বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:২৩

হাইমচরে ভেকু দিয়ে ফসলি জমি কেটে মাছের প্রজেক্ট করার চেষ্টা

স্থানীয়দের বাধা, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ

বিশেষ প্রতিনিধি
স্থানীয়দের বাধা, প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
ছবি ক্যাপশন : হাইমচরের একটি চরে ভেকু দিয়ে ফসলি জমি কেটে মাছের প্রজেক্টের চেষ্টাকালে স্থানীয়দের বাধা এবং ভেকুর চাবি নিয়ে নেওয়ায় মাটি খনন বন্ধ হয়ে যায়।

ফসলি জমি কেটে অবৈধভাবে মাছের প্রজেক্ট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে হাইমচর উপজেলায়। ১নং গাজীপুর ইউনিয়নের একটি চরে সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান পেদার নেতৃত্বে তার ভাতিজা চেয়ারম্যান সবুজকে সঙ্গে নিয়ে এ কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) রাতে ভেকু (খননযন্ত্র) দিয়ে জোরপূর্বক ফসলি জমি কেটে বড়ো আকারের মাছের প্রজেক্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিষয়টি টের পেয়ে জমির মালিকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা প্রদান করেন। এ সময় তারা মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত ভেকুর চাবি নিয়ে নেন, ফলে মাটি খননের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পরপরই বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)উপজেলা ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগেও শাহজাহান পেদার নেতৃত্বে তার ভাতিজা চেয়ারম্যান সবুজ সরকারি পুকুরের মাছ আত্মসাতের ঘটনায় আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। এমনকি ওই ঘটনায় বেশ ক'দিন জেলও খেটেছেন। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, এভাবে চরাঞ্চলের ফসলি জমি কেটে ফেললে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙ্গনের ঝুঁকিও বাড়বে, যা হাইমচর উপজেলার জন্যে বড়ো ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শাহজাহান পেদার সাথে মুঠোফনে কথা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি ইউনিয়নের রাস্তার কাজের জন্যে ভেকু এনেছি। তারা ভেবেছে মাছের প্রজেক্ট করবো। সেজন্যে তারা ইব্রাহিমপুর থেকে এসে ভেকুর চাবি নিয়ে গেছে। তিনি মূল ঘটনা অস্বীকার করে রাস্তার কাজের কথা বলে ঘটনাকে ভিন্ন দিকে নেয়ার চেষ্টা করলেও খবর নিয়ে জানা যায়, ওই স্থানে রাস্তার কোনো কাজই নেই। মূলত মাছের প্রজেক্টের জন্যেই ওই চরে ভেকুটি আনা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

হাইমর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অমিত রায় জানান, এ বিষয়ে আমাকে একজন মৌখিকভাবে জানিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করার জন্যে লোক পাঠিয়েছি। তদন্ত শেষে এ বিষয়ের সাথে যারা জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডিসিকে /এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়