শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫  |   ৩০ °সে
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১১:৫১

তিন বন্ধুর অদ্ভুত চিন্তাজাল

মিজানুর রহমান রানা

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

চার.

তারা এখন দুটি বিকল্পের সামনে দাঁড়িয়ে : তারা কি নেক্সাসের কোড বন্ধ করবে এবং বাস্তবতাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনবে? নাকি তারা এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন পৃথিবী গঠন করতে চাইবে?

গভীর রাত। বাতাস থমথমে। স্কুলের গবেষণা ল্যাবের দেয়াল যেন একটি নতুন বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে।

আলফা-৭ এবার তাদের সামনে শেষ সংকেত পাঠাচ্ছে, ‘‘তোমাদের সিদ্ধান্তই ভবিষ্যত তৈরি করবে। ”

রায়ান, মিথিলা আরিয়ান ভাবছে নেক্সাসের শেষ পরীক্ষা: বাস্তবতা রক্ষা করবে, নাকি নতুন প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ গঠন করবে?

সময় ভাঙতে চলছে : পুরো পৃথিবীর অস্তিত্ব এখন এই মুহূর্তে নির্ভর করছে!

এটি একটি অদ্ভুত বাস্তবতা। ভাবছে রায়ান। সে আরও ভাবছে, ভবিষ্যতের স্ক্রিনে নতুন পৃথিবীর ছবি ভেসে উঠছে, কিন্তু তা কি সত্যিকারের, নাকি অ্যালগোরিদমের কল্পনা?

এখন তাদের সামনে দুটি রাস্তা : এক : তারা কোড বন্ধ করবে, আলফা-৭ এবং নেক্সাস ধ্বংস হবে। বাস্তবতা আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। দুই. তারা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন সভ্যতা গঠন করবে। কিন্তু বাস্তবতার নিয়ম চিরতরে পাল্টে যাবে!

এ সময় আরিয়ান মিথিলা ও রায়ানকে বলে, “আমরা যদি কোড বন্ধ করি, তাহলে আমরা ফিরে যেতে পারবো। কিন্তু যদি যদি আমরা বাস্তবতাকে নতুন করে গড়ে তুলি?”

মিথিলা আরিয়ানের প্রশ্নে উত্তর দিলো, “তুমি নিশ্চিত? আমরা কি নিজেরাই একটি ভুল ভবিষ্যত তৈরি করতে যাচ্ছি?”

রায়ান: তোমরা কি অনুভব করছো? সময় আর আগের মতো নয়। আমরা যদি বন্ধ করি, তাহলে ইতিহাস ভুলে যাবে আমাদের। ”

তিন বন্ধু কথা বলা বন্ধ করলো। তারা উদ্বিগ্ন। চোখ বন্ধ করে ভাবছে, তারা কি করবে?

বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। সময় আর স্থির নেই। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে: “শেষ সিদ্ধান্ত। এগিয়ে যাও অথবা থামো!”

তারা প্রযুক্তির ফাঁদে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। চারপাশের সবকিছু বদলে যেতে শুরু করেছে : আলো, বাতাস, সময়। যেন তারা বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

তিন বন্ধু চোখ খুলে অবাক বিস্ময়ে দেখে, তারা আর পৃথিবীতে নেই।

এক নতুন জগতে, যেখানে ভবিষ্যতের ভবনগুলো আকাশ ছুঁয়ে আছে, রোবটেরা মানুষের মতো আচরণ করছে, আর সময় এখানে স্থির নয়, একটি বিভ্রমের মতো ভাসমান!

এখন তাদের একটাই প্রশ্ন : “আমাদের বাবা-মা কোথায়?”

এ সময় তারা অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। সামনে তাদের বাবা-মা।

কিন্তু এরা কি সত্যিই তাদের বাবা-মা? তারা দেখতে পায়: বাবা-মা যেনো আর বৃদ্ধ নন, তারা যুবক-যুবতীর মতো হয়ে উঠেছেন!

“কেন?” প্রশ্ন করে মিথিলা, “সময় কি আমাদের বদলে দিয়েছে? নাকি এই নতুন জগতে মানুষের বয়সের হিসাব পাল্টে গেছে?”

