বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:২৬

সংসদ সদস্যদের চোখে ভবিষ্যৎ ফরিদগঞ্জ

জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মানুষের সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবে

............ মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী

অনলাইন ডেস্ক
জামায়াত ক্ষমতায় গেলে মানুষের সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। প্রতীক পাওয়ার পর প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ভৌগোলিক দিক থেকে ফরিদগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ জনপদ হলেও এখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। প্রতিটি নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু নির্বাচনের পর সেই প্রতিশ্রুতি ভুলে যান। ২৬৩ চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের মোট প্রার্থী ৮ জন। তাদেরই অন্যতম মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী। যিনি চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের মনোনীত প্রার্থী। তাঁর প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। আমাদের ফরিদগঞ্জ প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম ফরহাদের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : কেমন আছেন?

মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী : আলহামদুলিল্লাহ ভালো।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনি কি মনে করেন সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আপনি বিজয়ী হবেন?

মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী : ইনশাআল্লাহ, আমি পুরোপুরি আশাবাদী, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমি বিজয়ী হবো।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : জনগণ কেন আপনাকে ভোট দেবে?

মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী : জনগণ আমাকে এজন্যে ভোট দেবে, অতীতে তারা অনেক রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় দেখেছে। জামায়াতে ইসলামীকে যদিও ক্ষমতায় দেখেনি, কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সামাজিক কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য কর্মতৎপরতা এবং তাদের

নীতি-নৈতিকতা, যোগ্যতাকে মানুষ মূল্যায়ন করে ইনশাআল্লাহ এবার জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেবেন।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে 'হ্যাঁ' ভোটের গুরুত্ব কতোটুকু?

মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী : রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতে 'হ্যাঁ' ভোটের গুরুত্ব অত্যধিক। এটা এ জন্যে যে, বর্তমানে রাষ্ট্রকাঠামোয় প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য নেই। একজন ব্যক্তি ইচ্ছে করলে অনেক কিছু করতে পারবে। এটা যাতে না করতে পারে; এক ব্যক্তি যাতে দু বারের অধিক প্রধানমন্ত্রী না হতে পারে; ফ্যাসিবাদ যাতে আবার ফিরে না আসে--রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল পরিবর্তন করার জন্যে 'হ্যাঁ' ভোট দিতে হবে।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর বাংলাদেশের রাজনীতির গুণগতমান কতোটুকু পরিবর্তন হয়েছে?

মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী : স্বাধীনতার যে স্বপ্ন মানুষ লালন করছে তা সত্যিকার অর্থে অধরাই রয়ে গেছে। ধোঁকাবাজ এবং ফাঁকিবাজ নেতাদের কারণে মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ২৪-এর পট পরিবর্তনের পর মানুষ কিছুটা আশাবাদী হয়েছে, ইনশাআল্লাহ এবার মানুষ তাদের যে মৌলিক অধিকার সেটা ভোগ করতে পারবে। জামায়াতে ইসলামী এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর যে, আমরা যদি ক্ষমতায় যেতে পারি তাহলে মানুষের সকল ধরনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করবো।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : বাংলাদেশের নির্বাচনের একটি স্থায়ী ব্যবস্থা দরকার আছে বলে কি আপনি মনে করেন?

মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী : অবশ্যই স্থায়ী ব্যবস্থা দরকার। বাংলাদেশ কোন্ দিকে যাবে, কোন্ পথে চলবে তা নির্ধারণ হয় নির্বাচনের মাধ্যমে। সে জন্যে এই মাধ্যমটি হওয়া উচিত স্থায়ী, স্বচ্ছ, স্বাধীন এবং দলনিরপেক্ষ।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : সমাজে প্রচলিত আছে, জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচনের পর প্রতিশ্রুতি ভুলে যায়। এ কথা কতোটুকু সত্য?

মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী : এ কথা অসত্য-- এটা বলাই যাবে না। আমরা দেখেছি, নির্বাচনের পরে জনপ্রতিনিধিরা জনগণের খোঁজ খবর নেয় না। আমরা যদি নির্বাচিত হই, জনগণের এই ধারণা দূর করবো ইনশাআল্লাহ।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : শিল্প উন্নয়ন বলতে ফরিদগঞ্জে তেমন কিছুই নেই। আপনি বিজয়ী হলে শিল্প উন্নয়নে কাজ করার পরিকল্পনা আছে কি না?

মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী : আমাদের ফরিদগঞ্জের যুবকরা এবং বেকাররা কাজের সন্ধানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং প্রবাসে চলে যায়। যদি আমরা ফরিদগঞ্জে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করতে পারি, বিশেষ করে এখানে যদি শিল্প কারখানা সৃষ্টি করতে পারি, তাহলে জনগণ এলাকার বাইরে যেতো না। যদি এখানে কলকারখানা থাকতো, কাজের ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে এখানকার জনশক্তি নিজেদের পরিবার নিয়ে নিজ এলাকাতেই থাকতো এবং নিজ এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারতো।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : ভৌগোলিক দিক থেকে ফরিদগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখানে রেল যোগাযোগ নেই, নেই গ্যাস, যা শিল্প উন্নয়নের পূর্বশর্ত। এ বিষয়ে আপনি কী বলবেন?

মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী : এটা ঠিক ভৌগোলিক দিক থেকে ফরিদগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এই জনপদে গ্যাস নেই, রেলও নেই। রেল যোগাযোগ আসলে বললেই তো হবে না, এটা অনেক কঠিন কাজ। শিল্প উন্নয়নের জন্যে কীভাবে গ্যাস আনা যায় আমি নির্বাচিত হলে সে চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : ১৭ বছর পর নির্বাচন করছেন। অনুভূতি কেমন?

মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী : ১৭ বছর পর এখন উন্মুক্ত পরিবেশে মানুষ কথা বলার সুযোগ পেয়েছে। আমরা আশাবাদী, প্রত্যেক মানুষ তাদের মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। বিগত ৩/৪টি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। মানুষের অন্তরে সে বেদনা আছে। আশা করি সামনে সেই কষ্টের লাঘব হবে।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : শেখ হাসিনা সরকার দ্বারা কে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, বিএনপি নাকি জামায়াত?

মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী : শেখ হাসিনার সরকার দ্বারা জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে এতো বেশি ক্ষতি আর কারো হয়নি। জামায়াতে ইসলামীকে মাটির নিচে নেওয়ার জন্যে হাসিনা এমন কোনো কাজ নেই যা সে করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে। লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মীকে জেলখানায় বন্দী করে রেখেছে, গুম করেছে, খুন করেছে। আমরা বাড়িতে থাকতে পারিনি, আমাদের সন্তানদের মানুষ করতে পারিনি, আমরা আমাদের পরিবার- আত্মীয়-স্বজনদের হক আদায় করতে পারিনি, জনগণের কাছে যেতে পারিনি। এতো নিপীড়ন অন্য কোনো দলকে সহ্য করতে হয়নি। এদেশে সবচাইতে মজলুম সংগঠন হলো জামায়াতে ইসলামী।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : দল নিষিদ্ধ! প্রথম সারির নেতাদের মৃত্যুদণ্ড! আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রায় ধ্বংস করে দিয়েছে বিগত সরকার। তারপরও জমায়াতের সুশৃঙ্খল নেতৃত্ব এবং গণজোয়ারের রহস্য কী?

মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী : এটা রহস্যের কিছু না। আমাদের আদর্শ আমাদের প্রিয় নবী হয়রত মোহাম্মদ (সা.)। জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা যায় না। তারা আমাদের কাজের একটা দরজা বন্ধ করে, আমরা ১০টি দরজা খুলে ফেলি। জামায়াতের আর্থিক কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর লোকজন চাকরি করেন। তারা তাদের আয়ের কিছু অংশ সংগঠনে দেন।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : জামায়াতের সরকার চালানোর সক্ষমতা আছে?

মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী : জামায়াতে ইসলামী যদিও সরকার চালায়নি, তবে বিগত দিনে যেসব প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন তাদের সততা এবং যোগ্যতার যে স্বাক্ষর রেখেছেন, এর মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী একটা সরকার পরিচালনার জন্যে সক্ষম। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে আমরা আমাদের সৎ এবং যোগ্য লোক সৃষ্টি করতে পেরেছি। আমরা ইনশাআল্লাহ আশাবাদী, আমরা দেশ পরিচালনায় অত্যন্ত যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারবো।

দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ : সময় দেওয়ার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ?

মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী : আপনাকেও ধন্যবাদ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়