শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৮

স্থানীয় সরকার নির্বাচন : সম্ভাব্য প্রার্থীর মুখোমুখি-৬০

নদীভাঙন রোধ, রাস্তাঘাট সংস্কার ও ব্রিজ নির্মাণ করা এখন জরুরি

— মোহাম্মদ আলী পাঠান

অনলাইন ডেস্ক
নদীভাঙন রোধ, রাস্তাঘাট সংস্কার ও ব্রিজ নির্মাণ করা এখন জরুরি

"মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করে আসছি। যতদিন বেঁচে থাকবো, ততদিন শ্রদ্ধার সাথে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় থাকবো। আমি মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।"

কথাগুলো বলেছেন চাঁদপুর সদর উপজেলার ৮ নম্বর বাগাদী ইউনিয়নের কৃতী সন্তান, বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ ও বাগাদী ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী পাঠান। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে 'দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ'-কে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারটি নিচে তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন সোহাইদ খান জিয়া।

**চাঁদপুর কণ্ঠ :** আপনি কোন্ পরিচয়, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান? আপনার মূল লক্ষ্য ও জনগণকে নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী?

**মোহাম্মদ আলী পাঠান :** আমি চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের ইসলামপুর গাছতলা গ্রামের পাঠান বাড়ির বাসিন্দা। আমি মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে বিএনপির রাজনীতি করে আসছি। যতদিন বেঁচে থাকবো, ততদিন শ্রদ্ধার সাথে বিএনপির রাজনীতির সাথে সক্রিয় থাকব। আমি মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি। পাশাপাশি তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

আমি বিগত দিনে এই ইউনিয়নে তিনবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলাম। দায়িত্ব পালনকালে ইউনিয়নজুড়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে দুর্নীতি, মাদক ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কাজ করা। অসহায় মানুষের পাশে আগের মতোই সবসময় দাঁড়িয়ে যাব। ইউনিয়নের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতেই জনগণের অনুরোধে এবারও প্রার্থী হব।

**চাঁদপুর কণ্ঠ :** আপনি কি কোনো দলীয় সমর্থনের আশায় নির্বাচন করতে চান, নাকি নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন করবেন? দলীয় নাকি নির্দলীয়—কোনভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন?

**মোহাম্মদ আলী পাঠান :** আমি চতুর্থবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে পরাজিত হওয়ার পর বাড়িতে অবস্থানকালে আমার ছেলে আমাকে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে যায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ ভূমে ফিরে এলে ইউনিয়নবাসী আমাকে পুনরায় চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার জন্যে অনুরোধ জানান। এরপর আমি আবার যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাই। সম্প্রতি দ্বিতীয় দফায় দেশে ফেরার পর ইউনিয়নবাসীর সাথে দেখা করতে গেলে সবাই একযোগে আমাকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আকুল আবেদন জানান।

আমার ইউনিয়নের মানুষের ভালোবাসা কখনো ভোলার মতো নয়। জনগণের সেই ভালোবাসার টানে ও তাদের অনুরোধেই আমি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

**চাঁদপুর কণ্ঠ :** আপনার ইউনিয়নের সবচেয়ে বড় সমস্যা কী বলে মনে করেন? ছোট-বড় সব সমস্যার সমাধানে আপনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী?

**মোহাম্মদ আলী পাঠান :** আমার ইউনিয়নের প্রধান সমস্যা হলো নদীভাঙন এবং রাস্তাঘাটের বেহাল দশা। ইউনিয়নের চরমেয়াশা গ্রামের বিশাল জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। গ্রামটির চারপাশেই ডাকাতিয়া নদী। এই জনপদের মানুষকে চলাচলের জন্যে নৌকা বা ট্রলারের ওপর নির্ভর করতে হয়।

এই গ্রামে সহজে যাতায়াতের জন্যে সাহেব বাজার, নানুপুর অথবা গাছতলা এলাকা দিয়ে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। আমি নির্বাচিত হলে ডাকাতিয়া নদীর ভাঙন থেকে ইউনিয়নকে রক্ষা করা এবং চরমেয়াশা গ্রামে সহজে যাতায়াতের জন্য ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেব। এছাড়া ইউনিয়নের অনেক ভাঙাচুরা রাস্তা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত মেরামত করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করব। পাশাপাশি জনগণকে সাথে নিয়ে ইউনিয়নের অসমাপ্ত সব উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করব।

**চাঁদপুর কণ্ঠ:** স্বচ্ছতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সরকারি সেবার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আপনি কী পদক্ষেপ নেবেন?

**মোহাম্মদ আলী পাঠান :** আমি নির্বাচিত হলে সরকারি সকল সেবায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব। যার যা প্রাপ্য, তা সরাসরি তার হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। সরকারি বরাদ্দ নিয়ে কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।

**চাঁদপুর কণ্ঠ :** নির্বাচিত না হলেও কি আপনি জনগণের পাশে থাকবেন? জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ কীভাবে বজায় রাখবেন?

**মোহাম্মদ আলী পাঠান:** অতীতে চেয়ারম্যান পদে না থাকলেও যেভাবে জনগণের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতে নির্বাচিত না হলেও ঠিক সেভাবেই থাকব। আমি যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালেও এলাকার মানুষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করেছি। বর্তমানে দেশে ফিরে প্রতিটি ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে জনগণের সাথে কুশল বিনিময় করেছি এবং সবার দোয়া চেয়েছি।

**চাঁদপুর কণ্ঠ :** প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় ভোটাররা কেন আপনাকেই ভোট দেবেন? তাদের উদ্দেশ্যে আপনার সংক্ষিপ্ত বার্তা কী?

**মোহাম্মদ আলী পাঠান :** যেহেতু আমি সফলভাবে তিনবার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, ইউনিয়নের অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছি এবং সবসময় জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলাম—জনগণ তা মনে রেখেছেন। অতীতেও জনগণের মূল্যবান ভোটেই আমি নির্বাচিত হয়েছিলাম। তাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার কাজের মূল্যায়ন করে জনগণ আমাকে আবারও ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন।

**চাঁদপুর কণ্ঠ:** উপরোক্ত প্রশ্নগুলোর বাইরে আপনার কি অন্য কোনো বক্তব্য রয়েছে?

**মোহাম্মদ আলী পাঠান :** পুরো ইউনিয়নবাসী আমার কাছে সমান ও পরম শ্রদ্ধার। দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের পক্ষ থেকে আমার সাক্ষাৎকার গ্রহণ করায় চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়