কেউ কোনো উত্তর দেয় না, নিশ্চুপ সবাই।

রায়ান ও আরিয়ান ভাবছে, তারা কি নিজেদেরও আয়নায় দেখবে এবং বুঝতে পারবে যে, তারা কি আগের মতোই আছে?

মিথিলা প্রশ্ন করে, “এটি কি বাস্তব, নাকি প্রযুক্তির তৈরি বিভ্রম? নেক্সাস কি শুধু সময় পরিবর্তন করেছে, নাকি সম্পূর্ণ মানব অস্তিত্বকে নতুন করে গড়ে তুলেছে?”

তাদের বাবা-মা সামনে দাঁড়িয়ে, কিন্তু তারা আগের মতো মানুষ নয়। তারা প্রযুক্তির অংশ হয়ে গেছে, তাদের শরীর যেনো এক অদ্ভুত কৃত্রিমতার আলোয় ভাসছে।

এ সময় কম্পিউটার স্ক্রিনে দেখা গেলো কিছু কথা। যা শুনে তিন বন্ধু চক্ষু চড়কগাছ।

“এই পৃথিবীতে আর কিছুই পুরোনো নেই। তোমরা ২০০ বছর সময় পার করে এসেছো। এখানে কেবল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অস্তিত্ব রয়েছে, তোমাদের কাছে এখন এক নতুন দায়িত্ব। ”

আরিয়ান কথাগুলো পড়তে পড়তে বেশ মজা পেলো আর হাসলো। সে রায়ান ও মিথিলাকে প্রশ্ন করলো, “আমি কি স্বপ্নের জগতে আছি, নাকি বাস্তবে?’’

তিন বন্ধু একে অপরের দিকে চেয়ে আছে। এ সময় হঠাৎ করে আরিয়ানের প্রশ্নের উত্তরে মিথিলা বললো, “আমরা আসলে স্বপ্ন এবং বাস্তবের মাঝামাঝি আছি। তবে আমাদেরকে বাস্তবতাকে অস্বীকার করে স্বপ্নডানায় ভেসে থাকলে চলবে না। সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ”

রায়ান ভাবছে, তারা কি গ্রহণ করবে এই ভবিষ্যত? নাকি কিছু হারিয়ে ফেলছে? তাদের সামনে কি সত্যিকারের নতুন সভ্যতা তৈরি হবে, নাকি প্রযুক্তির নিখুঁত কিন্তু ভয়ংকর জগতে আটকে থাকবে?

রায়ানকে জটিল ভাবনায় আটকে থাকতে দেখ আরিয়ান সাহস দিয়ে বললো, “আমরা যদি এই পৃথিবী গড়তে চাই, তাহলে আমাদের কি মানবতার সবকিছু ভুলে যেতে হবে। আমরা এখন নেক্সাসের অংশ, তাই আমাদেরকে দৃঢ় মনোবল রাখতে হবে। ”

মিথিলা প্রশ্ন করে, “আমরা কি নিজেরাই এখন প্রযুক্তির অংশ হয়ে গেছি?”

রায়ানও প্রশ্ন করে, “আমাদের কি সত্যিই ভবিষ্যত তৈরি করার ক্ষমতা আছে, নাকি আমরা শুধুই একটি পরিকল্পিত নিয়তি?”

তাদের ভাবনার অবকাশে ধীরে ধীরে নতুন সভ্যতার রূপ প্রকাশ হতে শুরু করেছে। নেক্সাস তাদের সামনে নতুন মিশন দিয়েছে: “তোমরা যদি এই পৃথিবী গঠন করতে চাও, তবে তোমাদের প্রযুক্তির সত্যিকারের দক্ষতা শিখতে হবে!”

এ সময় তারা দেখে চারপাশে বিশাল স্ক্রিনগুলোর মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোডিং চলছে। এসইও-র নতুন অ্যালগোরিদম বিশ্লেষণ করছে কীভাবে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাদের শেখাচ্ছে, নতুন সভ্যতার নীতিমালা ও নিয়ম কীভাবে গড়ে তুলতে হবে। (চলবে)

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়