বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪:৫৯

রামগঞ্জে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের বোবাকান্না

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি।।
রামগঞ্জে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের বোবাকান্না

প্রতিনিয়তই বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, কিন্তু বাড়ছে না মানুষের আয়ের উৎস। দিন দিন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ পরিবারগুলো।

সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নিম্নআয়ের মানুষগুলো তাদের কষ্টের কথা অন্যের কাছে শেয়ার করতে পারলেও ছোটখাটো সরকারি চাকরিজীবী, প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে অল্প বেতনে কর্মরত শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর বোবাকান্না দেখার কেউ নেই। লোকলজ্জার ভয়ে মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকলেও তারা কাউকে কিছু বলতে পারছে না।

কোনোভাবে পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্তদের। আর দিশেহারা হয়ে পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষজন। খেটে খাওয়া মানুষ চাল ও আটা কিনতে পারলেও মাছ, মাংস ও কাঁচা শাকসবজি কিনতে পারছে না।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, রামগঞ্জ ও সোনাপুর বাজারে একটি পাইকারি সিন্ডিকেট চক্র রয়েছে; যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে পণ্য সরবরাহে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে লাগামহীনভাবে দাম বৃদ্ধি করে দেয়।

সরেজমিনে রামগঞ্জ এবং সোনাপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে একই পণ্য ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ডিম, ডাল, পেঁয়াজ ও আলুর দাম। রসুনের দাম একেক দোকানে একেক রকম—চায়না ও দেশি রসুন ৯০ টাকা থেকে শুরু করে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, পেঁয়াজ ৬০ টাকা, আলু ২৫ টাকা ও চিনি ১১০ টাকা। বেড়েছে জিরা, গোলমরিচ ও এলাচির দাম। এছাড়াও ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮ পিস ১০০ টাকা (ফার্ম) এবং দেশি প্রতি পিস ডিম ২০ টাকা।

সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে গুঁড়ো দুধ ও শিশুখাদ্যের। ব্র্যান্ডভেদে গুঁড়ো দুধের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা। বায়োমিল দুধ ৪০০ থেকে বেড়ে ৫৫০ টাকা এবং ফাহিমা দুধ ৬০০ থেকে বেড়ে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেড়েছে সাবান এবং ডিটারজেন্ট পাউডারের দাম। গ্যাসের সিলিন্ডার ১৭০০ থেকে ১৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই মূল্যবৃদ্ধি আরও হতে পারে বলে জানিয়েছেন খোদ ব্যবসায়ীরাই।

এছাড়াও কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, শিম ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, টমেটো ১৪০ থেকে ১৭০ টাকা, ফুলকপি ১৫০ টাকা, মূলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, কচুর ছড়া ৭০ টাকা, লাল শাক ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা ও শসা ৮০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা, রুই ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ২৯০ টাকা, ইলিশ ১৬০০ থেকে ২৬০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮৫০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ফার্মের মুরগি কেজিপ্রতি ১৮০ টাকা, কক মুরগি ৩৫০ টাকা ও সোনালী মুরগি ৩৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, ঠিকমতো বাজার মনিটরিং না থাকার কারণে দ্রব্যমূল্য একেক জায়গায় একেক রকম। যদিও মাঝে মাঝে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়, তবে তারা মনে করছেন—ভ্রাম্যমাণ আদালতের এমন অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা জরুরি।

রামগঞ্জ বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী জাকির, আবির, ফারুক ও হোসেনসহ বেশ কয়েকজন জানান, ডিম, গ্যাস ও শিশুখাদ্যের দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে। দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কারণে তাদেরকে প্রতিনিয়ত কাস্টমারদের সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়াতে হয়। দাম বৃদ্ধির কারণে বিক্রি আগের চেয়ে অনেক কমেছে বলেও জানান তারা।

তারা আরও বলেন, "দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির মূল কারণ হচ্ছে সিন্ডিকেট। কৃষকরা যখন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পণ্য উৎপাদন করে মানুষের খাদ্যের জন্য প্রস্তুত করে, তখন কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বাইরে থেকে ওই পণ্যগুলো আমদানি করে। এতে করে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায় না। ফলে তারা হতাশ হয়ে পড়ে এবং কৃষিকাজ বন্ধ করে দেয়। এই সুযোগে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সিন্ডিকেট চক্র দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে দেয়।"

চাকরিজীবী আনোয়ার হোসেন, আবদুর রহিম ও ইউছুপ আলী বলেন, "দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কারণে আমাদের মতো ছোটখাটো চাকরিজীবীদের করুণ দশা। যে টাকা বেতন পাই, তা দিয়ে নিজের কোনো চাহিদা মেটানো তো দূরের কথা, ঠিকভাবে পরিবারের মাসের বাজারও করতে পারি না। যেখানে কখনো ৫ কেজির নিচে চাল কিনি নাই, সেখানে এখন ১ কেজি চালও কিনতে হচ্ছে।"

কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, "আমাদের নির্দিষ্ট বেতন দিয়েই চলতে হয়, বলতে পারেন মাপা টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজারদরে পণ্যসামগ্রী কিনতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। কাউকে তো কিছু বলতেও পারি না।"

রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী আতিকুর রহমান বলেন, "কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা নিয়মিতই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আসছি। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়