প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ১৪:৩০
প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর সফরের আগে বৃষ্টির শঙ্কা
১৩-১৫ মে ভারী বর্ষণ ও বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস, ১৬ মে-তেও থাকতে পারে বৃষ্টির সম্ভাবনা

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর বিভাগের পাশাপাশি মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এর প্রভাবে চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রঝড়, দমকা হাওয়া এবং সাময়িক জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
|আরো খবর
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী ১৩ মে সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি ও কালবৈশাখী ঝড় হতে পারে। কোথাও কোথাও ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত এবং কিছু এলাকায় ৮৮ মিলিমিটারের বেশি অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।
চাঁদপুরের আবহাওয়া পরিস্থিতি নিয়েও রয়েছে বিশেষ সতর্কতা। এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ফোরকাস্টিং বিভাগের ইনচার্জ ড. বজলুর রশিদের সাথে মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন “আগামী ১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত চাঁদপুর অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের প্রায় সব এলাকাতেই বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।”
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৬ মে চাঁদপুর সফরে আসার কথা রয়েছে। ওই দিনের আবহাওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “১৬ মে বৃষ্টি কিংবা ঝড়ের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম, তবে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ১৪ মে’র পর আরও নির্ভুল পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হবে।”
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে দেশের প্রায় সব বিভাগেই বজ্রসহ বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
চাঁদপুরে আগামী কয়েকদিন তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বাতাসে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। নদী তীরবর্তী এলাকা ও নিম্নাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতার শঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে শহরের নিচু এলাকাগুলোতে বৃষ্টির পানি জমে জনদুর্ভোগ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, নদী বা উঁচু স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছে। মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
চাঁদপুরের কৃষকদের মধ্যেও এ বৃষ্টিপাত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘ দাবদাহের পর বৃষ্টি ফসলের জন্যে উপকারী হলেও টানা ভারী বর্ষণ হলে আমন বীজতলা ও মৌসুমি সবজি চাষে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া বিশ্লেষকদের ধারণা, মে মাসজুড়ে দেশে ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া ঝড়-বৃষ্টির সময় বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।








