রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:২৭

বিবি হালিমার কোলে

প্রসঙ্গ : দুধবোনের সাথে বকরী চড়ানো-মেঘমালার ছায়াদান-বক্ষ-বিদারণ

অনলাইন ডেস্ক
বিবি হালিমার কোলে

মক্কার শরীফ খান্দানের প্রথা অনুযায়ী প্রত্যেক শিশুকেই ধাত্রী মায়ের ঘরে দুধপান ও লালন পালন করানো হতো- পারিশ্রমিকের বিনিময়ে। উদ্দেশ্য ছিল-শহরের কোলাহল এবং বহু লোকের সংমিশ্রণ থেকে দূরে রেখে একক বিশুদ্ধ আরবী ভাষায় শিশুর প্রথম ভিত্তি স্থাপন করা। মক্কার অদূরে তায়েফের বনী ছকিফ ও বনি হাওয়াযেন গোত্র ছিল বিশুদ্ধ আরবী ভাষার অঞ্চল। নবী করীম (দ.)-এঁর বয়স যখন ১৬/১৭ দিন, তখন তায়েফের বনী ছকিফ গোত্রের হালিমা সা’দিয়া নাম্নী এক দরিদ্র মহিলা তাঁর দুধ মা হবার সৌভাগ্য অর্জন করেন। কবিলার অন্যান্য মহিলাদের সাথে বিবি হালিমা পালক শিশু সংগ্রহের উদ্দেশ্যে মক্কায় আগমন করেন। কিন্তু‘ গরীব বলে কেউ তাঁকে সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব দিতে ইচ্ছুক ছিলো না। ইত্যবসরে অপেক্ষাকৃত সামর্থ্যবান অন্যান্য সাথী মহিলাগণ ধনী ঘরের সন্তান সংগ্রহ করে ফেলেছে। ইয়াতিম ও গরীব বলে কেউ শিশু নবীকে গ্রহণ করলো না।

এমতাবস্থায় স্বামীর সাথে পরামর্শ করে বিবি হালিমা ইয়াতীম শিশুনবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (দ.)-কে পালিতপুত্র হিসেবে গ্রহণ করতে রাজী হলেন। বিবি হালিমা রেশমী বিছানায় ঘুমন্ত শিশু নবীর বুকে হাত স্থাপন করতেই মুচকি হাসির ঝলক ছড়িয়ে শিশুনবী জেগে উঠলেন এবং বিবি হালিমার দিকে আকর্ষণীয় দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন। বিবি হালিমা বলেন, “আমি শিশুনবীর চোখ হতে একটি নূর বের হয়ে আকাশের মহাশূন্যে মিশে যেতে প্রত্যক্ষ করলাম। আমি তাঁর কপালে চুমু খেয়ে তাঁকে কোলে তুলে নিয়ে ডান স্তনের দুধ পান করতে দিলাম। শিশুনবী তৃপ্তি সহকারে দুধ পান করলেন। অতঃপর বাম স্তন থেকে দুধপান করানোর চেষ্টা করলে তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন। দুধপানকালীন পূর্ণ সময়ই শিশুনবীর এই নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। কেননা, আমার কোলে আমার আপন শিশু আবদুল্লাহ তাঁর দুধ শরীক ভাই ছিল। নবী করীম (দ.)-এঁর এই ইনসাফপূর্ণ ব্যবস্থা দেখে আমি অভিভূত হয়ে যেতাম।”

অন্যদের ন্যায্য হক প্রদানের নির্দেশসহ ৪০ বৎসর পর কোরআন নাযিল হয়। কিন্তু‘ শিশুনবী (দ.) কোরআন নাযিলের বহু পূর্বেই কোরআনের ইনসাফপূর্ণ সম্পদ বন্টনের নীতি বাস্তবায়িত করে বিশ্বজগতকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। নবীগণ আরেফ বিল্লাহ হয়েই জন্মগ্রহণ করেন। তিনি শিশুকাল থেকেই সকলের জন্য ইনসাফের আদর্শ স্থাপন করেছেন। তাঁর পূর্ণ জীবনই আমাদের জন্য আদর্শ।

বিবি হালিমা বলেন, “আমাদের অঞ্চলে তখন দুর্ভিক্ষাবস্থা বিরাজ করছিল। কিন্তু‘ আল্লাহর অসীম কুদরতে আমার পালিত পুত্রের বরকতে আমাদের কোনো অভাব ছিলো না। অন্যান্য পরিবারের মেষ ও ছাগপালের দুধ শুকিয়ে গিয়েছিল খাদ্যের অভাবে। কিন্তু‘ আমাদের ছাগ ও মেষপাল দিনের শেষে ঘরে ফিরে আসতো দুধভরা স্তন নিয়ে। আমরা ঐ দুধে সকলেই তৃপ্ত হতাম। এভাবেই আমাদের অভাব দূর হয়ে গেল। প্রতিবেশীরা অধিক খাদ্যের আশায় তাদের মেষরাশি আমাদের মেষপালের সাথে একই স্থানে পাঠাতো। কিন্তু‘ তাদের মেষপালগুলো ফিরে আসতো খালী পেটে; আর আমাদের মেষপাল আসতো ভরাপেটে-স্তনভর্তি দুধ নিয়ে। আমার স্বামী এ অবস্থ’া দেখে বলতেন, ”হালিমা! আমাদের এ সন্তান ভবিষ্যতে অতি উঁচুদরের মানুষ হবে”। (চলবে)

সূত্র : নূরনবী। লেখক : অধ্যক্ষ এমএ জলিল (র.)।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়