প্রকাশ : ০৫ মে ২০২৬, ১৪:৩৩
আখাউড়ায় বীরশ্রেষ্ঠের সমাধিস্থলে চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের প্রতিনিধি দল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দরুইন গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল-এর সমাধিস্থল দেখতে গিয়েছেন চাঁদপুর রোটারী ক্লাব-এর একদল প্রতিনিধি। মঙ্গলবার (৫ মে ২০২৬) দুপুরে রোটারিয়ান বীর মুক্তিযোদ্ধা মহসীন পাঠান ও রোটারিয়ান পিপি মোস্তাক আহমেদ খানের নেতৃত্বে এ প্রতিনিধি দল সেখানে যান। সেখানে তাঁরা বীরশ্রেষ্ঠের কবর জিয়ারত করেন, সমাধিসৌধ এবং তাঁর শহীদ হওয়ার স্থান পরিদর্শন করেন। কবর জিয়ারতশেষে মোনাজাত করেন বীরশ্রেষ্ঠের নামে প্রতিষ্ঠিত মসজিদের ইমাম মাওলানা মোস্তফা ফরিদী।
|আরো খবর
প্রতিনিধি দলে ছিলেন : চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের সাবেক সভাপতিবৃন্দ যথাক্রমে রোটা. তমাল কুমার ঘোষ, রোটা. অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, রোটা. ডা. এমজি ফারুক ভূঁইয়া, রোটা. কাজী শাহাদাত, রোটা. নাসির খান, রোটা. শেখ মঞ্জুরুল কাদের সোহেল, রোটা. শাহেদুল হক মোর্শেদ, বর্তমান সেক্রেটারী রোটা. নাজিমুল ইসলাম এমিল, সহ-সভাপতি রোটা. মাহবুবুর রহমান সুমন ও রোটা. গোপাল চন্দ্র সাহা, আগামী রোটারী বর্ষের সেক্রেটারী রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক রোটা. সাব্বির আজম, ক্লাবের সদস্য যথাক্রমে রোটা. সাইফুল ইসলাম রনি, রোটা. গাজী মো. মোহসেন কাদের মিশু, রোটা. আল আমিন, রোটা. দেলোয়ার হোসেন সুমন ও রোটা. রেজাউল ইসলাম রকি, রোটার্যাক্টর বেবিন্টন দাস কিরণ প্রমুখ।
জানা যায়, শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ১৯৪৭ সলের অগ্রহায়ণ মাসে কোনো এক বৃহস্পতিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম হাবিবুর রহমান। তাঁর জন্মস্থান ভোলা জেলার দৌলতখান থানার পশ্চিম হাজীপুর গ্রামে। শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের পিতা ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের একজন হাবিলদার ছিলেন। সেই সুযোগে কুমিল্লা সেনা ছাউনিতে থাকাকালীন সময়ে সৈনিক জীবনকে তিনি মনেপ্রাণে ভালবেসে ফেলেন। অবশেষে ১৯৬৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে ভর্তি হন। ১৯৭১ সালের ১৮ এপ্রিল যখন মুক্তিযুদ্ধ-এর সময় আখাউড়া প্রতিরক্ষা অবস্থানে শক্তিশালী শত্রুবাহিনী আক্রমণ করে, তখন সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল (নম্বর ৩৯৩৭৭৯৮) ডানফ্ল্যাংক লাইট মেশিনগানের ১ নম্বর সৈনিক মারা যাওয়ার পর লাইট মেশিনগান দ্বারা যুদ্ধ করছিলেন।
যখন শত্রুসেনা প্রায় ১০০ গজের মধ্যে পৌঁছে, ঐ সময় কোম্পানীর ৯জন সহযোদ্ধা শাহাদাত বরণ করেন। ক'জন আহত হন এবং তাঁর প্লাটুনের অধিকাংশ পশ্চাদপসরণ করেন। কিন্তু তিনি স্বীয় অবস্থান থেকে লাইট মেশিনগান পরিচালনা করে অনেক শত্রুকে হতাহত করেন। প্রতিরক্ষার ওপর শত্রুর প্রবল চাপ লক্ষ্য করে কোম্পানী কমান্ডার পশ্চাদপসরণের সিদ্ধান্ত নেন। ডানফ্ল্যাংক থেকে সমস্ত শত্রুর ওপর শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামালকে কাভারিং ফায়ার দেওয়ার আদেশ প্রদান করা হয়।
পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল আকার ধারণ করে। ভূমির আড়াল দিয়ে শত্রুসেনা ৬০/৭০ গজ দূরত্বে পৌঁছে গেলে কোম্পানীর অবশিষ্ট লোক পশ্চাদপসরণ করে। শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল কাভারিং ফায়ার দ্বারা আক্রমণ প্রতিহত করেন। তাঁর কাভারিং ফায়ারের জন্যে সমস্ত কোম্পানী পশ্চাদপসরণ কালে মাত্র ২জন আহত হন। সবাই যখন পশ্চাদপসরণে ব্যস্ত একমাত্র শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফার লাইট মেশিনগান সদম্ভে গর্জে উঠেছিলো। ইতোমধ্যে শত্রুরা তাকে ঘিরে ফেলে এবং আত্মসমর্পণ করার হুমকি দেয়।
তিনি দাঁড়িয়ে 'আল্লাহু আকবর' ধ্বনি দিয়ে বাঘের মতো শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি ব্যতিক্রমধর্মী মনোবলের পরিচয় দেন এবং ঘটনাস্থলে শাহাদাত বরণ করেন। (ইন্নালিল্লাহে..... রাজিউন)। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার অন্তর্গত দরুইন গ্রামে তার মৃতদেহ সমাহিত করা হয়। দেশমাতৃকার মহান সন্তান হিসাবে তাঁর অসীম সাহসিকতা যুদ্ধক্ষেত্র সকল সৈনিকের মনোবলের প্রতিফলন। শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল দেশের জন্যে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে দেশপ্রেমের যে অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন ইতিহাসে তা স্বর্ণোজ্জল হয়ে রয়েছে। তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ২নং সেক্টরে অসীম সাহসিকতার সাথে যুদ্ধ করেন।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের সভাপতি রোটা. মো. মোস্তফা (ফুল মিঞা)-এর কসবা উপজেলার কুটি গ্রামে আয়োজিত চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প-এ অংশগ্রহণশেষে চাঁদপুর রোটারী ক্লাবের প্রতিনিধি দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থায়ী বাসিন্দা, চাঁদপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও চাঁদপুর সেন্ট্রাল রোটারী ক্লাবের সাবেক সভাপতি রোটা. মোস্তাক আহমেদ খানের উদ্যোগে কুটি থেকে প্রায় দশ কিলোমিটার দূরবর্তী আখাউড়া উপজেলার দরুইন গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামালের সমাধিস্থলে যান।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ












