প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০৫
চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির পদে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁদপুর জেলা শাখার আমির হিসেবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী।
বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) দলটির পক্ষ থেকে ২০২৭-২৮ কার্যকালের জন্য নির্বাচিত জেলা ও মহানগর আমিরদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে চাঁদপুর জেলা আমির হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী। এবার জেলার প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন রোকনের সরাসরি ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন।
এর আগে ২০২৫-২৬ কার্যকালের জন্যও তিনি প্রথমবারের মতো জেলা আমিরের দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য। এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-৪ আসনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী।
শিক্ষাজীবন :
মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজী ১৯৮০ সালে ফরিদগঞ্জ নোয়াপাড়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে দাখিল এবং ১৯৮২ ও ১৯৮৪ সালে লতিগঞ্জ সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে যথাক্রমে আলিম ও ফাজিল পাস করেন। ১৯৮৬ সালে ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল এবং ১৯৮৮ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে বিএ (ডিগ্রি) সম্পন্ন করেন।
রাজনৈতিক ও পেশাগত পরিচিতি :
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি ১৯৮১ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ফরিদগঞ্জ উপজেলা সভাপতি, ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর শহর শিবিরের সভাপতি, ১৯৮৮-৯০ সালে জেলা শিবিরের সেক্রেটারি এবং ১৯৯২ সাল পর্যন্ত জেলা শিবিরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯২ সালে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত চাঁদপুর পৌর জামায়াতের আমিরের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০১ সাল থেকে তিনি জেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক, জেলা সেক্রেটারি ও নায়েবে আমিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৯২ সালে চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমী স্কুল অ্যান্ড কলেজে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট :
১৯৯০-এর দশকে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে তিনি প্রায় ৭ মাস কারাবন্দী ছিলেন। এ ছাড়া ১৯৮৬ সালে চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি ছাত্রশিবির প্যানেল থেকে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে বর্তমানে ৪টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ৮ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সপ্তম। বর্তমানে তাঁর তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
নতুন মেয়াদে দ্বিতীয়বারের মতো জেলা আমির নির্বাচিত হওয়ায় চাঁদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মাঝে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
সূত্র : দৈনিক চাঁদপুর দিগন্ত।








