প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০২:৫০
ওমরাহ পালনে যাওয়ার পথে সৌদিতে পিষে দিল ঘাতক যান: মা ও দুই সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু, সংকটাপন্ন বাবা-ছেলে

|আরো খবর
ঘটনাটি ঘটেছে গত ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সৌদি স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টা) রিয়াদ থেকে মক্কাগামী মহাসড়কের প্রায় ৩০০ কিলোমিটার অতিক্রম করার পর।
নিহত ও আহতদের পরিচয়
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন—
তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫): তিনি ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম নাজিমুদ্দিন মোল্লার সেজো মেয়ে।
তাসবিক (২০): তিনি ফিনল্যান্ডে উচ্চশিক্ষারত ছিলেন এবং ছুটিতে পরিবারের কাছে এসেছিলেন।
জারা (১৫): তানিয়ার ছোট মেয়ে।
গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন:
শফিকুল ইসলাম খোকন: তানিয়ার স্বামী, যাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায়।
নাবিল: তাঁদের বড় ছেলে।
যেভাবে ঘটেছিল সেই বিভীষিকাময় দুর্ঘটনা
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে রিয়াদে বসবাস করছিলেন ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম খোকন। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের প্রাইভেটকার চালিয়ে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি।
নিহত তানিয়ার ভাই তৌহিদ মোহাম্মদ মুরাদ ও মামাতো ভাই নাসিম আহমেদ কবীর জানান, রিয়াদ থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি দ্রুতগতির ভারী যানবাহন তাঁদের প্রাইভেটকারটিকে সজোরে সপটে ধাক্কা দেয়। এতে মুহূর্তের মধ্যে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। তীব্র আঘাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তানিয়া তাহমিনা ও তাঁর দুই সন্তান তাসবিক ও জারা।
মরদেহ রাখা হয়েছে হাসপাতালে, দেশে স্বজনদের আহাজারি
খবর পেয়ে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাপ্লুত অবস্থায় শফিকুল ইসলাম ও বড় ছেলে নাবিলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। নিহত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় খাসরা মেডিকেল হাসপাতাল-এর মর্গে রাখা হয়েছে।
একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন আকস্মিক প্রাণহানির খবরে দেশে থাকা স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে মাতম ও শোকের মাতম। ফরিদপুরের সালথা ও কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিজ গ্রামে এখন শুধুই স্বজনদের আর্তনাদ। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনা এবং আহতদের চিকিৎসায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শোকাহত স্বজনেরা।
ডিসিকে /এমজেডএইচ








