প্রকাশ : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:১২
খুদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ব্যতিক্রমী সবজি উৎসব

'বেশি বেশি সবজি খাও, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হও, কৃষি ও কৃষকের পাশে দাঁড়াও'—এই প্রতিপাদ্যে চাঁদপুরে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দেশজ সবজি উৎসব। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) চাঁদপুর ল্যাবরেটরি স্কুলে এই ব্যতিক্রমী উৎসবের আয়োজন করা হয়। সবজি উৎসবে অংশ নেওয়া খুদে শিক্ষার্থীরা ডালায় সাজিয়ে আনা সবজির নাম এবং বিভিন্ন গুণাগুণ তুলে ধরে। পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থী চেনাজানা সবজি সম্পর্কে অপর শিক্ষার্থীকে অবহিত করে। শিশুদের দেশীয় সবজির প্রতি আকৃষ্ট করতে এবং শরীরের জন্যে ক্ষতিকারক চটকদার খাবার থেকে নিরুৎসাহিত করতে ব্যতিক্রমী এই আয়োজন করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। উৎসবে প্রায় ৩০টির অধিক দেশীয় সবজি নিয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এসব সবজির মধ্যে ছিলো বরবটি, শিম, মটরশুটি, ফুলকপি, ব্রকোলি, কুমড়া, কুমড়া ফুল, কাঁচা কলা, কলা গাছের আইলকা, বিভিন্ন প্রজাতির শাক, ধনেপাতা, লেটুসপাতা, বাঁধাকপি, সজিনা পাতা, লাউ, থানকুনিপাতা, গাজর, মূলা, শালগম, বিট, গোল আলু, মেটে আলু, পেঁপে, টমেটো, বেগুন, চাল কুমড়া, করলা, কাকরোল, ঢেঁড়শ, পটল, শসা ইত্যাদি।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মেহজাবিন, তাসরিক আরাফ, মৃন্ময়সহ অন্যরা বলে, এই আয়োজনের ফলে তারা অনেক সবজির সঙ্গে পরিচিত হয়েছে। সবজির গুণাগুণ সম্পর্কে নিজেরা জেনেছে এবং অপরকে জানাতে পেরেছে।
অভিভাবকরা জানান, শিশুরা একসঙ্গে এতো সবজি কখনও দেখার সুযোগ পায়নি। এই উৎসবের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন রকমের সবজি সম্পর্কে জানতে পেরেছে। এতে শিশুরা সবজি খাওয়ার প্রতি আকৃষ্ট হবে। দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে এ ধরনের আয়োজন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিভাবকরা।
চাঁদপুর ল্যাবরেটরি স্কুলের উপাধ্যক্ষ মৃদুল কান্তি দাস, সহকারী শিক্ষক নাজনীন হোসাইন, নুসরাত জাহান বলেন, বাংলাদেশে আর কোথাও এভাবে সবজি উৎসব করা হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। চাঁদপুরে আমরাই প্রথম সবজি উৎসবের আয়োজন করেছি। একসঙ্গে এত সবজি দেখে শিক্ষার্থীরা খুবই আনন্দিত হয়েছে। এই উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের দেশীয় সবজি চিনতে এবং জানতে পেরেছে।
স্কুলের অধ্যক্ষ মৃণাল কান্তি দাস বলেন, প্রতিটি মানুষের সুস্থ থাকতে প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এটি আবশ্যক। অথচ বর্তমান সময়ে শিশুরা পুষ্টিকর খাবারের চেয়ে চটকদার খাবারের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে। আমাদের দেশীয় ফল ও সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং ঔষধি গুণাগুণ থাকে। এসব শাকসবজি বা ফল আমাদের হাতের নাগালে পাওয়া যায়, যা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বেশিরভাগ সবজিই বারো মাস পাওয়া যায়। এসব দেশীয় সবজি হতে পারে আমাদের প্রতিদিনের পুষ্টির এক অনন্য উৎস। মূলত এই কারণেই শিক্ষার্থীদের সবজির প্রতি আকৃষ্ট করতে এবং শরীরের জন্যে ক্ষতিকর খাদ্য থেকে নিরুৎসাহিত করতে এ আয়োজন করা হয়েছে।
সবজি উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়। সবশেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের আনা সবজি দিয়ে খিচুড়ি রান্না করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের খাওয়ানো হয়।








