শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫  |   ২৭ °সে
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ২৩:১০

জেলে পরিবারে থামছে না স্বজন হারানোর কান্না

মেঘনায় মাছ ধরার ট্রলারে বিস্ফোরণ : সরকারি সহায়তা প্রদান

মেঘনায় মাছ ধরার ট্রলারে বিস্ফোরণ : সরকারি সহায়তা প্রদান
তাবারক হোসেন আজাদ, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)

বড়ো আশা নিয়ে এক মাস আগে সাগরে গিয়েছিলেন ১১ জন জেলে। মাছ ধরে যা আয় হবে তা দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করবেন। ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাবেন। স্ত্রী-সন্তানের পোশাক কিনবেন। সংসারে সচ্ছলতা ফিরবে। কিন্তু বিধিবাম, ট্রলারে ভাত রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে । গত ৮ আগস্ট রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীর বড়খেরি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিনই ৪ জনকে অগ্নিদগ্ধ জীবিত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইউনিটে ভর্তি করলে গত ১০,১১ ও ১২ আগস্ট মারা যান তিন জেলে। আবু বেপারী নামের একজন জেলে এখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২২ দিনে অনবরত কান্নায় স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের চোখের জল শুকিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার বিকালে (২৯ আগস্ট ২০২৫) রায়পুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে নিহত দু জেলে ও ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আহত এক জেলের স্ত্রী ও স্বজনের হাতে ৫০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার।

নিহত ও আহতরা হলেন : রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া গ্রামের সৈয়দ আহাম্মদ বেপারীর ছেলে জাহিদ হাসান (৩৫), একই এলাকার কৃষক কালা খাঁর ছেলে গনি খাঁ (৫৫), ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আহত আবু বেপারী। এছাড়াও ঢাকা মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা নিহত আবিদ মিয়া (৪৫)।

সরকারি অনুদান নিতে আসা হাওয়া বেগম বলেন, ঘরভিটে ছাড়া নিজস্ব কোনো জমি নেই। ছোট একটি ঝুপড়ি ঘরে তাদের বসবাস। পেশায় মৎস্যজীবী স্বামী জাহিদ হোসেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন। প্রায় ১ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত। মাছ ধরার আয় থেকে ঋণের কিস্তি দেবেন এবং একটু স্বাচ্ছন্দ্যে সংসার চালাবেন এমন আশা নিয়ে মেঘনা নদীতে যান দরিদ্র জাহিদ। দু মেয়ে ও এক ছেলের ভরণপোষণ আর ১ লাখ টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে যেন কঠিন বিপদে পড়েন হাওয়া।

একই এলাকার বাসিন্দা নিহত জেলে গনি খাঁ। দুই ছেলে, তিন মেয়ে নিয়ে তার সংসার। ছেলে বিয়ে করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। দুই মেয়ের এক বছর আগে বিয়ে হয়। স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে নিয়ে চলছিলো গনি খাঁর সংসার। মেয়ে সাথীর বিয়েতে ও মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় কিছু টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এসব টাকার জোগান দিতেই জীবনবাজি রেখে নদীতে যান বৃদ্ধ গনি খাঁ। ট্রলারে ভাত রান্না করতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তিনজন নিহত ও এক জেলে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন হাসপাতালে।

বেঁচে ফেরা চিকিৎসাধীন আবু বেপারীর বাবা সাইদুল হক বেপারী জানান, এক মাস আগে সাগরে মাছ ধরতে যায় তারা ১১ জন জেলে। ৮ আগস্ট সাগর থেকে রামগতির বড়খেরি এলাকায় জাল নষ্ট হওয়ায় তা মেরামত করে। এ সময় ভাত রান্না করতে গিয়ে গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় চারজন অগ্নিদগ্ধ হলে অন্য জেলেরা তাদের জীবিত উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা জাতীয় বার্ন ইউনিটে ভর্তি করলে ১০,১১ ও ১২ আগস্ট তিন জেলে মারা যান এবং আমার ছেলে আহত আবু বেপারীর চিকিৎসা বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে চলছে।

রায়পুরের ইউএনও ইমরান খান জানান, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের রাজস্ব উন্নয়ন তহবিল থেকে নিহত দু জেলেকে ২০ হাজার টাকা করে ও আহত জেলেকে দশ হাজার টাকার চেক তাদের স্বজনের হাতে তুলে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক রাজিব কুমার সরকার। ওই পরিবারগুলোকে আরও অন্য সহযোগিতা দেয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়