রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫  |   ৩১ °সে
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ২১:১৫

কচুয়ায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমির বালু উত্তোলন।। প্রশাসন নিষ্ক্রিয়

কচুয়ায় অবৈধ ড্রেজার দিয়ে ফসলি জমির বালু উত্তোলন।।  প্রশাসন নিষ্ক্রিয়
মো. নাছির উদ্দিন।

কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একাধিক স্থানে ফসলি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের হিড়িক পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, অভিযোগ দেয়া সত্ত্বেও উপজেলা প্রশাসন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বর্তমানে ড্রেজার মালিক ও বালু ব্যবসায়ীদের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি। ফসলি জমি নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে অনেক কৃষক। এছাড়া দিন দিন ভূখণ্ডের ভারসাম্য হুমকির মুখে রয়েছে। ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ ও ফসলি জমি রক্ষায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

শনিবার (৩০ আগস্ট ২০২৫) সরজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সাচার ও বিতারা ইউনিয়নের বজুরীখোলা, রাগদৈল, দুর্গাপুর, বাইছারা ও বিতারার ঘোগড়া বিলে প্রায় ১২টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে ভূমিদস্যুরা। উপজেলার সবচেয়ে বড়ো ফসলি মাঠ ঘোগরার বিল এখন অবৈধ ড্রেজার মেশিনের দখলে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে না বলে স্থানীয় কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পার্শ্ববর্তী পাথৈর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের দক্ষিণ পশ্চিম পাশে মিয়াজী বাড়ির সাথে ফসলি মাঠ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন প্রভাবশালী একটি মহল। একই ইউনিয়নের আটোমোড় বাজারের উত্তর-পশ্চিম পাশে ফসলী মাঠে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে একটি প্রভাবশালী মহল। ওই এলাকার কৃষকরা নিরূপায় হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাননি বলে ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান। এছাড়া কচুয়া উত্তর ও সদর দক্ষিণ ইউনিয়নের তেতৈয়া, দোয়াটি, ঘাগড়া ও রাজাপুরের ফসলি মাঠে ৫টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে যাচ্ছে ভূমিদস্যুরা। পালাখাল মডেল ইউনিয়নের কচুয়া-সাচার সড়কের পশ্চিম পাশে বাছাইয়া আলী আশ্রাফ ব্রিকফিল্ডের সাথে ফসলি জমি নষ্ট করে দীর্ঘদিন ধরে একটি অবৈধ ড্রেজার মেশিন বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অবৈধ ড্রেজার মেশিন বন্ধের দাবিতে ফেসবুক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখি করলেও ব্যবস্থাগ্রহণ করছে না প্রশাসন।

তেতৈয়া গ্রামের একাধিক কৃষকরা জানান, তেতৈয়া, ঘাগড়া ও দোয়াটি ফসলি জমির মাঠে কয়েক বছর যাবৎ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে কয়েকটি চক্র। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকবার অভিযান পরিচালনা করলেও পরবর্তীতে প্রভাবশালী লোকদের ম্যানেজ করে পুনরায় অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি অব্যাহত রয়েছে।

বজুরীখোলা ও সাচারের কৃষকরা জানান, ভূমি অফিস, সাচার পুলিশ ফাঁড়ি ও কিছু সংবাদকর্মীকে ম্যানেজ করে একাধিক স্থানে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বছরের পর বছর বালু উত্তোলন করে আসছে। এগুলো দেখার কেউ নেই। এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.আবু নাছির বলেন, উপজেলায় কেউ ফসলি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করার তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়