প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:১৩
দোকানে চুরিতে দিশেহারা খুদে দোকানি আরিফ

হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্রীপুর গ্রামের পঞ্চায়েত বাড়ির সামনের একটি স্টেশনারি দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। রাতের আঁধারে দোকানের টিনের চাল কেটে নগদ টাকা ও মালপত্রসহ প্রায় ৭০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে চোরের দল। এই আকস্মিক চুরিতে এখন দিশেহারা খুদে দোকানি মোহাম্মদ উল্যাহ আরিফ।
ক্ষতিগ্রস্ত আরিফ স্থানীয় সর্দার বাড়ির তরিক উল্যার ছেলে। দুই সন্তান, বাবা-মা ও স্ত্রীকে নিয়ে তার এই ছোট দোকানের আয়েই কোনোমতে সংসার চলতো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এনজিও থেকে লোন নিয়ে এবং শ্বশুরবাড়ি, ভায়রা ভাই ও দোকানভিটির মালিকের কাছ থেকে ধার-দেনা করে প্রায় বছরখানেক আগে এই স্টেশনারি দোকানটি চালু করেন আরিফ। কিন্তু এক রাতের এই চুরির ঘটনা তাকে পুরোপুরি পথে বসিয়ে দিয়েছে।
দোকানি মোহাম্মদ উল্যাহ আরিফ জানান, রোববার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) রাত ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়ি যান। সোমবার ভোরে পাশের দোকানি জামাল ও জাকির ফোন করে তাকে দ্রুত দোকানে আসতে বলেন। তারা জানান, তার দোকানের টিনের চাল কাটা হয়েছে।
খবর পেয়ে দ্রুত দোকানে এসে শাটার খুলে আরিফ দেখেন, চালের টিন কাটা এবং দোকানের ভেতরে সব এলোমেলো। হিসাব করে দেখা যায়, চোরের দল ২৫ হাজার টাকার বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেট, মঙ্গলবারের কিস্তির জন্য জমিয়ে রাখা ২৯ হাজার টাকা এবং পারিবারিক সমিতির ১৫ হাজার টাকাসহ মোট প্রায় ৬৯ হাজার টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ নিয়ে গেছে।
আরিফের ধারণা, চোরেরা বিষয়টি আগে থেকেই জানতো, কারণ সুনির্দিষ্টভাবেই টাকার উৎসস্থলগুলো থেকেই নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আরিফ আরও বলেন, "এনজিও থেকে ৪ লাখ টাকা, শ্বশুর ও ভায়রা ভাইয়ের কাছ থেকে দেড় লাখ এবং দোকানের মালিক থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছি। পাওনাদারদের কাউকে এখনো টাকা পরিশোধ করতে পারিনি। এর মধ্যে এই চুরি আমার সবকিছু শেষ করে দিলো।"
পাশের দোকানের ব্যবসায়ী জাকির ও জামাল জানান, ভোরে দোকান খুলতে এসে তারা দেখতে পান দোকানের সামনের লম্বা টেবিলটি নেই। খুঁজতে খুঁজতে দোকানের পেছনে গিয়ে তারা দেখেন, টেবিলটি আরিফের দোকানের পেছনের দেয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে রাখা। ভালোভাবে খেয়াল করতেই আরিফের দোকানের চাল কাটা দেখতে পান তারা।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিলন জানান, দোকানে চুরির এই মর্মান্তিক ঘটনাটি তিনি শুনেছেন।








