প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৯
বাবুরহাট মডেল টাউনের প্রধান সড়কে জনদুর্ভোগ চরমে
গর্তে পানি-কাদা, ড্রেনের নোংরা পানি রাস্তায়
দুমাসের মধ্যে সংস্কারের আশ্বাস পৌর প্রশাসকের

চাঁদপুর শহরের প্রসিদ্ধ বাবুরহাট মডেল টাউনের প্রধান সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন লক্ষাধিক মানুষ। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, জমে থাকা বর্ষার পানি ও ড্রেনের নোংরা পানি একাকার হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে সময় ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অনেকে পড়ে গিয়ে আহত হচ্ছেন।
|আরো খবর
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাবুরহাট থেকে চাঁদপুর জেলা সদর, সফরমালি, বেপারীকান্দি, দাসাদী, দশানী, দিঘীরপাড়, মতলব, মুন্সিরহাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলায় যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক এটি। প্রতিদিন রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, পিকআপ, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। ফলে সড়কটির বেহাল দশায় দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটির কিছু অংশ ঢালু হওয়ায় বৃষ্টির পানি সেখানে জমে থাকে। এর সঙ্গে ড্রেনের পানি রাস্তায় এসে জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। কাদা ও পানিতে গর্তগুলো অনেক সময় বোঝা যায় না। বিশেষ করে রাতের বেলায় সড়কটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আলো স্বল্পতার কারণে গর্তে পড়ে অনেক রিকশা, সিএনজি ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
এর আগে স্থানীয় ক'জন ব্যক্তি নিজ উদ্যোগে সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি স্থানে পাথর, বালি ও সিমেন্ট দিয়ে সংস্কারের চেষ্টা করেছেন। তবে এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের স্থায়ী সমাধানের জন্য পৌর প্রশাসনের উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চাঁদপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও যুবদল সভাপতি মো. মোবারক পালোয়ান বলেন, ‘চাঁদপুর থেকে সফরমালি, বেপারীকান্দি, দাসাদী, দশানী, দিঘীরপাড়, মতলব, মুন্সিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। বড় বড় গর্ত এবং ড্রেনের পানি ও কাদা একসঙ্গে জমে থাকায় মানুষের চলাচলে খুব কষ্ট হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে এর আগেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে রাস্তার কিছু অংশে পাথর, বালি ও সিমেন্ট দিয়ে সংস্কার করেছি। কিন্তু ব্যক্তিপর্যায়ে এর চেয়ে বড় পরিসরে কাজ করা সম্ভব নয়। তারপরও মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় আমি আবারও সড়কের কিছু অংশে কাজ করার চেষ্টা করবো। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা পেলে আরও ভালোভাবে কাজ করা সম্ভব হবে।’ একই সঙ্গে তিনি দ্রুত পৌর প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, ‘সড়কটির বর্তমান অবস্থার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। এই সড়কের কাজের জন্য ইতোমধ্যে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। বর্ষার কারণে বর্তমানে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বর্ষা কমলে দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থারও উন্নয়ন করা হবে।’
কাজ শেষ হতে কত সময় লাগতে পারে—জানতে চাইলে পৌর প্রশাসক বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে সড়কটিকে একটি উন্নত সড়কে রূপান্তর করার আশা করছি।’
স্থানীয় রিকশা ও সিএনজি চালকেরা জানান, দিনের বেলায় কোনোভাবে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা গেলেও রাতে এই সড়কটি ভয়ংকর হয়ে ওঠে। গর্তে পানি জমে থাকায় অনেক সময় তা দেখা যায় না। ফলে যাত্রীসহ যানবাহন গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সড়কটি শুধু একটি এলাকার যোগাযোগের পথ নয়; চাঁদপুর শহর, আশপাশের উপজেলা ও বিভিন্ন জেলার সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কার এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। পৌর প্রশাসকের দেওয়া আশ্বাস অনুযায়ী দ্রুত কাজ শুরু ও সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন এলাকাবাসীর।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








