প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৫, ০৯:০৮
আলঝাইমার্স মোকাবিলায় সমাজকর্মীর ভূমিকা

আধুনিক সমাজে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার মধ্যে আলঝাইমার্স রোগ একটি জটিল ও উদ্বেগজনক স্বাস্থ্য সমস্যা। এটি মস্তিষ্কের নিউরোডিজেনারেটিভ একটি রোগ, যার কারণে স্মৃতি শক্তি, চিন্তা ভাবনা ও আচরণে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশ সহ বিশ্ব জুড়ে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সমাজকর্মীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
|আরো খবর
সমাজকর্মীর ভূমিকা--
১. সমাজকর্মীরা মানুষকে তাদের সমস্যা চিহ্নিত করতে এবং সমাধান খুঁজে নিতে সাহায্য করেন।
২. সমাজকর্মীরা আলঝাইমার্স রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করে। বিভিন্ন সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা, লিফলেট, পোস্টার, পত্রিকা, টেলিভিশন ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রোগটি সম্পর্কে জানাতে পারেন।
৩. প্রাথমিক শনাক্তকরণে সহায়তা : রোগের প্রাথমিক লক্ষণ চিহ্নিত করতে পরিবারকে সহায়তা এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে উদ্বুদ্ধ করা সমাজকর্মীর একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
৪. রোগীর পরিবারকে সহায়তা : রোগীর পরিবারের সদস্যদের মানসিক ও শারীরিক চাপ প্রশমনে পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা সমাজকর্মীর দায়িত্ব। পরিবারকে ধৈর্য ধরতে ও রোগীকে যত্ন নিতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থাগ্রহণ করা।
৫. সামাজিক সেবার সংযোগ তৈরি : সমাজকর্মী হিসেবে রোগী ও পরিবারকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্র, থেরাপি সেন্টার, নার্সিং হোম কিংবা সরকারি-বেসরকারি সহায়তা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন।
৬. মানসিক সহায়তা ও কাউন্সিলিং : আলঝাইমার্স রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই একাকীত্ব ও হতাশায় ভোগেন। সমাজকর্মীরা তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কাউন্সিলিং সেবা দিতে পারেন।
৭. অধিকার ও নীতিগত সহায়তা : রোগীর অধিকার রক্ষা যেমন মর্যাদার সঙ্গে জীবনযাপন, যথাযথ চিকিৎসা ও সেবার সুযোগ পাওয়া ইত্যাদি নিশ্চিতে সরকার ও সমাজকে সচেতন করা সমাজকর্মীর একটি বৃহৎ দায়িত্ব।
৮. স্বেচ্ছাসেবক গঠন ও প্রশিক্ষণ : স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবী দল গঠন করে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে রোগীর দেখভালে নিয়োজিত করা যায়।
৯. নিরপেক্ষতা : ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ বা শ্রেণি ভেদাভেদ না করে সবার জন্যে কাজ করবে।
সমাজকর্মীরা আরো যেসব কাজ করতে পারেন তা হলো : আলঝাইমার্স রোগ সম্পর্কে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ। সরকার ও এনজিওদের সমন্বয়ে সামাজিক সেবা সম্প্রসারণ করা। রোগীদের জন্যে আলাদা থেরাপি ও ডে কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ।
আলঝাইমার্স একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল রোগ হলেও যথাযথ পরিচর্যা ও সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে রোগীর জীবন মান উন্নত করা সম্ভব। এই ক্ষেত্রে সমাজকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে পারেন। তাদের উদ্যোগ, সহানুভূতি ও দক্ষতা রোগী ও পরিবারের জন্যে আশার আলো হয়ে উঠতে পারে। লেখক : প্রবীণ বিষয়ে লেখক, গবেষক ও সংগঠক।