প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫০
নভেম্বর থেকে সরে জানুয়ারিতে ইউপি নির্বাচন

চলতি বছরের ১২ নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরুর প্রাথমিক পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে ধাপে ধাপে ইউপি নির্বাচন করার কথা ভাবছে কমিশন। তবে জানুয়ারির এই সময়সূচিও এখনো চূড়ান্ত নয়। তফসিল ঘোষণার বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ইসি।
|আরো খবর
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান মাছউদ এসব তথ্য জানান। ইসি মাছউদ বলেন, নভেম্বর-ডিসেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পরীক্ষা রয়েছে। একই সময়ে বিদ্যালয়গুলোকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার এবং শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও রয়েছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের আগের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার চিন্তা করছে কমিশন।
সাত ধাপের প্রাথমিক পরিকল্পনায় পরিবর্তন
এর আগে কমিশন জানিয়েছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর দেশের ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে ভোট নেওয়ার কথা ছিল। পরবর্তী ধাপগুলো ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ২০২৭ সালের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, এপ্রিল ও মে মাসে করার সম্ভাব্য সময়সূচিও সামনে এসেছিল। তবে শুরুতেই ১২ নভেম্বরের ভোট নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে কমিশনকে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছিলেন, আগামী বছরের ৬ জুনের আগে ইউপি নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা একমত হয়েছেন। বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার আগে নির্বাচন শেষ করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় ভোটের সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং প্রয়োজনে ধাপ কমানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে। অর্থাৎ কমিশনের বর্তমান ভাবনায় নভেম্বরের পরিবর্তে জানুয়ারি থেকে নির্বাচন শুরু হলেও ২০২৭ সালের ৬ জুনের মধ্যে পুরো ইউপি নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য থাকছে।
তফসিল কবে, জানে না কমিশন : নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে নির্বাচন শুরু করার কথা ভাবা হলেও কবে তফসিল ঘোষণা করা হবে—এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন ইসি মাছউদ। ফলে ১২ নভেম্বরের ভোটের যে প্রাথমিক সময়সূচি কয়েক দিন আগেও আলোচনায় ছিল, সেটি এখন আর কমিশনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। ১৫ সেপ্টেম্বরও ইসি জানিয়েছিল, ইউপি নির্বাচনের ঘোষিত ধাপ ও তারিখ চূড়ান্ত নয় এবং বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে তা পুনর্বিবেচনা করা হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপও বাতিল : স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর সংলাপ করার কথা ছিল নির্বাচন কমিশনের। ১৪ সেপ্টেম্বর কমিশনের পক্ষ থেকে এই সংলাপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রোববারের বক্তব্যে ইসি মাছউদ জানিয়েছেন, নির্ধারিত ওই সংলাপও বাতিল করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত গ্রহণের পূর্বনির্ধারিত উদ্যোগ আপাতত স্থগিত হলো।
কেন গুরুত্বপূর্ণ জানুয়ারি : নির্বাচন কমিশনের সামনে মূলত দুটি বাস্তবতা—একদিকে নভেম্বর-ডিসেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা ও ভোটকেন্দ্র ব্যবহারের সমস্যা, অন্যদিকে ২০২৭ সালের ৬ জুনের মধ্যে ইউপি নির্বাচন শেষ করার সময়সীমা। এ কারণে জানুয়ারি থেকে নির্বাচন শুরু করার চিন্তা কমিশনের কাছে একটি সম্ভাব্য সময় হিসেবে সামনে এসেছে। তবে জানুয়ারিতে নির্বাচন হলে সময়ের ব্যবধান কমে যাবে এবং একাধিক ধাপে ভোট আয়োজনের জন্য কমিশনকে তুলনামূলক ঘন সময়সূচি বিবেচনা করতে হতে পারে।
এর আগে কমিশনের প্রাথমিক সাত ধাপের পরিকল্পনায় ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপ, ১৩ ডিসেম্বর দ্বিতীয় ধাপ, ৩০ ডিসেম্বর তৃতীয় ধাপ, ১৭ জানুয়ারি চতুর্থ ধাপ, ১২ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম ধাপ, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ ধাপ এবং ২৭ মে সপ্তম ধাপের সম্ভাব্য সময় উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে সেটি ছিল প্রাথমিক বা সম্ভাব্য (টেন্টেটিভ) পরিকল্পনা, চূড়ান্ত তফসিল নয়।
আচরণবিধির কাজ এগিয়েছে : ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা, ২০২৬ গেজেট প্রকাশ করেছে। কমিশনের ওয়েবসাইটেও এ-সংক্রান্ত বিধিমালা প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০-সহ সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা কার্যকর রয়েছে।
এ থেকে বোঝা যায়, নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে পুনর্বিবেচনা চললেও নির্বাচন আয়োজনের আইনগত ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি এগিয়ে রাখছে কমিশন।
সব মিলিয়ে ১২ নভেম্বর থেকে ইউপি নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা এখন অনিশ্চিত। কমিশনের সর্বশেষ অবস্থান অনুযায়ী জানুয়ারি ২০২৭ থেকে ভোট শুরুর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে তফসিল ঘোষণা, ধাপের সংখ্যা এবং প্রথম ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ—কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের সভায় নেওয়া হবে।







