প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১২:৪৪
রামগঞ্জ শহরে সড়ক সংস্কারের ধীর গতিতে জনদুর্ভোগ চরমে

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক সড়ক সোনাপুর ফায়ার সার্ভিস থেকে রামগঞ্জ শিশু পার্ক পর্যন্ত মাত্র এক কিলোমিটার সড়কে শত শত গর্ত সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে । দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া ও টানা বৃষ্টির কারণে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান । এই পরিস্থিতিতে সংস্কার কাজ শুরু হলেও তা ধীরগতিতে হওয়ায় দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়ে পড়েছে।
|আরো খবর
স্থানীয়রা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে যান চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক সময়ে সংস্কার কাজ শুরু না হওয়ায় এবং বৃষ্টিতে সংস্কার কাজ চালু হওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফলতির কারণে সংস্কার কাজটিতে বর্তমানে লেজেগোবরে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
অথচ এই সড়ক দিয়েই রামগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ মানুষকে হাসপাতাল, ব্যাংক, স্কুল কলেজে যেতে হয়।
বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ছোট বড় ও ভারী যানবাহনের পাশাপাশি অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ও ভ্যানচালকরা বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে যাতায়াত করছে। সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স চালকরা। বিকল্প সড়ক ব্যবহারের ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে চরম আকারে।
সড়কটির পাশে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ, রামগঞ্জ রাব্বানিয়া কামিল মাদ্রাসা, রামগঞ্জ মডেল কলেজ, রামগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ ৬-৭ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৬ থেকে ৭ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। এছাড়া এ সড়কে চলাচলরত সাধারণ মানুষ পড়েছে চরম বিপাকে।
লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের এসিট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার (ওয়ার্ক) মো. সাবের হোসেন জানান, ৮ কিলোমিটার সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার সংস্কার কাজ আমরা দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি। সড়কটি অনেক বেশি ব্যস্ততম হওয়ায় আমাদের অনেক চাপও সহ্য করতে হচ্ছে।
রামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আমির হোসেন জানান, ঠিকাদার সংকটের কারণে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা যায়নি। সড়কের একটি অংশ ৯১২ মিটার (বাজার অংশের প্রায় এক কিলোমিটার) কাজ দ্রুত গতিতে চলমান রয়েছে। সড়কটি অনেক বেশি ব্যস্ত হওয়ার কারণে কাজ করতে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। এছাড়া টানা বৃষ্টির জন্য কাজের গতি স্লো হওয়ার অন্যতম কারণ। তবে আশা করছি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কাজটি শেষ হবে। পর্যায়ক্রমে সাড়ে আট কিলোমিটার সড়কের পুরোটা সংস্কার করা হবে।








