প্রকাশ : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৪০
ডুপ্লিকেট ব্যালট, জাল সিল ও রাষ্ট্র দখলের নীলনকশা
গণতন্ত্র হত্যার প্রকাশ্য মহড়া!

|আরো খবর
এই আয়নায় যে প্রতিবিম্ব দেখা যাচ্ছে, তা ভয়ংকর: একটি রাষ্ট্রযন্ত্র, যেখানে ভোট আর নাগরিক অধিকারের প্রতীক নয়; বরং ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার কৌশলমাত্র।
এতদিন ডুপ্লিকেট ব্যালট ও জাল সিল-এর কথা বললে শাসকগোষ্ঠী এটিকে গুজব, অপপ্রচার বা বিরোধীদের রাজনৈতিক কান্নাকাটি বলে উড়িয়ে দিয়েছে। আজ সেই গুজবই রক্ত-মাংসের বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে—যদি লক্ষ্মীপুরে ধরা পড়ে, তবে দেশের অন্যান্য জেলায় কতগুলো অদৃশ্য জালিয়াতির কেন্দ্র এখনো সক্রিয়?
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ
ভোটের সিল কোনো সাধারণ অফিস স্টেশনারি নয়। এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতার প্রতীক। সেই সিল যদি একটি বেসরকারি ছাপাখানায় তৈরি হয়, তবে ধরে নিতে হবে—রাষ্ট্র তার ক্ষমতার চাবিকাঠি নিজেই তুলে দিয়েছে একটি চক্রের হাতে।
‘একজন প্রেস মালিক’ অপরাধী—এই ব্যাখ্যা কেবল হাস্যকরই নয়, বিপজ্জনক। কারণ এতে মূল নির্দেশদাতারা আড়ালে থেকে যায়।
লক্ষ্মীপুরের ঘটনা স্পষ্ট করে দেয়—নির্বাচনব্যবস্থা এখন আর ভাঙনের পথে নয়; এটি কার্যত দখল হয়ে গেছে।
ইলেকটোরাল ইঞ্জিনিয়ারিং: ক্ষমতা ধরে রাখার কারিগরি
বাংলাদেশে এখন নির্বাচন মানে আর জনমত যাচাই নয়; নির্বাচন মানে ফল ম্যানেজ করা। ভোটার তালিকা থেকে ব্যালট বাক্স পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ পূর্বনির্ধারিত।
ডুপ্লিকেট ব্যালট ও জাল সিল এই ব্যবস্থার সবচেয়ে নীরব কিন্তু কার্যকর অস্ত্র।
ব্যালট পুশ: জনগণের রায়ের ওপর ডাকাতি
এটি সেই ডাকাতি, যেখানে বন্দুক নয়—ব্যবহার হয় জাল ব্যালট। ফলে বাক্স খুললে দেখা যায়—ভোট হয়েছে, কিন্তু ভোট দেয়নি জনগণ।
ভোটাধিকার হরণ মানে রাষ্ট্রের বৈধতা হরণ
ডুপ্লিকেট ব্যালট দিয়ে গঠিত কোনো সংসদ নৈতিকভাবে অবৈধ। ইতিহাস বলে—এমন রাষ্ট্র টিকে থাকে কেবল ভয় ও দমন দিয়ে।
নীরবতা নয়, প্রতিরোধই এখন রাজনীতি
আজ নীরব থাকলে আগামীকাল ভোট থাকবে না—থাকবে শুধু নির্বাচনের প্রহসন। গণতন্ত্র ভিক্ষা নয়—এটি ছিনিয়ে আনতে হয়।
ভোটের সিলের পবিত্রতা রক্ষা মানেই রাষ্ট্রকে রক্ষা করা। ইতিহাস আমাদের দেখছে—আমরা নীরব থাকি, নাকি প্রতিরোধ গড়ি।
লেখক : অধ্যাপক মোঃ জাকির হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা বিএনপি।
ডিসিকে/এমজেডএইচ








