শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ১০:০৬

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে...

মনিরা আক্তার
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমীপে...

উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে দেশের মানুষকে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের আইকন হয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কাল ১৬ মে শনিবার তিনি চঁাদপুরের মাটিতে পা দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি চঁাদপুরকে তঁার আগামী পরিকল্পনায় প্রাধান্য দিয়েছেন বলেই নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব নেওয়ার খুব অল্প সময়ে ইলিশের বাড়ি খ্যাত এই জেলাতে তঁার আগমন। স্বাগত জানাই তঁাকে চঁাদপুরের আপামর মানুষের পক্ষ থেকে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সাথে জলবায়ুর পরিবর্তনে সারা বছরের পানি প্রবাহ ঠিক রাখার লক্ষ্যে খাল খনন পরিকল্পনাকে এগিয়ে নিতে যে কর্ম পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন তা যুগান্তকারী। পঁয়তাল্লিশ বছর আগে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে কাজ শুরু করেছিলেন তা অব্যাহত থাকলে কৃষি অর্থনীতিতে বাংলাদেশ একটি শক্ত অবস্থানে থাকার সম্ভাবনা ছিলো। নতুন প্রজন্মকে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করতে যে কর্মসূচি ছড়িয়ে দিয়েছেন তা আগামী প্রজন্মকে মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে বলে বিশ্বাস করি। চঁাদপুরবাসীর জন্যে বেশ কিছু উন্নয়ন পরিকল্পনা হয়তো আপনার সরকার গ্রহণ করবে। এই উন্নয়ন পকিল্পনাগুলোকে যদি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে এই জেলা হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের একটি রোল মডেল।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! চঁাদপুরকে একটি পরিকল্পিত জেলা হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করার জন্যে আবেদন জানাচ্ছি। চঁাদপুর একটি অত্যন্ত পুরাতন নদী বন্দর। ইতিহাস ঐতিহ্যে চঁাদপুর অনেক সমৃদ্ধ। জনসংখ্যার দিক থেকে এ জেলায় পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি। নদী, সড়ক এবং রেল মিলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এ জেলা অনেকটা এগিয়ে। খাল ও নদীকেন্দ্রিক এই জেলাটি কৃষি, ব্যবসা বাণিজ্য, সংস্কৃতি, পর্যটন সব দিকেই অপার সম্ভাবনার জেলা। কিন্তু সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবে এমন সম্ভাবনাময় জেলা পরিণত হচ্ছে যন্ত্রণাময় জেলা হিসেবে। নদী ও খালকেন্দ্রিক এ জেলাটি একসময় ছিলো কৃষি সমৃদ্ধ জেলা। একসময় প্রচুর পাট উৎপাদন হওয়ার কারণে এখানে জুট মিল গড়ে উঠেছিলো। আজ পাটের উৎপাদনও নেই, সব কারখানা দীর্ঘ বছর বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। পদ্মা মেঘনায় অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদী এবং নদীর পাড়ের মানুষেরা হুমকির সম্মুখীন। সাথে মৎস্য সম্পদও ক্ষতিগ্রস্ত। নদী ভাঙ্গন, নদী দূষণ এবং অপরিকল্পিত নদী শাসনের ফলে নদীর প্রবাহ কমে গিয়ে ইলিশ সহ নদীকেন্দ্রিক মাছের প্রজনন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইলিশ এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

দেশের হাজারো সমস্যার মতো চঁাদপুরও তার বাইরে নয়। একটা পরিকল্পিত জেলার সব অবকাঠামো সঠিক পরিকল্পনামত তৈরি হলে জেলার ৮০ ভাগ সমস্যার সমাধান হবে বলে বিশ্বাস। উন্নত বিশ্ব এভাবেই নিজেদের বদলে নিয়েছে। আমাদের দ্বারাও সম্ভব। আমাদের সব আছে, প্রয়োজন ইচ্ছাশক্তি।

নদীকেন্দ্রিক চঁাদপুর শহর অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে উঠছে। আগামী ৫০ বছর পরের জেনারেশনের বসবাসের উপযোগী পরিকল্পনা নেই। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি সবই আজ হুমকির মুখে। অথচ ভূ’প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ এই জেলাকে নিয়ে একটি সঠিক পরিকল্পনাই পারে জেলার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে। জেলা ম্যাপ তৈরির মাধ্যমে অবকাঠামো জোন পরিকল্পনা করা সম্ভব। কৃষি জমি রক্ষা করে উন্নয়ন পরিকল্পনা করা সম্ভব। সম্পদ এবং মূল্যবোধের সংস্কৃতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভূ’প্রকৃতি অনুযায়ী সম্পদকে ভাগ করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করে জেলাকে এগিয়ে নিবে।

পর্যটন আকর্ষণের জন্যে যা দরকার তার সব ক’টিই এই জেলায় আছে। প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও পরিবেশ। ক্লাস্টার ভিত্তিক পণ্য উৎপাদনের পরিকল্পনা প্রতিটি ঘরে কুটির শিল্প কারখানা গড়ার মাধ্যমে নারীদের সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে সহায়তা করবে। যা পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্র হিসেবে কাজে লাগবে। খাল, নদী, কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ সংস্কৃতির সম্মিলনিতে চঁাদপুর একটি চমৎকার পর্যটনের জেলা হতে পারে। যার মাধ্যমে নারী পুরুষের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কয়েকদিন আগে মাননীয় পানিসম্পদ মন্ত্রী চঁাদপুরে এসে গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, চঁাপুরের নদী প্রবাহ ঠিক রাখতে হবে, না হলে অচিরেই বড় সংকট দেখা দিবে’।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! আপনার হাত ধরে চঁাদপুর জেলা থেকেই শুরু হোক পরিকল্পিত জেলা গঠনের কাজ, যা একসময় তৈরি হবে পরিকল্পিত বাংলাদেশ গঠনে।

লেখক : সভাপতি, চঁাদপুর উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়