বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০০:২২

লোডশেডিংয়ে নাকাল জনজীবন

দিনেরাতে মিলিয়ে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর পাঁচ উপজেলা

আব্দুল্লাহ আল মামুন
দিনেরাতে মিলিয়ে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীনতায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর পাঁচ উপজেলা

চাঁদপুরে তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ে নাকাল হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জনজীবন। গত প্রায় এক মাস ধরে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর আওতাধীন পাঁচটি উপজেলায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। এতে করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকিও।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২- এর সূত্রে জানা যায়, হাইমচর, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর সদর, মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ- এই পাঁচ উপজেলায় মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার ১২০ জন গ্রাহক নিয়মিত লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

চাহিদা-সরবরাহের বড়ো ঘাটতি

বর্তমানে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনে প্রায় ৭৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে রাতে ৯০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মিলছে ৬০-৬৫ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

সরবরাহনির্ভর তিনটি গ্রিডে

চাঁদপুর অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত রামগঞ্জ, চাঁদপুর ও কচুয়া গ্রিডের ওপর নির্ভরশীল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার মো. আবু রায়হান বলেন, গরমের কারণে চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে জ্বালানি সরবরাহে। ফলে আমরা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। ডিজিএম (টেকনিক্যাল) ইঞ্জিনিয়ার ইউনুস আলী জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ একই সঙ্গে সম্পন্ন হয়। আমরা যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাই, সেটিই পরিকল্পনা অনুযায়ী বণ্টন করি। কোনো এলাকাকে আলাদা করে প্রাধান্য দেয়া হয় না। তবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করা হয়।

কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্যে গ্যাস ও ফার্নেস অয়েলের ওপর নির্ভরতা বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংকট, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়।

দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে মানুষ। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী মানুষদের দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। অনেক এলাকায় চুরি-ছিনতাই বৃদ্ধির ঘটনাও শোনা যাচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মানুষ এখন 'বিদ্যুৎ কখন যায়' নয়, বরং 'বিদ্যুৎ কখন আসে'—এটাই জানতে বেশি আগ্রহী।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রায় ৪০০ জন জনবল নিয়ে ১৯টি অফিসের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা চলছে। তবে সরবরাহ না বাড়লে সংকট নিরসন সম্ভব নয়

এ অবস্থায় গ্রাহকদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পাশাপাশি আবহাওয়া শীতল হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের আশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেবে।

ডিসিকে/ এমজেডএইচ

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়