মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৩১

দাউদকান্দিতে বেইলি সেতু ধসে চাঁদপুরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, চরম দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
দাউদকান্দিতে বেইলি সেতু ধসে চাঁদপুরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, চরম দুর্ভোগে লক্ষাধিক মানুষ

বেইলি সেতু ধসে চাঁদপুরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খামারপাড়ায় খিরাই নদের ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু ভেঙে পড়ে চাঁদপুরের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এতে চাঁদপুর সদর ও মতলবসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।

গত রোববার (২ আগস্ট) ইটের বোঝাই একটি বাল্কহেডের ওপর সেতুটি ধসে পড়ে। ঘটনার সময় বাল্কহেডের চালক, সুকানি, সহকারীসহ ১৭ জন শ্রমিক নদীতে সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পেলেও তাদের মুঠোফোন, টাকা ও ব্যক্তিগত সামগ্রী পানিতে তলিয়ে যায়।

ঘটনার নেপথ্য ও স্থানীয়দের ক্ষোভ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ থাকা এই সেতুটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছিলো। স্থানীয় ব্যবসায়ী মজনু মিয়ার ভাষ্যমতে, বর্ষার পানিতে সেতুর পাটাতনে মরিচা ধরে তা আগেই দুর্বল হয়ে পড়েছিলো। প্রায়ই পাটাতন দেবে গিয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটতো।

পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি মেরামতের উদ্যোগ নিলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর অনুপস্থিতিতে শ্রমিকরা অপরিকল্পিতভাবে সংযোগের নাট খুলে ফেলেন। এর ফলেই পুরো সেতুটি ভেঙে নিচে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই মেরামতকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় স্থবির জনজীবন

সেতু ধসে পড়ার ফলে চাঁদপুর-মতলব রুটে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে খামারপাড়া, গৌরীপুর এবং মতলবগামী মানুষকে এখন ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পথ ঘুরে বিকল্প উপায়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী ও ব্যবসায়ীরা। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এবং নদী পারাপারে একমাত্র ভরসা নৌকা হওয়ায় জরুরি মুহূর্তেও গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দাউদকান্দি উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, সেতুটি অপসারণ বা খোলার কাজের দায়িত্ব একজন ঠিকাদারকে দেওয়া হয়েছিলো। তবে কাজটি করার সময় অসাবধানতা ও অজ্ঞতার কারণে সেতুটি ভেঙে নিচে পড়ে যায়। তিনি আরও জানান, দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা দ্রুত বেইলি সেতু মেরামত কিংবা বিকল্প পারাপারের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনজীবন স্বাভাবিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়