প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৬:২৪
টিনের চালের ছিদ্র দিয়ে গড়িয়ে পড়া পানির মধ্যেই চলছে গল্লাক শাখা পোস্ট অফিসের কার্যক্রম

প্রযুক্তির যুগে পোস্ট অফিসের গুরুত্ব কমে আসলেও এখনও সরকারি নিয়োগসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সরকারি পোস্ট অফিসের মাধ্যমেই আসে। এছাড়া সম্প্রতি সরকার কুরিয়ার সার্ভিসের মতো পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পার্সেল সার্ভিস শুরু করেছে। সফলতা আসলে তা হয়তো অদূর ভবিষ্যতে গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়বে। অন্যান্য পোস্ট অফিসের মতো সেই আশায় বুধ বেঁধে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নের গল্লাক বাজার শাখা পোস্ট অফিসটি চালিয়ে নিচ্ছেন পোস্ট মাস্টারসহ এই অফিসের তিনজন কর্মচারী। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে টিনের ছোট্ট চালের এই পোস্ট অফিসটির দুরবস্থা। চলতি বর্ষায় এটির অবস্থা হয়ে গেছে আরো করুণ। বৃষ্টিতে টিনের চালের ফাঁক গলে পড়া পানির মধ্যেই দায়িত্ব পালন করছেন ওই তিনজন কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গল্লাক বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একচালা একটি ঘরে প্রতিদিন পোস্ট অফিসের কাজ করছেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। কিছুক্ষণ আগে হওয়া বৃষ্টির পানি ঘরটির জরাজীর্ণ টিনের চালের ছিদ্র বেয়ে পোস্ট মাস্টার এবং ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্রের ওপর পড়ছে। কিছু কিছু আসবাবপত্র পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখলেও স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ার কারণে সেগুলো নষ্ট হচ্ছে।
শাখা পোস্ট অফিসের পোস্ট মাস্টার (ইডিএ) মায়া রাণী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে পোস্ট অফিসটির জরাজীর্ণ অবস্থা আরো বেড়েছে। এর আগে টিনের চালের উপর আবরণ দিলেও তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ভেতরে পড়ছে। শাখা পোস্ট অফিসগুলোতে সরাকারিভাবে বরাদ্দ আসে না। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজ হিতৈষীরা এগিয়ে আসলে সরকারের এই প্রতিষ্ঠানটি আরো
সুন্দরভাবে চালিয়ে নেয়া সম্ভব। তাছাড়া সরকার পোস্ট অফিসকে আধুনিকায়ন করার কাজ শুরু করছে। তাই আমরা যদি সকলের সহযোগিতায় এই পোস্ট অফিসটি মেরামত করে ধরে রাখতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে এই এলাকার মানুষের জন্যে তা কাজে আসবে। তিনি জানান, প্রতিদিন এখানে আসা ও জমা নেয়া চিঠিপত্র বিলি, রেভিনিউ এবং ডাক টিকেট বিক্রির জন্যে মোট তিন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করছেন।
গল্লাক বাজার শাখা পোস্ট অফিসের তদারকি কর্মকর্তা অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিদর্শক কাঞ্চন সাহা জানান, পোস্ট অফিসের বিশেষ প্রকল্পের মাধ্যমে শাখা অফিসগুলো পরিচালিত হয়। কোনো দানশীল ব্যক্তি বা কোনো প্রতিষ্ঠান যদি তিন শতক জমি পোস্ট অফিসকে দান করেন তাহলে সরকারিভাবে সেই স্থানে ভবন করে দেয়া সম্ভব। বর্তমান অবস্থায় এটির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতাই ভরসা।








