প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৬
খাল খনন অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদারের কাজ বন্ধ, বিপাকে শত শত কৃষক

ফরিদগঞ্জ উপজেলায় খাল খনন প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে চলে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১২নং চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ফিরোজপুর বাজারের পশ্চিম ব্রিজ থেকে নদীর মাথা পর্যন্ত প্রায় ৫০০ ফুট খাল খননের কাজ নির্ধারিত থাকলেও পুরো কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাইট ত্যাগ করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় কৃষক হান্নান সিকদার কয়েকদিন পুর্বে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সরেজমিনে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) গিয়ে দেখা যায়, খাল খনন প্রকল্পের আওতায় আংশিক কাজ করা হলেও পুরো খাল খনন করা হয়নি। ফলে খালে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কৃষকরা এখনো তাদের চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না।
বিষকাটালি গ্রামের স্থানীয় কৃষক হোসেন সিকদার, আলমগীর বেপারী ও তুহিন বেপারীসহ অন্যরা জানান, খাল খননের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় যেখানে এক মাস আগেই খালে পানি আসার কথা ছিলো, সেখানে এক মাস পর মাত্র অল্প কিছু পানি এসেছে। এই পানি তাদের দুটি প্রকল্পে চাষাবাদের জন্যে মোটেও পর্যাপ্ত নয়। এর ফলে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
কৃষকরা আরও জানান, তারা একাধিকবার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শেষ করার কথা বললেও ঠিকাদার কাজ অসম্পন্ন রেখেই চলে যান।
অন্যদিকে পাশের গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউয়িনের পশ্চিম লড়াইচর গ্রামের বাসিন্দা ও কৃষক হোসেন পাটওয়ারী বলেন, খাল খননকারীরা নিজেদের খেয়াল খুশিমত খাল খনন করায় নাব্যতা সঠিক হয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড এগুলো তদারকি করেন, না দেখেই বিল প্রদান করেন সেটা বুঝি না। এভাবে খাল খনের নামে অর্থের অপচয় ও কৃষকদের সর্বনাশ। পানির অভাবে দু গ্রামের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও খাল খননের বাকি কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, তিনি কৃষকদের অভিযোগ পেয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছেন।








