প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০২:১০
চাঁদপুর ফাউন্ডেশনকে স্থায়ী সম্পদ ও শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে চাই
—জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান

ছবি ক্যাপশন: চাঁদপুর ফাউন্ডেশন পরিচালনা কমিটির সভায় বক্তব্য রাখছেন জেলা প্রশাসক ও ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ জিয়াউর রহমান।
চাঁদপুর ফাউন্ডেশন পরিচালনা কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট ২০২৬) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ জিয়াউর রহমান।
|আরো খবর
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব এসএমএন জামিউল হিকমার সঞ্চালনায় সভায় চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত, গতিশীল ও জনকল্যাণমুখী করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের জন্যে বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং এ কাজে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সহযোগিতা ও সমন্বয়ের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের জন্যে একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন নিয়েও আলোচনা ও মতামত বিনিময় করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, আমরা এর আগেও একবার বসেছিলাম। চাঁদপুরের কল্যাণে বিভিন্নভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন—এমন ব্যক্তিদের নিয়ে চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে কীভাবে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছিলো। পরবর্তীতে আমরা চিন্তা করেছি, চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের পরিধি আরও বড় করতে হলে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সহযোগিতা ও সমন্বয় প্রয়োজন। সে লক্ষ্যেই আজ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের একসঙ্গে নিয়ে বসা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে এখন বড় একটি কাজ রয়েছে। বিশেষ করে চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের জন্যে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। এটি একটি বড় ধরনের নির্মাণকাজ। কাজটি যদি আমরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি, তাহলে ফাউন্ডেশনের জন্যে একটি স্থায়ী সম্পদ তৈরি হবে এবং ভবিষ্যতে চাঁদপুরের মানুষের কল্যাণে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে ফাউন্ডেশন একটি শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তিও পাবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এ ধরনের বড় কাজ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর কারিগরি, প্রশাসনিক ও সার্বিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেসব দপ্তরের কর্মকর্তারা দায়িত্বে রয়েছেন এবং যাদের চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, আপনাদের সবার আন্তরিক সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন। আপনাদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা কাজটিকে এগিয়ে নিতে চাই।
শিক্ষাবৃত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে কারা অগ্রাধিকার পাবে, কীভাবে যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করা হবে এবং কীভাবে একটি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়—এসব বিষয় নিয়ে একটি কার্যকর নীতিমালা তৈরি করতে হবে; যাতে প্রকৃত মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীরা এই বৃত্তির সুফল পায় এবং ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে একটি সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য কার্যক্রম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, আমরা চাই চাঁদপুর ফাউন্ডেশন শুধু একটি সংগঠন হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে চাঁদপুরের মানুষের কল্যাণে একটি কার্যকর ও স্থায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠুক। এজন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। আজকের সভার আলোচনার মাধ্যমে আমরা যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করছি, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।
সভায় চাঁদপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নূরুজ্জামান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, চাঁদপুর সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পী দত্ত রনি, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. শামসুল ইসলাম মন্টু, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জুনু, চাঁদপুর পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ মো. সোহরাব হোসেন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী উৎপল পোদ্দার, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতাহার ইকবাল, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (আরএইচডি) মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা কালচারাল অফিসার দিতি সাহা, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি তমাল কুমার ঘোষ, সোনালী ব্যাংক পিএলসি চাঁদপুর শাখার ম্যানেজার মো. মফিজ উদ্দীন, চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক মো. লোকমান হোসেন, উদয়ন শিশু বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসেন এবং কর্নার ডেভলপার্স লি.-এর প্রতিনিধি মো. জয়নাল আবেদীন অংশ নেন।
ডিসিকে /এমজেডএইচ







