বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩৪

পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে অনৈতিক কাজের অভিযোগ

পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ ভুক্তভোগীর

স্টাফ রিপোর্টার
পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে অনৈতিক কাজের অভিযোগ

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দায়েরকৃত মামলা নিয়ে অনৈতিক কাজের অভিযোগে ফরিদগঞ্জ থানার এএসআই (বর্তমানে মতলব উত্তর থানায় বদলিকৃত) মোহাম্মদ আলীর (বিপি নং-৮৪০৪০৬৯৮৮৫) বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, দায়িত্ব অবহেলা এবং প্রশাসনিক অনিয়মের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্যে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে মো. হোসেন তালুকদার এই অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে প্রকাশ, গত ২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর জমি সংক্রান্ত ও হাঁটা-চলার রাস্তার বিরোধ নিয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের উত্তর শোভান গ্রামের মোহাম্মদ হোসেন তালুকদার বাদী হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানার তৎকালীন ওসি বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন এএসআই মোহাম্মদ আলীকে। পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন এবং বাদী পক্ষকে অভিযোগের বিষয় সমাধান করে দেয়ার আশ্বাস দেন।

এর পরে চলতি বছরের গত ২৮ জানুয়ারি প্রথম বিবাদী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে পাল্টা একটি মিথ্যা ও সাজানো পাল্টা অভিযোগ করে থানায়। ওই অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব পান একই কর্মকর্তা এএসআই মোহাম্মদ আলী। উভয় অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কর্মকর্তা উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে উভয়ের সালিস করে এবং স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলমকে দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে মেম্বারসহ গণ্যমান্যরা স্থানীয়ভাবে দুবার বৈঠক করেছেন, মাপ জরিপও সম্পন্ন হয়। কিন্তু সালিস চলমান থাকাবস্থায় আমাদের অভিযোগটি গোপন করে উল্টো অনৈতিক সুবিধা নিয়ে দ্বিতীয় পক্ষের কাউন্টার অভিযোগটিকে আমাদেরকে এবং সালিসকারীদের না জানিয়েই তিনি আদালতে পাঠিয়ে দেন। যা অনৈতিক এবং পক্ষপাতদুষ্ট। অভিযোগ রয়েছে অর্থের বিনিময়ে এই কাজ তিনি করেছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়াছিন জানান, মোহাম্মদ হোসেন তালুকদার ও জাহাঙ্গীরদের বিরোধের ঘটনায় বর্তমানে সালিস চলমান, তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এক পক্ষের রিপোর্ট কোর্টে পাঠিয়েছেন, তা আমরা অবগত না।

গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম শেখ জানান, মোহাম্মদ হোসেন তালুকদার ও জাহাঙ্গীরদের বিরোধের ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী থানায় উভয়কে ডেকে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য আমাকে দায়িত্ব দেন। আমি ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্যরা সার্ভেয়ার এনে উভয়ের সমস্যা সমাধানের জন্য দুবার বৈঠক করি। বর্তমানে সালিস চলমান। তবে সমাধান শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে দ্বিতীয় পক্ষের অভিযোগ এএসআই কোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছে, তা আমরা কিছুই জানি না। এ বিষয়ে একজন আইনজীবী জানান, সাধারণত কোনো সমস্যা হলে মানুষ থানায় অভিযোগ করে। পুলিশ উক্ত অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে দেখে। কিন্তু একটি পক্ষের অভিযোগ সম্পূর্ণ গোপন রেখে অপর পক্ষের কাউন্টার মামলা আদালতে পাঠানো স্পষ্টতই ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আইনের লঙ্ঘন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এএসআই মোহাম্মদ আলী সাংবাদিকদের জানান, আমি দু মাস আগে রিপোর্ট দিয়ে দিছি, বর্তমানে মতলবে আছি।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়