শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬, ১১:০০

৭০০তম সংখ্যায় ‘শিশুকণ্ঠে’র পদার্পণ

রাশেদা আতিক রোজী
৭০০তম সংখ্যায় ‘শিশুকণ্ঠে’র পদার্পণ

আজকের যান্ত্রিক যুগে যখন শিশুদের খেলার মাঠ সংকুচিত হয়ে আসছে, চার দেয়ালের মাঝে বন্দি হয়ে পড়ছে শৈশব, তখন ‘শিশুকণ্ঠ’ আমাদের জন্য এক চিলতে খোলা আকাশ এনে দিয়েছে। প্রতি ১৪দিন পর যখন এই পাতাটি হাতে আসে, তখন মনে হয় যেন এক আনন্দের ঝাঁপি খুলে গেলো। গল্প, কবিতা, ছড়া, কমিকস, জানা-অজানা তথ্যের ঝুড়ি আর আঁকিবুঁকিতে সাজানো এই পাতাটি আমাদের মনের খোরাক জোগায়। একটি পত্রিকার পাতা কীভাবে শিশুদের হৃদস্পন্দন হয়ে উঠতে পারে, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত ‘শিশুকণ্ঠ’। দেখতে দেখতে পাতাটি তার গৌরবময় পথচলার ৭০০তম সংখ্যায় পদার্পণ করলো। ‘শিশু কণ্ঠ’র এমন সংখ্যাগত পদার্পণ তার পরিপক্বতা, জনপ্রিয়তা এবং অনন্যতার এক নতুন মাইলফলক। দৈনিক পত্রিকার এই বিশেষ পাতাটি কেবলই কিছু লেখা বা ছবির সংকলন নয়, এটি আমাদের শৈশব, আমাদের স্বপ্ন, আমাদের ভালোলাগা আর ভালোবাসার এক জাদুকরি আয়না।

‘শিশুকণ্ঠে’র সবচেয়ে বড়ো সার্থকতা হলো, এটি আমাদের শুধু পাঠক বানিয়ে রাখেনি, আমাদের লেখক ও শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছে। আমাদের ভাঙ্গা ভাঙ্গা লাইনের ছড়া, ছোট ছোট গল্প আর মনের মাধুরী মিশিয়ে আঁকা ছবিগুলো যখন এই পাতায় ছাপা হয়, তখন আনন্দের সীমা থাকে না। নিজের নামটি পত্রিকার পাতায় দেখার সেই রোমাঞ্চ আর গর্বের অনুভূতি ভাষায়

প্রকাশ করার মতো নয়। এটি আমাদের ভেতরের লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে বিকশিত করতে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।

পাশাপাশি নৈতিকতা ও মূল্যবোধের এক নীরব শিক্ষক হিসেবে কাজ করছে ‘শিশুকণ্ঠ’। ছোট ছোট নীতিগল্প, মনীষীদের জীবনী এবং দেশপ্রেমের গল্পগুলো আমাদের সৎ, বিনয়ী ও মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রেরণা দেয়। বড়োদের শ্রদ্ধা করা, ছোটদের স্নেহ করা, গাছপালা ও জীবজন্তুকে ভালোবাসা এসব সুন্দর অভ্যাসগুলো আমরা খেলার ছলে এই পাতাটি থেকেই শিখছি।

‘শিশুকণ্ঠে ও চাঁদপুর কণ্ঠের এগিয়ে যাওয়া ও এই সফলতার পেছনে পর্দার আড়ালে কাজ করছেন একজন সাদা মনের নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। তিনি হচ্ছেন দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের শ্রদ্ধাভাজন সম্পাদক, লেখক, সাংবাদিক রোটারিয়ান, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত। যাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম ও নেতৃত্বে চিত্রশিল্পী এবং পত্রিকার সকল কর্মীবৃন্দ, পরিশ্রম করে পাক্ষিক এই পাতাটিকে এতো আকর্ষণীয় করে আমাদের সামনে হাজির করেন, তিনি সহ অন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তাঁরা শিশুদের মনস্তত্ত্ব বোঝেন এবং সেই অনুযায়ী প্রতিটি বিষয় নির্বাচন করেন। তাঁদের এই ভালোবাসা আর যত্নেই ‘শিশুকণ্ঠ’ ৭০০তম সংখ্যায় পদার্পণ করতে পেরেছে। এ শুভলগ্নে ‘শিশুকণ্ঠ’র কাছে আমাদের প্রত্যাশা আরও বেড়ে গেছে। আমরা চাই এই পাতাটি আগামীতে রঙিন, আরও তথ্যবহুল এবং আরও আনন্দময় হয়ে উঠুক। প্রযুক্তির এই যুগে পাতাটির একটি অনলাইন বা ডিজিটাল সংস্করণ থাকলে দূর-দূরান্তের আরও অনেক শিশু এর সাথে যুক্ত হতে পারবে। এছাড়া, প্রতিভাবান খুদে লেখকদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা বা উৎসবের আয়োজন করা হলে তা আমাদের আরও উদ্বুদ্ধ করবে।

‘শিশুকণ্ঠ’ আমাদের স্বপ্নের ক্যানভাস, আমাদের কণ্ঠস্বর। এটির পথচলা যেন অনন্তকাল ধরে বজায় থাকে। এই পাতাটি পড়ে যেন আগামী দিনের শিশুরা আরও বড় স্বপ্ন দেখতে শেখে, মুক্তচিন্তার অধিকারী হয় এবং দেশকে ভালোবাসতে শেখে। ‘শিশুকণ্ঠ’র আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি শিশুর মন। আজকের শুভ লগ্নে আবারও জানাই অনেক অনেক শুভকামনা ও ভালোবাসা।

লেখক : ইনস্ট্রাক্টর, উপজেলা প্রাইমারি এডুকেশন ট্রেনিং সেন্টার ( ইউপিইটিসি) চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়