প্রকাশ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৫
ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস সঞ্চার করুন

বহুল প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আগামী পরশু বৃহস্পতিবার। ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়কার সকল নির্বাচনের চেয়ে এ নির্বাচনটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনবিরোধী গোষ্ঠীসকলের ঝটিকা মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি, নানা দাবি সহ নানা গুজব ও অপপ্রচারে নিরীহ, ভদ্র ও নির্দলীয় সাধারণ ভোটারদের অধিকাংশজনই মনে করছে, ভোটকেন্দ্রে গোলমাল হবে। অপপ্রচারে লিপ্ত একটি চক্র বলছে, আগে হয়েছে রাতের ভোট, এবার হবে ভোরের ভোট। অতএব, দল করে না এমন নিরীহ-ভদ্র ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আগের মতোই ভোট না দিয়েই বাড়ি ফিরতে পারেন কিংবা ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতকালে গোলমাল দেখবেন, হামলার শিকার হতে পারেন তথা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন আশঙ্কায় ভুগছেন এবং ভোটকেন্দ্রে না যাবার অপ্রকাশ্য বা গোপন সিদ্ধান্তে নিজ বাসা-বাড়িতে অবস্থান করে স্বস্তি ও শান্তিতে থাকবেন বলে ভাবছেন। এমতাবস্থায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, কোস্ট গার্ড সহ নির্বাচনে দায়িত্বপালনকারী সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দল সমূহের পক্ষ থেকে প্রচারণা নিষিদ্ধের ৪৮ ঘণ্টা সময়ে নানামুখী ভোটার-উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পালন করতে হবে বলে মনে হচ্ছে। অন্যথায় আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ভোটার উপস্থিতির ঘাটতি থেকে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী ও নির্বাচনবিরোধী কারো পক্ষ থেকে নির্বাচনপূর্ব ৪৮ ঘণ্টা সময়ে নির্বাচন বানচালের কোনো বাজে তৎপরতা যদি কোনো সুযোগে প্রদর্শিত হয়ে যায় এবং সেটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসে যায়, তাহলে সেটা নিঃসন্দেহে নিরীহ-ভদ্র ও নির্দলীয় ভোটারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করবে। এ ব্যাপারে নির্বাচন আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে তীক্ষè সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়টি সিরিয়াসলি ভাবতে হবে। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত আস্থা, আত্মবিশ্বাস যেনো শৈথিল্যে রূপ না নেয় সেটি সকলকে মাথায় রাখতে হবে। ভোটারকে ভোট প্রদানের নিরাপদ পরিবেশ উপহার দেয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতাপূর্ণ তৎপরতা প্রদর্শন করতে হবে। এর অন্যথা নির্বাচনবিরোধী গোষ্ঠী ছাড়া কারোই কাম্য নয়।





