প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩১
এডিটোরিয়াল স্বপ্রণোদিত হয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কি ব্যবস্থা নিতে পারে না?

‘খেলার মাঠরুর বজের্যর দখলে’-এটি চঁাদপুর কণ্ঠে অতি সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সংবাদ শিরোনাম। সচিত্র সংবাদটিতে প্রতিবেদক সোহাঈদ খান জিয়া লিখেছেন, দেখলে মনে হয়, গরুর ফার্মের প্রয়োজনে তৈরি করা একটি বিশালাকৃতির গর্তে গরুর বজর্য ভরপুর হয়ে আছে। পাশে রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আসলে তা নয়। গর্তটি হচ্ছে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের খেলার মাঠের জায়গা। বিদ্যালয়টি হচ্ছে চঁাদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নের নিজ গাছতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের সঠিক দায়িত্ব পালন ও পরিশ্রমের কারণে অবহেলিত স্থানে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি শিক্ষার মানোন্নয়নে এগিয়ে গেলেও নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মাঠ ভরাট না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হয়ে আছে। উপর্যুপরি বিদ্যালয়ের পাশে নাজির গাজীর গরুর ফার্মের বজর্য সরানোর জন্যে যে ড্রেন করে দেওয়া হয়েছে, সেই ড্রেন দিয়ে বজর্যগুলোতে বিদ্যালয় মাঠের জায়গা ভরে গেছে। বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার আগ পর্যন্ত শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রীদের অবস্থান করতে হয় বজের্যর দুর্গন্ধ সহ্য করে। এতে বিদ্যালয়টিকে পাঠদান করাসহ নানান সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। আশেপাশের বাড়িঘরে বসবাস করতেও লোকজনের সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যালয় মাঠে বজর্য না ফেলার জন্যে খামারি নাজির গাজীকে বলা হলেও তিনি আজ না কাল সরানো হচ্ছে বলে থাকেন। কিন্তু সপ্তাহের পর সপ্তাহ শেষ হয়ে গেলেও বজর্য সরানো হচ্ছে না। বিদ্যালয় মাঠ রক্ষায় প্রধান শিক্ষিকা বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করাসহ অনেকের দ্বারস্থ হয়েও কোনো লাভ হয়নি। এ ব্যাপারে এলাকার সচেতন ক’জন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন, নাজির গাজী দীর্ঘদিন ধরে গরুর ফার্মের বজর্যগুলো সরাতে বিদ্যালয় মাঠের দিকে ড্রেন করে দেন। এতে গরুর বজের্য মাঠ ভরপুর হয়ে যায়, যাতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। বজের্যর গন্ধে শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও আশপাশের লোকজন অসুস্থ হবার উপক্রম হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের অভরাটকৃত খেলার মাঠ গরুর বজের্য ভরপুর হয়ে আছে। দুর্গন্ধে সেখান দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে কষ্টকর হয়ে পড়েছে। যা দেখে মনে হচ্ছে, বজর্যগুলো যে গর্তে রয়েছে সেই গর্তটি গরুর মালিক নিজ প্রয়োজনে করে সেখানে বজর্য ফেলছেন। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হাফছা আক্তার বললেন, গরুর বজর্য সরানোর জন্যে নাজির গাজীকে বলেছি। তিনি ১ সপ্তাহ সময় নিয়েছেন। ১ সপ্তাহের মধ্যে বজর্য পরিষ্কার করে দেবেন বলে জানান। স্কুলের মাঠ ভরাট করে খেলাধুলার উপযোগী করতে বিভিন্ন দপ্তরে জানানো সহ আবেদন করেছি। মাঠ ভরাট একান্ত জরুরি। মাঠ ভরাট না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। এ ব্যাপারে নাজির গাজী বলেন, গর্তটা আমার না, বিদ্যালয়ের জায়গায়। আমি ১০/১২ দিনের মধ্যে জায়গাটা পরিষ্কার করে দেবো। এ ব্যাপারে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিনা বেগম বলেন, বিদ্যালয় মাঠে ময়লা পড়ে আছে। প্রধান শিক্ষিকাকে বলেছি বিদ্যালয় মাঠ ১ সপ্তাহের মধ্যে পরিষ্কার করার জন্যে। মাঠ ভরাট করার জন্যে কর্তৃপক্ষকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অবহিত করেছেন। আগের উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্যারকে মাঠ ভরাটের জন্যে অবহিত করেছি। এ ব্যাপারে চঁাদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের নিকট লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেবো। এ বিষয়ে টিআইবির অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি-সনাক, চঁাদপুর থেকেও আমাকে জানানো হয়েছে।
একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্টের জন্যে দায়ী একটি গরুর খামারের মালিক। তিনি যতোই দোর্দণ্ড প্রতাপশালী হোক না কেন, তিনি তার খামারের বজের্য বিদ্যালয়টির মাঠকে গ্রাস করেছেন-এটা কিন্তু অনেক বড়ো অপরাধ। এজন্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)-এর শরণাপন্ন হতে পারে। ইউএনও নিজে কিংবা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট হিসেবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে এ গরুর খামারির বিরুদ্ধে নিতে পারেন ব্যবস্থা। পরিবেশ অধিদপ্তরও স্বপ্রণোদিত হয়ে উদ্যোগ নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে নিতে পারে ব্যবস্থা। পত্রিকায় ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তারপরও স্কুল কর্তৃপক্ষ কেন ঝুঁকি নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের নিকট অভিযোগ করতে যাবে? এ অভিযোগের বিষয়টি নিতান্তই খেঁাড়া অজুহাত, অন্য কিছু নয়। পরিবেশ অধিদপ্তর যদি কারো আবেদন ছাড়াই ব্রিক ফিল্ডের বিরুদ্ধে আইনগত কঠিন ব্যবস্থা নিতে পারে, তাহলে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার পরিবেশ বিনষ্টকারী গরুর খামারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি থাকবে কেন?








