসেবে পরিচিতি পাবে।








