বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১

শাহরাস্তি ক্রিকেট একাডেমি একদিন হতে পারে জেলার গর্ব

অনলাইন ডেস্ক
শাহরাস্তি ক্রিকেট একাডেমি একদিন হতে পারে জেলার গর্ব

শাহরাস্তি ক্রিকেট একাডেমি পরিদর্শন করেছেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. নাজিম উদ্দিন। ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ডে মনোনীত শাহরাস্তি ক্রিকেট একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সাদ্দাম হোসেন মিঠুর কর্মকাণ্ড সরেজমিনে দেখতে সরকারি সফরে তিনি শাহরাস্তিতে আসেন। এ সময় ক্রিকেট একাডেমি পরিদর্শন করেন এবং বিগত বছরগুলোতে শাহরাস্তি প্রিমিয়ার লিগের কর্মকাণ্ডের ভিডিও চিত্র দেখেন। উপ-সচিব নাজিম উদ্দিন এ সময় সাদ্দাম হোসেন মিঠুর ক্রীড়া উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে সবাইকে মিঠুর পাশে দাঁড়ানোর জন্যে আহ্বান জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুরের ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর কফিল উদ্দিন, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হুমায়ূন কবির, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাহাবুব উল আলম, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. মঈনুল ইসলাম কাজলসহ আরো অনেকে।

সাদ্দাম হোসেন মিঠু একজন ক্রিকেটপাগল যুবক। তিনি নিজে একজন ভালো ক্রিকেটার, যিনি আরো ভালো ক্রিকেটার হওয়ার চেষ্টা করছেন। সাথে সাথে শাহরাস্তি উপজেলা ও সন্নিহিত অঞ্চল থেকে ভালো ক্রিকেটার বানানোর মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তিনি একটা স্ট্যান্ডার্ড ফর্মে টেপ টেনিস ক্রিকেট নিয়ে শাহরাস্তি প্রিমিয়ার লিগ (এসপিএল) চালিয়েছেন তিন মৌসুম। সামনে হয়তো আরো চালাবেন। তার এই এসপিএলকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেট লিজেন্ডদের যতোজন শাহরাস্তির সূচীপাড়াতে এসেছেন, চাঁদপুর সহ দেশের অনেক জেলা সদরেও ততোজন যান নি। তার এসপিএলকেন্দ্রিক শাহরাস্তির প্রত্যন্ত এলাকা সূচীপাড়া যেভাবে পুরো জেলাবাসীসহ দেশবাসী ও ক্রিকেটবোদ্ধাদের নিকট পরিচিতি লাভ করেছে, এমন পরিচিতি অনেক উপজেলা সদর এখনও পায় নি।

সাদ্দাম হোসেন মিঠু ক্রিকেটের জন্যে নিজের সামর্থ্যের বাইরে অনেক কিছু করার চেষ্টা করছেন। প্রবাসীরা তার এ চেষ্টায় শামিল হয়েছেন। স্থানীয়-অস্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান স্পন্সর হয়ে তার এসপিএল আয়োজনকে প্রণোদনা দিলেও সেটা পর্যাপ্ত নয়। সেজন্যে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব স্থানীয় পর্যায়ে সবাইকে মিঠুর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এমন আহ্বানে অবশ্যই সাড়া মিলবে বলে আশা রাখি। মনে রাখতে হবে, সাদ্দাম হোসেন মিঠুর মতো ক্রীড়াপাগল, ক্রিকেটপাগল কিন্তু দেশের সর্বত্র ভুরি ভুরি দেখা যায় না। এরা বিরলদৃষ্ট। এমন বিরল যুবকের একজন কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে শাহরাস্তিতে জন্মেছে।

সরকারের ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ডে মনোনীত সাদ্দাম হোসেন মিঠুকে আমরা অভিনন্দন জানাই। আমাদের আত্মশ্লাঘা এইখানে যে, চাঁদপুর কণ্ঠে ও ক্রীড়াকণ্ঠে সাদ্দাম হোসেন মিঠু, তার শাহরাস্তি ক্রিকেট একাডেমি, শাহরাস্তি প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে আমরা বহুবার প্রতিবেদন ছেপেছি। অনুরূপভাবে যদি চাঁদপুরের জেলা পর্যায়ে কর্মরত ও শাহরাস্তি উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা শাহরাস্তি ক্রিকেট একাডেমির কর্মকাণ্ড প্রতিবেদন আকারে তুলে ধরেন, তাহলে টেকসই অস্তিত্ব ও ক্রিকেটবান্ধব কর্মসূচির সামগ্রিকতায় এই একাডেমিটি অগ্রসর হতে থাকবে। তবে এই একাডেমির অগ্রযাত্রায় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক অনুদান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করা দরকার। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির আন্তরিক সহযোগিতাও প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি অব্যাহত প্রণোদনা-সহযোগিতায় সাদ্দাম হোসেন মিঠুর একনিষ্ঠতা ও সর্বাত্মক আত্মনিবেদনে একদিন এই একাডেমি সুপ্রতিষ্ঠিত হবে, ক্রিকেটীয় সাফল্য ও কৃতিত্বে সমৃদ্ধ হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তখন শুধু শাহরাস্তি উপজেলা নয়, চাঁদপুর জেলারও অন্যতম গর্ব হতে পারে শাহরাস্তি ক্রিকেট একাডেমি-আমাদের দূরদৃষ্টিতে এমন প্রতীতি আমরা ব্যক্ত করতেই পারি, যেটা আত্যন্তিকতার দোষে দুষ্ট হবে না বলে মনে করি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়