বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০০

চিত্রাঙ্কন, লেখালেখি ও সংস্কৃতিচর্চায় একের পর এক সাফল্য

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের প্রতিভা ফুটিয়ে তুলছেন শাহরাস্তির মিভা

সংস্কৃতি অঙ্গন প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের প্রতিভা ফুটিয়ে তুলছেন শাহরাস্তির মিভা

চিত্রাঙ্কন, ফটোগ্রাফি, লেখালেখি ও আবৃত্তি, সৃজনশীলতার নানা শাখায় অল্প বয়সেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার কৃতী সন্তান মোহাইমিন সুলতানা মিভা। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একের পর এক অর্জনের মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের পরিচয়ই গড়ে তোলেননি, গর্বিত করেছেন চাঁদপুরকেও। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই তরুণ শিল্পী ও লেখক নতুন প্রজন্মের জন্য হয়ে উঠেছেন অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

চিত্রাঙ্কনে মিভার আন্তর্জাতিক সাফল্যের ঝুলিও বেশ সমৃদ্ধ। ২০২৪ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইয়াং আর্টিস্টস এক্সপো, টোকিওর ক্রিয়েটিভ স্পেস একাডেমিয়া এবং সান্তা মনিকার একটি গ্যালারিতে তার আঁকা ছবি প্রদর্শিত হয়। বিশ্বের ৩৮টি দেশের প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায় তার শিল্পকর্ম শীর্ষ ৬০-এর মধ্যে স্থান লাভ করে। এছাড়া ভারতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি।

দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ২২তম বুসান ইন্টারন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট আর্ট ফেস্টিভ্যাল (ইওঊঅঋ ২০২৫)-এ বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্যেও আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ পান মিভা।

আন্তর্জাতিক শিল্পাঙ্গনে তার কাজের উজ্জ্বল উপস্থিতি রয়েছে। যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের ‘দ্য আর্চেস প্রজেক্ট’ আয়োজিত ‘হিডেন ট্যালেন্টস ইন্টারন্যাশনাল আর্ট ম্যাগাজিন’-এর ২০২৫ সালের স্প্রিং ইস্যুতে তার চারটি চিত্রকর্ম প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি মেক্সিকো ও কোস্টারিকার আন্তর্জাতিক আর্ট ম্যাগাজিনেও স্থান পেয়েছে তার শিল্পকর্ম।

মিভার প্রতিভার স্বীকৃতি মিলেছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ক্রীড়া আসর অলিম্পিকেও। টোকিও অলিম্পিক ২০২০ উপলক্ষে ডিজিটাল পর্দায় বিশ্বব্যাপী ৩০ জন তরুণ শিল্পীর ছবি প্রদর্শন করা হয়, যেখানে স্থান পেয়েছিলো মিভার আঁকা একটি চিত্রকর্ম।

চাঁদপুরের এই প্রতিভাবান শিল্পী শুধু চিত্রাঙ্কনেই নয়, সুন্দর হাতের লেখাতেও রয়েছে তার অনন্য সাফল্য। আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতিযোগিতা ‘গন্তব্য স্বপ্নের’-এ ইংরেজি কার্সিভ হাতের লেখায় প্রথম পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

জাতীয় পর্যায়েও রয়েছে তার একাধিক অর্জন। ‘টয়োটা ড্রিম কার ন্যাশনাল আর্ট কনটেস্ট ২০১৭’ এবং ‘বটতলা রংমেলা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ২০১৬’-এ বিজয়ী হন মিভা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ২০১৭’ বিষয়ক পোস্টার প্রদর্শনীতে তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি আয়োজিত বাংলাদেশ-তুরস্ক ফ্রেন্ডশিপ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাতেও বিজয়ী হন তিনি।

ফটোগ্রাফিতেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন মিভা। ২০১৮ সালে তার তোলা ছবি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এবং দৃক গ্যালারির ‘হ্যালো ফটোগ্রাফার ফেস্টিভ্যাল’-এ প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়।

চিত্রশিল্পের পাশাপাশি মিভা একজন আবৃত্তিশিল্পী ও লেখক হিসেবেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছেন। ২০১৮ সালে ‘ফোর্থ ন্যাশনাল ইংলিশ কার্নিভাল’-এ কবিতা আবৃত্তিতে তিনি দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। এছাড়া কিশোর আলোর ম্যাগাজিন ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সেভ দ্য চিলড্রেনের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিযোগিতায় খুদে বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

লেখালেখি ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও মিভার রয়েছে সরব উপস্থিতি। তিনি ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি সান’-এর কন্ট্রিবিউটিং রাইটার হিসেবে যুক্ত আছেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এ সমকালীন বিশ্বসাহিত্য ও ফিকশন নিয়ে নিয়মিত বুক রিভিউ এবং বিশ্লেষণধর্মী লেখা প্রকাশ করে থাকেন।

মোহাইমিন সুলতানা মিভার বাবা মো. গোলাম রসূল মিয়াজী একজন ব্যবসায়ী এবং মা শিরিন সুলতানা গৃহিণী। শাহরাস্তির এই কৃতী সন্তান ঢাকার স্বনামধন্য ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগে স্নাতক (সম্মান) অধ্যয়ন করছেন।

একাডেমিক ক্ষেত্রেও তার সাফল্য উল্লেখযোগ্য। ২০২৬ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ঐধৎাধৎফঢ-এ অধ্যাপক স্টিফেন গ্রিনব্ল্যাটের অধীনে ‘ঝযধশবংঢ়বধৎব’ং ঐধসষবঃ : ঞযব এযড়ংঃ’ কোর্সটি ৯৬ শতাংশ নম্বর পেয়ে সফলভাবে সম্পন্ন করে ভেরিফায়েড সার্টিফিকেট অর্জন করেন তিনি। এর আগে ২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে সাধারণ বৃত্তিও লাভ করেছিলেন।

চিত্রাঙ্কন থেকে ফটোগ্রাফি, আবৃত্তি থেকে লেখালেখি, সাংবাদিকতা থেকে একাডেমিক অর্জন--সৃজনশীলতার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন মোহাইমিন সুলতানা মিভা। তার বহুমাত্রিক প্রতিভা ও অর্জন শুধু পরিবার বা শাহরাস্তির জন্যে নয়, পুরো চাঁদপুর জেলার জন্যেও গর্বের বিষয়। নতুন প্রজন্মের কাছে মিভা আজ পরিশ্রম, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণার নাম। তথ্যসূত্র : মামুনুর রশিদের ফেসবুক পেজ।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়