প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ২০:২২
আত্মগোপনে থাকা প্রতারক স্বর্ণব্যবসায়ী পিন্টু দাসকে ধরতে পুলিশের চিরুনি অভিযান

চাঁদপুর শহরের কুমিল্লা রোডের আখন্দ মার্কেটের ‘এসকে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস (৪৫) সপরিবারে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁকে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে চাঁদপুর মডেল থানা-পুলিশ ও ডিবি পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। এদিকে চাঁদপুর ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল ২৭ আগস্ট ২০২৬ আনুমানিক দুপুর তিনটায় প্রতারক স্বর্ণব্যবসায়ী পিন্টু দাসের ভাড়া বাসায় সরেজমিন পরিদর্শন ও ব্যাপক তল্লাশি চালায়। তাঁকে ধরতে চাঁদপুর ডিবি পুলিশের টিম জোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
|আরো খবর
স্বর্ণ ও অর্থ কেলেঙ্কারি এড়াতে আত্মগোপনে গিয়ে পিন্টু দাস ‘নিখোঁজ নাটক’ সাজিয়েছেন বলে মনে করেন চাঁদপুরের স্বর্ণব্যবসায়ীরা। গত ১৯ আগস্ট থেকে তার ভাড়া বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ রয়েছে। এ ঘটনায় বাসার মালিক আলহাজ আ. গফুর সাহেবের ছোট ছেলে মোহাম্মদ রাসেল খান চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
১৯ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে বাসার মালিকের ছেলে রাসেল খান পিন্টু দাসের খোঁজ নিতে গিয়ে দরজায় তালা দেখতে পান। পরে পিন্টুর ব্যবহৃত ০১৭১৯-৫৫৭১৫২ নম্বরে ফোন করা হলে সেটিও বন্ধ পাওয়া যায়। আশপাশের লোকজনের কাছে খোঁজ নিয়েও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। এ পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের আইনি সুরক্ষার জন্যে ২২ আগস্ট চাঁদপুর সদর মডেল থানায় জিডি (জিডি নম্বর : ১৩৯৬) করেন রাসেল খান।
তিনি জানান, ২৬ আগস্ট চাঁদপুর মডেল থানার ওসি ফয়েজ আহমেদ তাদের বাড়িতে এসে খোঁজখবর নেন। ২৭ আগস্ট বিকেল ৩টায় ডিবি পুলিশ আবারও তল্লাশি চালায়। পুলিশ সার্বক্ষণিক পিন্টু দাসের অবস্থান শনাক্তে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। জানা গেছে, ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত ৩টার দিকে চাঁদপুর মডেল থানার এসআই কালাম গাজীসহ একদল পুলিশ তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়। তবে সামান্য কিছু আসবাব ছাড়া ভেতরে আর কিছুই পাওয়া যায়নি।
পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বন্ধকি স্বর্ণালংকার ও টাকা নিয়ে তা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, পিন্টু দীর্ঘদিন ধরে বন্ধকি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গ্রাহকদের পাওনা ফেরত দিতে না পারায় একাধিকবার সালিসও হয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসার নামে বিভিন্ন সমিতি থেকেও তিনি ঋণ নিয়েছেন। স্থানীয় একাধিক ভুক্তভোগী জানান, পিন্টুর কাছে তাদের স্বর্ণালংকার ও টাকা পাওনা রয়েছে, তবে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার দেখা মিলছে না।
এক স্বর্ণব্যবসায়ী জানান, বছরখানেক আগে শহরের নতুন বাজার এলাকার এক ব্যক্তি পিন্টু দাসের কাছে প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকার স্বর্ণ বিক্রির জন্যে দিয়েছিলেন। পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হওয়ায় সালিসে তিনটি চেকের মাধ্যমে ছয় লাখ টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই পিন্টু সপরিবারে চম্পট দেন।
চাঁদপুর জেলা জুয়েলারি ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মানিক পোদ্দার জানান, পাওনা সংক্রান্ত একটি সালিসে তিনি উপস্থিত থাকলেও পিন্টুর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানেন না। চাঁদপুর জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতারাও তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ ও স্বর্ণ আত্মসাতের কথা শুনলেও কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাননি বলে জানিয়েছেন।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফয়েজ আহমেদ বলেন, "পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে স্বর্ণ ও টাকাপয়সা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।" চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টির খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
বর্তমানে পিন্টুর বাসা ও দোকান বন্ধ থাকায় পাওনাদারদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশে থানা ও ডিবি পুলিশ যৌথভাবে বিভিন্ন স্থানে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে এবং সাধারণ নাগরিকদের তথ্য দিয়ে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্যসূত্র : দৈনিক চাঁদপুর খবর।








