সোমবার, ০২ নভেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ২২:২৪

চাঁদপুরে নির্বাহী বিভাগ থেকে ম্যাজিস্ট্রেসি পৃথকীকরণের ১৯ বছরপূর্তি উদযাপন

আইনজীবীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আইনের প্রয়োগ ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে সচেষ্ট থাকতে হবে.— নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাসনীম জোহরা

আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া সভ্য রাষ্ট্র নির্মাণ সম্ভব নয় : চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান

চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম।।
আইনজীবীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আইনের প্রয়োগ ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে সচেষ্ট থাকতে হবে.— নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাসনীম জোহরা

নির্বাহী বিভাগ থেকে ম্যাজিস্ট্রেসি পৃথকীকরণের ১৯ বছরপূর্তি উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) বিকেলে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক তাসনীম জোহরা বলেন, "বিচার বিভাগ জনগণের অধিকার ও নিরাপত্তা লাভের শেষ আশ্রয়স্থল। একে বিচারপ্রার্থীদের প্রকৃত আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে বিচারক ও আইনজীবীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তিতে সচেষ্ট থাকতে হবে।"

সভাপতির বক্তব্যে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুজাহিদুর রহমান বলেন, "আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ছাড়া একটি সভ্য, গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র নির্মাণ সম্ভব নয়। আর জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে স্বাধীন ও শক্তিশালী বিচার বিভাগের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে নির্বাহী বিভাগ থেকে ম্যাজিস্ট্রেসি পৃথকীকরণ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।"

অনুষ্ঠানে বিচারকদের মধ্যে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. কামাল হোসেন, যুগ্ম জেলা জজ সামিউল আলম এবং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্ধন বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া আইনজীবী নেতাদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম মন্টু, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সেলিম আকবর, অ্যাডভোকেট আহসান হাবীব এবং অ্যাডভোকেট এ. টি. এম. মোস্তফা কামাল।

বক্তারা বিচার বিভাগ পৃথকীকরণে আইনজীবীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করেন। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘ সংগ্রাম ও বিকাশের ইতিহাস তুলে ধরে তাঁরা বলেন, বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করা ছিল দেশের বিচার ব্যবস্থার অন্যতম দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের নির্বাহী অঙ্গসমূহ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের নীতি নির্ধারিত থাকলেও এই সাংবিধানিক প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

আলোচনায় বক্তারা ঐতিহাসিক ‘মাসদার হোসেন মামলা’র অবদানের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগ ওই মামলায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথকীকরণ বিষয়ে যুগান্তকারী নির্দেশনা প্রদান করে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ১ নভেম্বর ২০০৭ থেকে দেশের অধস্তন বিচার বিভাগ ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেসি নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকভাবে কার্যক্রম শুরু করে। এর মাধ্যমে বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসির আলাদা কাঠামো কার্যকর হয় এবং দেশের বিচার বিভাগে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটে।

বক্তারা আরও বলেন, এই পৃথকীকরণ শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন ছিল না; এটি ছিল আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পথে একটি বিরাট পদক্ষেপ। বিচারপ্রার্থী মানুষের আস্থা অর্জন এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমাজ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির বর্তমান ও সাবেক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন স্তরের আইনজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়