মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   ১৬-২৫ মার্চ নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

প্রকাশ : ০৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৪২

‘ক্রীড়াকণ্ঠে’র সাথে সাক্ষাৎকারে জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ

মাদক ও স্মার্টফোন আসক্তি রুখতে ক্রীড়াচর্চার বিকল্প নেই

শিক্ষা অধিদপ্তর ও আমাদের কার্যালয় থেকে সপ্তাহে একদিন অন্তত এক ঘণ্টা ক্রীড়া অনুশীলনের বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : বিশেষ প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন
মাদক ও স্মার্টফোন আসক্তি রুখতে ক্রীড়াচর্চার বিকল্প নেই

চাঁদপুর জেলার শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এবং শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ক্রীড়াচর্চাকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন বর্তমান চাঁদপুরের জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ। সম্প্রতি ‘দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ’-এর জনপ্রিয় ক্রীড়া পাতা ‘ক্রীড়াকণ্ঠ’-এর মুখোমুখি হয়ে তিনি জেলার ক্রীড়া পরিস্থিতি, মাদ্রাসার অবস্থান, শিক্ষকদের জবাবদিহিতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্যে সেই আলাপচারিতার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো :

ক্রীড়াকণ্ঠ : লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রীড়াচর্চার গুরুত্ব তো শুধু মুখে মুখে শোনা যায়, বাস্তবে এর প্রতিফলন কি দেখা যায়?

মোহাম্মদ রুহুল্লাহ : এটি একদম অনস্বীকার্য। আমরা মুখে গুরুত্বের কথা বললেও মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়নে এখনো বেশ ঘাটতি রয়ে গেছে। তবে আমরা এই স্থবিরতা ভাঙতে কাজ করছি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনি যোগদানের পর ক্লাবভিত্তিক ক্রীড়াচর্চায় জোর দিয়েছিলেন এবং ২০২৬-এর জানুয়ারি থেকে তা কার্যকরের কথা ছিলো। বর্তমান বাস্তবতা কী?

মোহাম্মদ রুহুল্লাহ : অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে এটি বাস্তবায়ন করেছে। তবে আমাদের জনবল বা অফিসারের সংকটের কারণে নিয়মিত তদারকি (মনিটরিং) কম হওয়ায় এখনো শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। তবে প্রক্রিয়াটি চলমান আছে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : মাদ্রাসায় ক্রীড়াচর্চা নেই বললেই চলে। ইসলামে কি এটি নিষিদ্ধ?

মোহাম্মদ রুহুল্লাহ : বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। ইসলামে ক্রীড়াচর্চাও একটি ইবাদত। এ সম্পর্কে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুস্পষ্ট হাদিস ও নির্দেশনা রয়েছে। চাঁদপুর জেলার অনেক মাদ্রাসায় এখন ক্রীড়াচর্চা শুরু হয়েছে এবং নিয়মিত ক্রীড়া অনুষ্ঠান হচ্ছে। আমি নিজেও বেশ কিছু মাদ্রাসার ক্রীড়া অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। এমনকি মাদ্রাসাগুলোকে সাপ্তাহিক জলসা (সভা) আয়োজনের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : ক্রীড়া শিক্ষকরা মাঠের চেয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

মোহাম্মদ রুহুল্লাহ : নিয়ম অনুযায়ী যিনি যে বিষয়ের শিক্ষক তাকে সেই বিষয়ের ক্লাস নিতে হবে। তবে একই সাথে ক্রীড়া শিক্ষকদের দায়িত্ব হলো ক্লাবভিত্তিক কার্যক্রমগুলো নিবিড়ভাবে মনিটরিং করা। আমরা তাদের সেভাবেই তদারকির আওতায় আনছি।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনি কি স্বীকার করবেন যে, বর্তমান শিক্ষার্থীরা মাদক ও স্মার্টফোনের আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে এবং এর প্রতিকারে খেলাধুলার ভূমিকা কতোটুকু?

মোহাম্মদ রুহুল্লাহ : আপনার ধারণা অনুযায়ী এই প্রবণতা কিছু প্রতিষ্ঠানে রয়েছে এবং এটি চিরন্তন সত্য যে, শিক্ষার্থীরা আগের চেয়ে মাঠে কম যাচ্ছে। এর ফলে তারা মাদক ও মোবাইলের দিকে ঝুঁকছে। এই ভয়াবহ আসক্তি থেকে ফেরাতে ক্রীড়াচর্চার কোনো বিকল্প নেই। শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি ক্রীড়া দক্ষতা দিয়ে একজন শিক্ষার্থী বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজের ও দেশের জন্যে গৌরব বয়ে আনতে পারে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : অনেক প্রতিষ্ঠান বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা না করেই কেবল আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়। আপনি কি এ বিষয়ে অবহিত?

মোহাম্মদ রুহুল্লাহ : হ্যাঁ, কিছু প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই প্রবণতা রয়েছে। তবে আমরা এটি রোধে শক্ত পদক্ষেপ নিয়েছি। শিক্ষা অধিদপ্তর ও আমাদের কার্যালয় থেকে সপ্তাহে একদিন অন্তত এক ঘণ্টা ক্রীড়া অনুশীলনের বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জেলা শিক্ষা অফিস থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহপাঠক্রমিক কার্যক্রম এবং ক্লাব ও দলভিত্তিক হাউজ গঠন করে কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্যে লিখিত পত্রের মাধ্যমে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : শিক্ষার মানোন্নয়নে আপনার বিশেষ কোনো বক্তব্য আছে কি?

মোহাম্মদ রুহুল্লাহ: আমি মনে করি, সহপাঠক্রমিক কার্যাবলিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে পারলে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। তবে এখানে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থী বছরের পর বছর ফেল করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। একই সাথে আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে কোচিং বাণিজ্যের অবসান ঘটাতে হবে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : শিক্ষকদের মর্যাদা ও বেতন কাঠামো নিয়ে আপনার প্রস্তাবনা কী?

মোহাম্মদ রুহুল্লাহ : শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে আলাদা বেতন স্কেল প্রবর্তন করা সময়ের দাবি। একজন শিক্ষকের বেতন এমন হওয়া উচিত যাতে দেশের সেরা মেধাবীদের এক নম্বর পছন্দের পেশা হয় শিক্ষকতা। তবেই দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে।

ক্রীড়াকণ্ঠ : আমাদের সময় দেওয়ার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ।

মোহাম্মদ রুহুল্লাহ : ধন্যবাদ ‘ক্রীড়াকণ্ঠ’ এবং চাঁদপুর কণ্ঠ পরিবারকে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়